প্রিয়বন্ধু মিডিয়া রিপোর্ট-কলকাতা পুরসভার কড়া আইনি নোটিসের পর ২৪টা দিন পার, কিন্তু জবাব কোথায়? একদা ক্ষমতার অলিন্দে বুক ফুলিয়ে চলা এক যুবরাজের বিলাসবহুল সাম্রাজ্য নিয়ে এখন রাজ্য রাজনীতিতে তীব্র তোলপাড়। সাধারণ মানুষের মনে একটাই প্রশ্ন—আইনের হাত কি তবে এবার সত্যিই পৌঁছাতে চলেছে কালীঘাটের সেই হাই-প্রোফাইল অন্দরমহলে? একের পর এক ১৭টি বহুমূল্য সম্পত্তিতে নিয়ম ভেঙে নির্মাণের যে গুরুতর অভিযোগ উঠেছে, তা নিয়ে পুরসভার অন্দরে এখন ফাইল চালাচালি তুঙ্গে। ক্ষমতার চাদর সরে যেতেই যেভাবে একের পর এক চাঞ্চল্যকর নথি সামনে আসছে, তাতে পরিষ্কার যে পার পাওয়ার রাস্তা এবার সত্যিই বেশ কঠিন।

অভিযোগ উঠেছে ১৭-১৭টি বহুমূল্য সম্পত্তিতে বেআইনি নির্মাণের। কলকাতা পুরসভার আইনি নোটিসের পর আজ ২৪টা দিন পার হয়ে গেল, তাও কেন বৈধ কাগজপত্র বা অনুমোদিত নকশা জমা দেওয়া গেল না? আমজনতার বাড়ির এক ইঞ্চি ছাদ এদিক-ওদিক হলে যেখানে পুরসভার ডেমোলিশন গ্যাং ছুটে যায়, সেখানে এত বড় মাপের নেতার সম্পত্তির জবাব দিতে এত টালবাহানা কেন? সাধারণ মানুষের মনে এই প্রশ্নটাই আজ সবচেয়ে বড়।

কলকাতা পুরসভা এবার স্পষ্ট সংকেত দিয়েছে, বাড়তি খাতির পাওয়ার দিন শেষ। অনেক সময় দেওয়া হয়েছে, আর একটা দিনও নয়! বিল্ডিং বিভাগ ইতিমধ্যেই সুনির্দিষ্ট রিপোর্ট তৈরি করে ফেলেছে যে, ওই সম্পত্তিগুলির ঠিক কোন কোন অংশ পুরসভার নিয়ম ও প্ল্যান বহির্ভূতভাবে তৈরি করা হয়েছে। বরাবরের মতই তৃণমূল শিবিরের পক্ষ থেকে এটিকে ‘রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত’ বলে দাবি করা হচ্ছে। কিন্তু নিরপেক্ষ আইনি দৃষ্টিকোণ থেকে প্রশ্ন হলো— যদি ঘর আইনিভাবে একশো শতাংশ পরিষ্কার থাকে, তবে সেই নথিগুলো পুরসভার টেবিলে জমা দিয়ে সমস্ত বিতর্কের অবসান কেন ঘটানো হচ্ছে না?

রাজ্যে রাজনৈতিক পটপরিবর্তন ঘটেছে। শুভেন্দু অধিকারীর কড়া বার্তার পর দুর্নীতি আর নিয়মের তোয়াক্কা না করার দিন যে শেষ, সেটা স্পষ্ট। মনে রাখতে হবে, আইনের খাঁড়া যখন নামে, তখন কোনো পুরনো রাজনৈতিক দম্ভ তাকে আটকাতে পারে না। অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের পরিবার আদালতের দরজায় কড়া নেড়ে সময় চেয়েছিল। আদালত অ্যানেক্সচার দেওয়ার কথা বলেছিল, কিন্তু ২৪ দিন পরও যখন আইনানুগ সচ্ছতা মেলেনি, তখন পুরসভা বিধি মোতাবেক চূড়ান্ত অ্যাকশনের দিকেই হাঁটছে। যেকোনো মুহূর্তে ওই ইমারতগুলোর বিতর্কিত অংশ ভাঙার জন্য পুরসভার টিম রওনা দিতে পারে। এখন দেখার, এই হাই-প্রোফাইল মামলার জল শেষ পর্যন্ত কতদূর গড়ায়।