প্রিয়বন্ধু মিডিয়া রিপোর্ট-
আজ গোটা দেশের নজর ছিল সুপ্রিম কোর্টের দিকে। ইতিমধ্যেই সেখানে ইডির পক্ষ থেকে যে মামলা হয়েছে, সেই মামলার শুনানি শুরু হয়েছে। আর মামলার শুনানির একদম শুরুতেই উঠে আসে সম্প্রতি হাইকোর্টে শুনানির প্রসঙ্গ। যেখানে হাইকোর্টে শুনানির দিন যে বিশৃঙ্খলা তৈরি হয় এবং তারপর যেভাবে বিচারপতি সেই শুনানি পিছিয়ে দেওয়ার কথা বলেন, সেই প্রসঙ্গ সুপ্রিম কোর্টে উঠে আসতেই রীতিমত তাজ্জব বনে যান শীর্ষ আদালতের বিচারপতি। ইডির আইনজীবীর সওয়াল শুনে তিনি কিছুটা হলেও হতবাক হয়ে যান। গোটা ঘটনাকে বিরল পরিস্থিতি বলে মন্তব্য করেন তিনি।
আজ সুপ্রিম কোর্টে আইপ্যাক মামলার শুনানি চলছে। ইতিমধ্যেই সওয়াল পর্ব শুরু হয়েছে। তবে একদম শুরুতেই কিছুদিন আগেই হাইকোর্টে এই মামলায় প্রথম শুনানির দিন যে ঘটনা ঘটেছে, তা তুলে ধরেন ইডির আইনজীবী। যেখানে শুনানির নির্দিষ্ট দিনের কথা থাকলেও সেখানে এজলাসের ভেতরে এত বিশৃঙ্খলা তৈরি হয় যে, শেষ পর্যন্ত বিচারপতি শুনানির দিন পিছিয়ে দিতে বাধ্য হন বলে খবর আসে। আর সেই প্রসঙ্গ তুলে ধরেই আজ সুপ্রিম কোর্টে গোটা বিষয়টি ব্যাখ্যা করেন কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থার আইনজীবী। আর তার মুখ থেকে সেই কথা শুনে রীতিমত বাংলায় হাইকোর্টের ভেতরে এই আইপ্যাক মামলার পরিপ্রেক্ষিতে শুনানির সময় যে ঘটনা ঘটেছে, তা নিয়ে কিছুটা হলেও হতচকিত হয়ে যান বিচারপতি মিশ্র।
এদিন সুপ্রিম কোর্টের শুনানিতে হাইকোর্টে প্রথম দিন যেদিন এই মামলা ওঠে, সেদিন যে বিশৃঙ্খল পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে, তা নিয়ে নিজেদের ব্যাখ্যা দেয় কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থা। ইডির পক্ষ থেকে বলা হয়, “একটি ঘটনায় বর্তমান আইন মন্ত্রী কোর্টের কর্মী সমর্থকদের নিয়ে গিয়ে গন্ডগোল করেছেন। এই মামলায় হাইকোর্টের শুনানিতে বিচারপতি নিজে উল্লেখ করেছেন যে, শুনানি করা সম্ভব হয়নি। আমাদের কাছে হোয়াটসঅ্যাপ চ্যাট রয়েছে। বলা হয়েছে, ৫ নম্বর কোর্টে সবাই আসুন।” আর তারপরেই সুপ্রিম কোর্টের বিচারপতি মিশ্র বলেন, “যন্তর মন্তরের মত অবস্থা।” তখন ইডির আইনজীবীর পক্ষ থেকে বলা হয়, “হ্যাঁ, আদালতকে যন্তর মন্তরের মত অবস্থা করা হয়েছিল। হাইকোর্টের প্রধান বিচারপতি নির্দেশ দিতে বাধ্য হয়েছেন যে, শুনানির সময় আইনজীবী ছাড়া কোর্টের মধ্যে কেউ যাবেন না। ভার্চুয়াল শুনানি করা হয়েছে।” আর সেই কথা শুনে সুপ্রিম কোর্টের বিচারপতি মিশ্র গোটা ঘটনাকে বিরল পরিস্থিতি বলে মন্তব্য করেন। স্বাভাবিকভাবেই বাংলায় হাইকোর্টের মধ্যে আইপ্যাক মামলার যে শুনানি প্রথম দিন হয়েছিল এবং সেখানে যে বিশৃঙ্খলার পরিস্থিতি সৃষ্টি হয়েছিল, সেই ঘটনা নিয়ে যে মন্তব্য সুপ্রিম কোর্টের বিচারপতি করলেন তাতে বোঝাই যাচ্ছে যে তিনি গোটা ঘটনায় মোটেই খুশি নন। গতি প্রকৃতি দেখে তেমনটাই বলছেন বিশেষজ্ঞরা।