প্রিয়বন্ধু মিডিয়া রিপোর্ট- গণতন্ত্রের সবকটি স্তম্ভকেই ভেঙে ফেলার চেষ্টা করেছেন এই রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। এমনকি চোখে চোখ রেখে কথা বলা প্রতিবাদী সাংবাদিকদের কন্ঠ রোধ করতেও তিনি দুবার ভাবেননি। কখনও ইউটিউবারদের বাড়িতে পুলিশ পাঠিয়ে দিয়ে তাদের কণ্ঠরোধ করা, আবার কখনও বা কোনো সংবাদমাধ্যমের সাংবাদিক যদি সত্য খবর তুলে ধরেন, তাহলে পুলিশ দিয়ে তাকে একদম সেই জায়গা থেকে গ্রেপ্তার করে নিয়ে আসা, এই রাজ্যের গণতন্ত্রকে প্রশ্নের মুখে ফেলে দিয়েছিলো। সেই রকমই একজন সাংবাদিক ছিলেন সন্তু পান। পুলিশ তাকে গ্রেফতার করে মুখ বন্ধ করে রাখার চেষ্টা করলেও, তিনি আবার কাজে ফিরে নিজের একই অবস্থান বজায় রেখেছিলেন। প্রমাণ করে দিয়েছিলেন, কোনো ভয়ের কাছে তিনি মাথা নত করবেন না। তবে আজ বিজেপির যে পরিবর্তন যাত্রা অনুষ্ঠিত হলো, যেখানে রায়দীঘিতে এই কর্মসূচিতে উপস্থিত ছিলেন বিজেপির সর্বভারতীয় চাণক্য তথা কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ, সেই সভাতেই দেখা গেল এক বিরাট চমক। যেখানে অমিত শাহের হাত থেকেই সাংবাদিকতার পাঠ শেষ করে রাজনীতির ময়দানে যুক্ত হলেন প্রতিবাদী সাংবাদিক সন্তু পান।
যে যাই বলুন না কেন যে, রাজ্যে এবার বিজেপি ক্ষমতায় আসতে পারবে না, তারা যে মূর্খের স্বর্গে বাস করছেন, তা ভোটের নির্ঘণ্ট ঘোষণা হওয়ার আগেই বিজেপির জেলায় জেলায় যে পরিবর্তন যাত্রা হচ্ছে, তা দেখেই স্পষ্ট হয়ে যাচ্ছে। জনতার মনের মধ্যে কি চলছে, তা বিজেপি নেতারা খুব ভালো মতই বুঝতে পারছেন। তাই প্রতিবাদী সাংবাদিকরাও একেবারে সামনে থেকে লড়াই করতে বিজেপির সঙ্গে যুক্ত হতে বিন্দুমাত্র কুণ্ঠাবোধ করছেন না। আর তারই চূড়ান্ত নিদর্শন দেখা গেল আজ রিপাবলিক বাংলার সাংবাদিক সন্তু পানের বিজেপিতে যোগদানের মধ্যে দিয়ে। যেখানে রায়দিঘিতে অমিত শাহের হাত থেকে ভারতীয় জনতা পার্টির পতাকা তুলে নিলেন তিনি।
এতদিন বিভিন্ন মহলে একটা জল্পনা চলছিল যে, সমাজের অনেক বিশিষ্ট ব্যক্তিদের বিজেপি এবারের নির্বাচনে প্রার্থী করতে পারে। সেক্ষেত্রে এই সন্তু পানের নাম নিয়েও একটা চর্চা শুরু হয়েছিল। কিন্তু আজ সেই সমস্ত সংশয় দূর করে দিলেন সন্তু পান নিজেই। একেবারেই ২৬ এর চূড়ান্ত লড়াইটা লড়ার জন্য সামনে থেকে তৃণমূলের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ করতে এবার সাংবাদিকতার পেশা ছেড়ে রাজনীতিতে যুক্ত হলেন তিনি। ভারতীয় জনতা পার্টির পতাকা হাতে তুলে নিয়ে তৃণমূলের বিরুদ্ধে একেবারে সম্মুখ সমরে লড়াই করার জন্য সন্তু পান যে রাস্তা বেছে নিলেন, তাকে স্যালুট জানাচ্ছেন রাজ্যের গণতন্ত্রপ্রেমী প্রতিবাদী মানুষরা। তবে যে জল্পনা চলছিল, তাকে নিয়ে শেষ পর্যন্ত বিজেপির প্রার্থী তালিকায় সেই সন্তু পানের নাম থাকে কিনা, সেদিকেই নজর থাকবে গোটা রাজনৈতিক মহলের।