প্রিয়বন্ধু মিডিয়া রিপোর্ট-ভোটের মুখে ভবানীপুর মানেই তপ্ত কড়াই। কিন্তু সেই উত্তাপ এবার স্রেফ রাজনৈতিক স্লোগানে সীমাবদ্ধ নেই, তা আছড়ে পড়ল লালবাজারের অন্দরে। গত বৃহস্পতিবার ভবানীপুরে কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ এবং বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারীর মেগা রোড-শো ঘিরে যে নজিরবিহীন বিশৃঙ্খলা তৈরি হয়েছিল, তার রেশ কাটছেই না। বরং শুভেন্দু অধিকারীর একের পর এক বিস্ফোরক মন্তব্যে এখন কার্যত কোণঠাসা প্রশাসন। নিশানায় সরাসরি কলকাতা পুলিশের দুই হেভিওয়েট ডিসি।
রোড-শো চলাকালীন তৃণমূল কর্মীদের ‘অসভ্যতা’ এবং এক শ্রেণির পুলিশ অফিসারের নীরব দর্শকের ভূমিকা নিয়ে নির্বাচন কমিশন ইতিমধ্যেই দুই ডিসি-কে শোকজ করেছে। কিন্তু এই ‘শোকজ’ বা ‘কৈফিয়ত’ তলবকে পাত্তাই দিতে নারাজ নন্দীগ্রামের লড়াকু নেতা। তাঁর সাফ কথা, “এসব কৈফিয়ত করে কী হবে? পুলিশ তো একদম সোজা হয়নি। ওদের তো অবিলম্বে সরিয়ে দেওয়া উচিত!” নিচুতলার পুলিশ কর্মীরা নয়, বরং ডিসি পদমর্যাদার অফিসাররাই আদতে ‘অপকর্মের’ আসল কারিগর। তাঁর দাবি, শোকজের চিঠি দিয়ে এই আধিকারিকদের আড়াল করার চেষ্টা করছে নবান্ন। শুভেন্দুর বক্তব্যে উঠে এল এক বিস্ফোরক তালিকা, যা শুনে প্রশাসনিক মহলে রীতিমতো শোরগোল পড়ে গিয়েছে। রাজীব কুমার, বিনীত গোয়েল থেকে শুরু করে রূপেশ কুমার বা মনোজ বর্মা— যাঁদের নামের পাশে বিরোধী শিবির বারবার ‘টেন্টেড’ বা কলঙ্কিত তকমা সেঁটে দিয়েছে, তাঁদের দিকেই সরাসরি আঙুল তুলেছেন তিনি।
শুভেন্দুর দাবি, রাজ্য পুলিশের শীর্ষস্তরে ডিজিপি সমেত অনেকেই হয়ত পরিবর্তনের চেষ্টা করছেন, কিন্তু এই ‘পুরনো খেলোয়াড়রা’ এখনও পর্দার আড়াল থেকে কলকাঠি নাড়ছেন। এমনকি, অজয় নন্দার মত সিনিয়র অফিসার, যাঁর ওপর নির্বাচন কমিশনের অগাধ আস্থা ছিল, তাঁর ভূমিকা নিয়েও প্রশ্ন তুলেছেন শুভেন্দু। বিরোধী দলনেতার শ্লেষাত্মক মন্তব্য, “অজয় নন্দা কোথাও না কোথাও সমঝোতা করে চলার চেষ্টা করছেন। আর সেই সমঝোতার ফল তো গতকাল হাতেনাতে পেয়েছেন!” শুভেন্দুর ক্ষোভের আগুনে ঘি ঢেলেছে ভবানীপুরের বিজেপি কার্যকর্তাদের ওপর জারি হওয়া ১০৭ ধারার নোটিশ। বিরোধী দলনেতার দাবি, নির্বাচনের আগে সক্রিয় বিজেপি কর্মীদের আইনি জালে জড়িয়ে মনোবল ভাঙার এই কৌশল অতি পুরনো। তিনি মনে করিয়ে দিয়েছেন, সময় বদলেছে। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় যে ছকে এতদিন ভোট করিয়ে এসেছেন, ভবানীপুরের মাটিতে সেই ‘পুরনো ফর্মুলা’ এবার আর খাটবে না।
শুভেন্দুর বজ্রনির্ঘোষ হুঁশিয়ারি, “আমি কিন্তু ছেড়ে দেওয়ার পাত্র নই। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় যেভাবে নির্বাচন করেন, পশ্চিমবঙ্গে তো বটেই, ভবানীপুরে তা আর আমি করতে দেব না।”
ভবানীপুরের সেই রোড-শো এখন কেবল রাস্তার লড়াই নেই, তা পরিণত হয়েছে এক বৃহত্তর প্রশাসনিক যুদ্ধে। একদিকে শাসকদলের ক্যাডার বাহিনীর ‘দাদাগিরি’, অন্যদিকে পুলিশের একাংশের ‘সমঝোতা’ করার প্রবণতা— এই দুইয়ের মিশেলে ভবানীপুর এখন বারুদের স্তূপ। শুভেন্দু অধিকারীর এই রণংদেহি মেজাজ বুঝিয়ে দিচ্ছে, এবারের লড়াইটা ইঞ্চি ইঞ্চিতে মেপে নেওয়া হবে। এখন দেখার, কমিশনের এই শোকজ নাটক কেবল খাতা-কলমেই সীমাবদ্ধ থাকে, নাকি শুভেন্দুর চাপে ‘খাঁকি’র গায়ে লেগে থাকা ‘খাদি’র রঙ ঝেড়ে ফেলতে বাধ্য হয় প্রশাসন!