প্রিয়বন্ধু মিডিয়া রিপোর্ট-রাজ্যের আইএএস (IAS), আইপিএস (IPS) এবং উচ্চপদস্থ পুলিশ আধিকারিকদের প্রকাশ্য মঞ্চ থেকে সরাসরি জেলে পুরে দেওয়ার এক নজিরবিহীন ও মারাত্মক হুঁশিয়ারি দিলেন তৃণমূল কংগ্রেসের প্রবীণ সাংসদ তথা প্রখ্যাত আইনজীবী কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায়। পুলিশ কর্তাদের উদ্দেশ্য করে তাঁর এই চরম হুমকিকে কেন্দ্র করে প্রশাসনিক অলিন্দে ও রাজ্য রাজনীতিতে তীব্র শোরগোল পড়ে গিয়েছে। পুলিশের পক্ষপাতিত্ব এবং মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর নির্দেশ মতো কাজ করার গুরুতর অভিযোগ তুলে কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায় সরাসরি চড়া সুরে আক্রমণ শানিয়েছেন।
এদিন বক্তব্য রাখার সময় কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায় পুলিশের পেশ করা হলফনামা বা এফিডেভিট নিয়ে মারাত্মক অভিযোগ তোলেন। তিনি দাবি করেন, রাজ্যের বর্তমান বিজেপি সরকারের রাজনৈতিক শীর্ষনেতৃত্ব তথা শুভেন্দু অধিকারীর নির্দেশ মেনে একদল পুলিশ অফিসার সম্পূর্ণ বেআইনিভাবে কাজ করছেন। কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায়ের বিস্ফোরক দাবি, “মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর নির্দেশ মতো পুলিশের একাংশ এবং উচ্চপদস্থ অফিসারেরা নিজেদের দলের কর্মীদের চাপ দিয়ে সাদা স্ট্যাম্প পেপারে জোরপূর্বক সই করাচ্ছেন। এরপর সেই সই করা স্ট্যাম্প পেপার ব্যবহার করে আদালতে মিথ্যে হলফনামা (Affidavit) জমা দেওয়া হচ্ছে।” এর পরই সরাসরি হুঁশিয়ারি দিয়ে তিনি বলেন, “এফিডেভিটের কী অবস্থা করব এবার দেখে নেবেন! আইন অনুযায়ী কাজ না করলে কাউকেই রেয়াত করা হবে না।”
নিজের আইনজীবী জীবনের ট্র্যাক রেকর্ড মনে করিয়ে দিয়ে পুলিশ প্রশাসনকে চরম বার্তা দিয়েছেন কল্যাণবাবু। তিনি স্পষ্ট জানান, যদি পুলিশ আধিকারিকেরা রাজনৈতিক উদ্দেশ্যে সাধারণ মানুষকে হেনস্থা করেন বা আদালতের সামনে অসত্য তথ্য পেশ করেন, তবে আইনি পথেই তাঁদের কঠিন শাস্তি দেওয়া হবে। তিনি হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন, “পুলিশ যদি নিজের সাংবিধানিক দায়িত্ব পালন না করে এবং আইন লঙ্ঘন করে কাজ করে, তবে আমি সরাসরি আদালত অবমাননার মামলা দায়ের করব। আমার পূর্বের রেকর্ড মনে রাখবেন, অতীতেও আমি দু’জন আইপিএস অফিসারকে (IPS Officers) জেলের ভাত খাইয়েছি! এবারও যারা আইন ভেঙে বিরোধীদের কথায় মিথ্যে এফিডেভিট তৈরি করছেন, সেই সমস্ত আইএএস এবং আইপিএস অফিসারদের আমি সরাসরি জেলে ঢুকিয়ে ছাড়ব।”
পশ্চিমবঙ্গে বিজেপি সরকার ক্ষমতায় আসার পর থেকেই পুলিশ প্রশাসনের একাংশের রদবদল এবং বিরোধী শিবিরের সঙ্গে শাসক দলের সংঘাত নিত্যদিনের বিষয় হয়ে দাঁড়িয়েছে। এমন পরিস্থিতিতে তৃণমূলের এই হেভিওয়েট আইনজীবী-সাংসদের প্রকাশ্য হুমকি রাজ্যের আইনি ও প্রশাসনিক লড়াইকে এক নতুন মাত্রায় নিয়ে গেল বলে মনে করছে রাজনৈতিক বিশেষজ্ঞ মহল। ইতিমধ্যেই কল্যাণের এই মন্তব্যের বিরুদ্ধে সরব হতে শুরু করেছে বিজেপি নেতৃত্ব।