প্রিয়বন্ধু মিডিয়া রিপোর্ট-বাংলায় বিপুল ভোটে ক্ষমতাচ্যুত হওয়ার পর এবার নিজের দলের অন্দরেই নজিরবিহীন ভাঙনের মুখে পড়েছে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের দল। এই চরম রাজনৈতিক সংকটের মাঝেই এবার দলের বিদ্রোহী সাংসদদের সরাসরি খোলা চ্যালেঞ্জ ছুড়লেন তৃণমূলের লোকসভার মুখ্য সচেতক কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায় এবং সাংসদ কীর্তি আজাদ। মঙ্গলবার দিল্লিতে এক জরুরি সাংবাদিক বৈঠক ডেকে তাঁরা বিদ্রোহীদের উদ্দেশে সাফ জানান, যদি ক্ষমতা থাকে তবে তৃণমূলের ‘জোড়াফুল’ প্রতীক এবং লেবেল ব্যবহার করা অবিলম্বে বন্ধ করুন।
দিল্লির প্রেস কনফারেন্সে ক্ষোভ উগরে দিয়ে কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায় দাবি করেন, তৃণমূলের টিকিট এবং দলনেত্রীর নামের ওপর ভর করেই এই সাংসদেরা ভোটে জিতেছেন। বিদ্রোহী শিবিরের উদ্দেশে চ্যালেঞ্জ ছুড়ে তিনি বলেন, “যদি আপনাদের এতই ক্ষমতা থাকে, তবে তৃণমূলের প্রতীক ও লেবেল ব্যবহার করা বন্ধ করুন। দল ছেড়ে বেরিয়ে যান এবং সাহস থাকলে বিজেপির টিকিটে লড়াই করে জিতে দেখান। তারপর বাংলার মানুষ বিচার করবে কার কত ক্ষমতা।” রাজনৈতিক মহলের মতে, দলের ২০-২২ জন সাংসদ একসঙ্গে বিদ্রোহ ঘোষণা করায় মমতা শিবিরের পায়ের তলা থেকে মাটি যে সম্পূর্ণ সরে গিয়েছে, এই মরিয়া চ্যালেঞ্জ আসলে তারই প্রমাণ।
তৃণমূলের এই খোলা চ্যালেঞ্জকে তীব্র কটাক্ষ করেছে রাজনৈতিক মহল ও বিরোধী শিবির। ওয়াকিবহাল মহলের মতে, যে দল খোদ বাংলাতেই জনগণের ভোটে প্রত্যাখ্যাত হয়ে বিরোধী আসনে বসেছে, তাদের মুখে এই ধরনের অহংকারী মন্তব্য মানায় না। বিজেপির রাজ্য নেতৃত্বের পাল্টা দাবি, তৃণমূলের সাংসদেরা আজ দলের স্বৈরাচারী মনোভাব এবং পিসি-ভাইপোর একনায়কতন্ত্রের বিরুদ্ধে আওয়াজ তুলছেন। নিজেদের ঘরের ক্ষোভ সামাল দিতে না পেরে এখন তাঁরা বিদ্রোহীদের দল ছাড়ার নিদান দিচ্ছেন, যা আসলে রাজনৈতিক দেউলিয়াপনারই লক্ষণ।
কাকলি ঘোষ দস্তিদারের মতো প্রবীণ ও হেভিওয়েট নেতারা যখনই লোকসভার স্পিকারের কাছে আলাদা গোষ্ঠী গঠনের দাবি জানিয়েছেন, তখনই লোকসভাতেও তৃণমূলের প্রধান বিরোধী দলের তকমা হারানোর পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে। দিল্লিতে কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায় ও কীর্তি আজাদের এই তড়িঘড়ি প্রেস কনফারেন্স আসলে বাকি সাংসদদের ভয় দেখানোর এবং দল ভাঙন আটকানোর একটা মরিয়া চেষ্টা মাত্র। কিন্তু রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, এই ধরণের হুমকি ও অহংকারী চ্যালেঞ্জে হিতে বিপরীত হতে পারে এবং তৃণমূলের অন্দরের ক্ষোভের আগুন আরও দাবানলের মতো ছড়িয়ে পড়তে পারে।
বিজেপির স্পষ্ট বক্তব্য, তৃণমূলের শেষের সেদিন আর বেশি দূরে নেই। রাজ্যে ক্ষমতা হারানোর পর এবার দিল্লিতেও তাদের সংসদীয় দল তাসের ঘরের মতো ভেঙে পড়তে চলেছে। আর সেই ভয়েই হিতাহিত জ্ঞান হারিয়ে এখন প্রকাশ্যেই বিদায়ী সুর গাইছেন মমতার দূতেরা।