প্রিয়বন্ধু মিডিয়া রিপোর্ট- এই রাজ্য সরকার এতটাই সব ব্যবস্থাকে চ্যালেঞ্জ জানাতে শুরু করেছে যে, তারা এখন দেশের শীর্ষ আদালতের নির্দেশ পর্যন্ত মানছে না। আজ কিছুক্ষণ আগেই সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে যে তথ্য ফাঁস করে দিলেন রাজ্যের বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারী, তারপর কিন্তু এই সমস্ত বিষয় নিয়েই চর্চা শুরু হয়েছে জনতার মধ্যে। গতকাল সুপ্রিম কোর্টে যে শুনানি হয়েছে এসআইআর সংক্রান্ত মামলায়, সেখানে আদালত স্পষ্ট ভাষায় জানিয়ে দিয়েছে যে, রাজ্যের যখন মাইক্রো অবজারভারদের বিষয়টি নিয়ে আপত্তি আছে, তখন রাজ্য ৮ হাজার ৫০০ অফিসার দিক। কিন্তু সেই সমস্ত অফিসার গ্রুপ বি হতে হবে। এতে রাজ্য রাজি হয়ে যায়। কিন্তু যে তালিকা রাজ্য এই সমস্ত অফিসারদের জমা করেছে, সেখানেও বড়সড় কেলেঙ্কারি রয়েছে। এমনকি অবসরপ্রাপ্ত কর্মীকেও সেই তালিকায় ঢুকিয়ে দেওয়া হয়েছে বলে বিস্ফোরক অভিযোগ করলেন রাজ্যের বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারী। তার দাবি, এই রাজ্য সরকার এতটাই মিথ্যা যে, এরা এখন শীর্ষ আদালতের নির্দেশকেও অমান্য করতে শুরু করেছে।
গতকাল সুপ্রিম কোর্টে এসআইআর সংক্রান্ত মামলার শুনানি হওয়ার পরেই তৃণমূলের পক্ষ থেকে সোশ্যাল মিডিয়ায় প্রচার করা হয় যে, এতে নাকি মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের ব্যাপক জয় হয়েছে। তার অনুরোধ নাকি মেনে নিয়েছে দেশের শীর্ষ আদালত। তবে সেই সময় থেকেই বিরোধীদের মধ্যে একটা সন্দেহ ছিল যে, ৮ হাজার ৫০০ এর কিছু বেশি এই গ্রুপ বি অফিসার কি আদৌ দিতে পারবে রাজ্য সরকার? তারা তো মুখে বলে দিলেন, তারা সুপ্রিম কোর্টের এই নির্দেশ পালন করবে। কিন্তু এই তালিকাতেও তারা জল মেশানোর চেষ্টা করবে না তো? আর বিরোধীদের মধ্যে যে সন্দেহ উঁকি দিয়েছিল, সেটাই মুহূর্তের মধ্যে বাস্তব হয়ে গেল। আর তারই প্রমাণ দিলেন রাজ্যের বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারী। একেবারে হাতেনাতে কাগজ দেখিয়ে নদীয়া জেলায় কিভাবে এই নির্দেশ অমান্য করে গ্রুপ বি অফিসারের বদলে নির্মাণ সহায়ক থেকে শুরু করে গ্রুপ সি, এমনকি অবসরপ্রাপ্ত কর্মীর নামও এই তালিকায় ঢুকিয়ে দেওয়া হয়েছে, সেই তথ্য সামনে আনলেন তিনি।
এদিন তমলুকের জেলা কার্যালয়ে সাংবাদিকদের মুখোমুখি হন রাজ্যের বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারী। আর সেখানেই নদীয়া জেলায় কিভাবে এই গ্রুপ বি অফিসারের নামে অনেক গ্রুপ সি এবং নির্মাণ সহায়কের নাম ঢুকিয়ে দেওয়া হয়েছে, সেই তথ্য তুলে ধরেন রাজ্যের বিরোধী দলনেতা। পাশাপাশি তিনি অভিযোগ করেন যে, সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশকে লংঘন করে এক অবসরপ্রাপ্ত কর্মীর নামও এক্ষেত্রে ঢুকিয়ে দিয়েছে রাজ্য সরকার। স্বাভাবিকভাবেই এরা যে সমস্ত সীমা লংঘন করে গিয়েছে এবং এটা যে সুপ্রিম কোর্ট অবমাননার সামিল, সেই বিষয়টি নিয়েও সোচ্চার হন শুভেন্দু অধিকারী। সব মিলিয়ে গোটা পরিস্থিতি কোথায় গিয়ে দাঁড়ায়, সেদিকেই নজর থাকবে সকলের।