প্রিয়বন্ধু মিডিয়া রিপোর্ট-রাজনীতির ময়দানে ‘অর্জুন’ আর ‘কৃষ্ণ’ যদি একসাথে রথে চড়েন, তবে প্রতিপক্ষের কপালে চিন্তার ভাঁজ পড়া স্বাভাবিক। আজ খড়গপুর দেখল ঠিক সেই দৃশ্য। দীর্ঘ জল্পনা, তৃণমূলের সাজানো ‘দ্বন্দ্ব’ তত্ত্ব এবং রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের একাংশের কুৎসা ধুয়ে মুছে সাফ হয়ে গেল খড়গপুরের রাজপথে। আজ খড়গপুর সদর বিধানসভা কেন্দ্রের মনোনয়ন পেশ করতে গিয়ে বঙ্গ-বিজেপির দুই মহীরুহ— দিলীপ ঘোষ এবং শুভেন্দু অধিকারী বুঝিয়ে দিলেন, ‘লক্ষ্য যখন পশ্চিমবঙ্গ দখল, তখন টিম বিজেপি এক ও অভিন্ন।’

গত কয়েক মাস ধরে তৃণমূল কংগ্রেস এবং তাদের ঘনিষ্ঠ মহলের পক্ষ থেকে বারবার প্রচার করা হয়েছে যে, মেদিনীপুরের ঘরের ছেলে দিলীপ ঘোষের সঙ্গে বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারীর সম্পর্কের অবনতি হয়েছে। তৃণমূলের মুখপাত্ররা বারবার দাবি করেছিলেন, বিজেপির অন্দরে ফাটল ধরেছে। কিন্তু আজ খড়গপুরের বিশাল শোভাযাত্রা সেই সমস্ত মিথ্যে অপপ্রচারকে কার্যত ডাস্টবিনে ছুঁড়ে ফেলে দিল। কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে যখন দুই নেতা মিছিল শুরু করলেন, তখন কর্মীদের উচ্ছ্বাসই বলে দিচ্ছিল— বিজেপি এবার আগের চেয়েও অনেক বেশি শক্তিশালী এবং সংবদ্ধ।

২০১৬ সালে এই খড়গপুর থেকেই দিলীপ ঘোষ তাঁর সংসদীয় রাজনীতির জয়যাত্রা শুরু করেছিলেন। আজ ফের সেই পুরনো দুর্গে দাঁড়িয়ে দিলীপ ঘোষের ঘনিষ্ঠ মহল হুঙ্কার দিয়েছে, “তৃণমূল ভয় পেয়েছে বলেই বিভাজন খোঁজার চেষ্টা করছে। আজ সকলে একসাথে হাঁটছে, কারণ লক্ষ্য একটাই— এই পিসি-ভাইপোর কুশাসন থেকে বাংলাকে মুক্ত করা।” বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারীর ঘনিষ্ঠ মহলের দাবি, “দিলীপ ঘোষ লড়াকু নেতা, খড়গপুরের ভূমিপুত্র। তাঁকে জেতানো মানেই বিধানসভায় তৃণমূলের পতনের কাউন্টডাউন শুরু হওয়া। আমাদের মধ্যে যারা বিভেদ খোঁজে, তারা আসলে বিজেপির ক্রমবর্ধমান জনপ্রিয়তা দেখে আতঙ্কে কাঁপছে।”

আজকের এই মিছিলে শুধুমাত্র বাংলার দুই মহাতারকাই ছিলেন না, কেন্দ্রীয় নেতৃত্বের প্রতিনিধি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন দিল্লির মুখ্যমন্ত্রী রেখা গুপ্তাও। যা প্রমাণ করে, খড়গপুরের এই লড়াইকে দিল্লি কতটা গুরুত্ব দিচ্ছে। কেন্দ্রীয় ও রাজ্য নেতৃত্বের এই মেলবন্ধন বুঝিয়ে দিচ্ছে যে, ২০২৬-এর নীল বাড়ির লড়াইয়ের আগে বিজেপি কোনো ফাঁক রাখতে চাইছে না।

রাজনৈতিক মহলের মতে, খড়গপুরের এই ছবি আসলে ২০২৬-এর বিধানসভা নির্বাচনের ট্রেলার। তৃণমূল যত বেশি ‘দ্বন্দ্ব’ এবং ‘কোন্দল’-এর তকমা দিতে চাইবে, বিজেপি তত বেশি জনতাকে সঙ্গে নিয়ে রাস্তায় নামবে। রাম মন্দির থেকে গোলবাজার— গেরুয়া আবিরে ঢাকা খড়গপুরের প্রতিটি গলি আজ সাক্ষী থাকল এক ঐতিহাসিক সংহতির।প্রতিবেদন শেষে একটাই কথা স্পষ্ট— তৃণমূলের সাজানো চিত্রনাট্য ব্যর্থ করে ‘দিলীপ-শুভেন্দু’ জুটি এখন বঙ্গ রাজনীতির ফ্রন্টফুটেই খেলছে। আর এই সংঘবদ্ধ রূপই বিজেপিকে আগামী দিনে পশ্চিমবঙ্গের ক্ষমতায় বসানোর রাস্তা প্রশস্ত করছে।