প্রিয়বন্ধু মিডিয়া রিপোর্ট-রাজনীতি কি কর্পোরেট অফিস, নাকি গণ-আন্দোলনের মঞ্চ? ভোটের ময়দানে চরম বিপর্যয়ের পর আজ এই মোক্ষম প্রশ্নটাই ছুড়ে দিলেন শ্রীরামপুরের প্রবীণ সাংসদ কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায়। তবে এবার আর কোনো ইশারা-ইঙ্গিত নয়, সরাসরি নিশানা করলেন অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের মূল ক্ষমতার ভরকেন্দ্র— ক্যামাক স্ট্রিটের অফিসকে! ক্ষমতা হাতছাড়া হওয়ার পর যখন আত্মানুসন্ধানের পথে হাঁটার কথা, তখন দলের প্রবীণ ও ঝানু আইনজ্ঞের এমন ক্ষোভ প্রকাশ স্পষ্ট করে দিচ্ছে যে, দলটার অন্দরে এখন একনায়কতন্ত্রের বিরুদ্ধে বিদ্রোহের আগুন জ্বলছে।

আজ সংবাদমাধ্যমের মুখোমুখি হয়ে নিজের স্বাধিকার এবং আত্মসম্মানের প্রশ্নে এক ইঞ্চি জমিও ছাড়েননি এই প্রবীণ নেতা। সাফ এবং চড়া গলায় তিনি জানিয়ে দিয়েছেন, তিনি কোনো দিন কারও করুণার পাত্র ছিলেন না এবং ভবিষ্যতেও থাকবেন না।ক্যামাক স্ট্রিটের কর্পোরেট সংস্কৃতিকে তুলোধোনা করে কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায় আজ স্পষ্ট ভাষায় বলেছেন— “অভিষেক মনে করে সবাই তার নিচে, সবাই যেন ক্যামাক স্ট্রিটের কর্মচারী!” তিনি অত্যন্ত কড়া সুরে মনে করিয়ে দিয়েছেন, তিনি একজন ৪৫ বছরের সফল আইনজীবী এবং চার দশকের প্রবীণ সাংসদ; কারও অফিসের মাইনে করা চাকর নন!

রাজনৈতিক মহলের একটা বড় অংশ মনে করছে, কল্যাণবাবুর এই একটা বাক্যেই স্পষ্ট হয়ে গেল যে, কেন আজ এই দলটির এমন শোচনীয় পতন হলো। মাটির রাজনীতি ছেড়ে যখন একটা দল শীতাতপ নিয়ন্ত্রিত কর্পোরেট ঘর থেকে চালিত হতে শুরু করে, তখন পুরনো লড়াকু সৈনিকদের আত্মসম্মানে আঘাত লাগাটাই স্বাভাবিক। কল্যাণ আজ বুঝিয়ে দিয়েছেন, দলের প্রবীণরা মমতাদির আদর্শ দেখে এসেছিলেন, কোনো যুবনেতার হুকুম তামিল করতে বা তাঁর ক্যাডারদের ধমক শুনতে নয়। ক্ষমতা চলে যাওয়ার পর এখন আর কেউ সেই স্বৈরাচারী মানসিকতা মুখ বুজে সহ্য করতে রাজি নন, কল্যাণের আজকের এই রুখে দাঁড়ানো তারই প্রমাণ।

এই ক্ষোভ কেবল শ্রীরামপুরের সাংসদের একার নয়, বরং দলের অন্দরে ধিকিধিকি জ্বলতে থাকা এক বিশাল বারুদের স্তূপ। রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, যুবনেতার ‘সবাইকে কর্মচারী ভাবার’ এই দেউলিয়া মানসিকতাই আজ দলটিকে এই খাদের কিনারায় এনে দাঁড় করিয়েছে।

কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায় আজ পরিষ্কার করে দিয়েছেন যে, তিনি নিজের মেরুদণ্ড কোনো কর্পোরেট অফিসের টেবিলে বন্ধক রাখেননি। ক্ষমতা হারানোর পর এই ‘ক্যামাক স্ট্রিট বনাম কালীঘাটের’ গৃহযুদ্ধ এখন কোন দিকে মোড় নেয়, সেটাই দেখার। ভাইপোকে বাঁচাতে গিয়ে দিদি কি তবে তাঁর শেষ বিশ্বস্ত দুর্গটাকেও ভেঙে পড়তে দেবেন? জবাব দেবে সময়। নজর রাখুন আমাদের পোর্টালে।