প্রিয়বন্ধু মিডিয়া রিপোর্ট-গতকাল পানিহাটির সভা থেকে ফের একবার সেই স্মৃতি উসকে দিলেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। ২০২১-এর নির্বাচনের পরবর্তী সেই দিনগুলোর কথা আজও ভোলেনি বাংলা। বিশেষ করে ব্যারাকপুর শিল্পাঞ্চল যখন কার্যত রণক্ষেত্র, চারিদিকে সাধারণ মানুষের হাহাকার আর ঘরবাড়ি তছনছ হওয়ার খবর আসছিল, ঠিক তখনই এক অভাবনীয় পরিস্থিতির সাক্ষী হয়েছিলেন তৃণমূল নেত্রী। সম্প্রতি পানিহাটির জনসভা থেকে সেই অগ্নিগর্ভ সময়ের এক চাঞ্চল্যকর অধ্যায় প্রকাশ্যে আনলেন তিনি, যা রাজনৈতিক মহলে নতুন করে শোরগোল ফেলে দিয়েছে।
মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের বয়ান অনুযায়ী, ২০২১-এর জয়ের পর একদল উন্মত্ত বাহিনী এলাকায় এলাকায় তাণ্ডব শুরু করেছিল। রাতারাতি ঘরবাড়ি জ্বালিয়ে দেওয়া থেকে শুরু করে এলাকা দখলের লড়াইয়ে তখন কাঁপছে ব্যারাকপুর, বীজপুর, জগদ্দল এবং কাঁচরাপাড়া। সেই খবর পেয়েই আর স্থির থাকতে পারেননি নেত্রী। ঘরবাড়ি জ্বালানোর খবর পেয়ে তিনি সরাসরি পৌঁছে গিয়েছিলেন রণক্ষেত্রে। কিন্তু সেখানে পা রাখা মাত্রই তাঁকে ঘিরে ধরেছিল এক চরম প্রতিকূল ও অশ্রাব্য পরিস্থিতি।তাঁর দাবি অনুযায়ী, চারিদিকে তখন ধ্বংসলীলা চলছে, আর তাঁকে লক্ষ্য করে ধেয়ে আসছিল একের পর এক অশালীন শব্দ ও অকথ্য গালিগালাজ। যারা স্লোগান দিচ্ছিল, তারাই আবার মেতেছিল ধ্বংসলীলায়। কিন্তু সেই চরম উত্তেজনার মুহূর্তেও পাল্টা কোনো কড়া ভাষা নয়, বরং সবাইকে চমকে দিয়ে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় শান্ত অথচ দৃঢ় গলায় উচ্চারণ করেছিলেন কেবল দুটি শব্দ— ‘জয় বাংলা’। তিনি জানান, সেই সময় গালিগালাজের মুখে দাঁড়িয়েও তিনি মাথা নত করেননি, বরং এই স্লোগান দিয়েই নিজের প্রতিবাদ জানিয়েছিলেন।
রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের বিস্ফোরক ধারণা—তবে কি লক্ষ্য ছিলেন অর্জুন সিং? কিন্তু কেন সেই রণংদেহি পরিস্থিতিতেও তিনি এই স্লোগানটি বেছে নিয়েছিলেন? এই ঘটনার ব্যাখ্যা খুঁজতে গিয়ে রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের একাংশ এক চাঞ্চল্যকর দাবি করছেন। তাঁদের মতে, মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় সেদিন পরোক্ষভাবে এক ‘গুন্ডার’ কথা উল্লেখ করেছিলেন যার দাপটে এলাকা ছারখার হচ্ছিল।
বিশ্লেষকদের প্রশ্ন, তবে কি মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় সেদিন আকার-ইঙ্গিতে বিজেপি নেতা অর্জুন সিং-কেই বিঁধতে চেয়েছিলেন? সেই সময় ব্যারাকপুরের গড় বলে পরিচিত এলাকায় রাশ ছিল অর্জুন সিং-এর হাতেই। ফলে নেত্রীর সেই ‘জয় বাংলা’ স্লোগান কি আসলে অর্জুন সিং-এর গড়ে ঢুকে নিজের অস্তিত্ব জানান দেওয়ার একটি সুকৌশলী চাল ছিল? নাকি অশান্ত বাহিনীকে শান্ত করার কোনো গূঢ় রহস্য লুকিয়ে ছিল এর পেছনে?
গতকাল পানিহাটির সভা থেকে মমতার এই বয়ান সামনে আসার পর ফের একবার ২০২১-এর ভোট পরবর্তী পরিস্থিতি নিয়ে সরগরম হয়ে উঠেছে বাংলার রাজনীতি। ব্যারাকপুর আর কাঁচরাপাড়ার মানুষের কান্নার মাঝে মমতার সেই আচরণের নেপথ্যে থাকা আসল সত্য নিয়ে এখন তোলপাড় শুরু হয়েছে রাজ্য রাজনীতিতে।