প্রিয়বন্ধু মিডিয়া রিপোর্ট- এতদিন বিরোধীরা অভিযোগ করতেন যে, এই রাজ্যে কয়লা পাচার থেকে শুরু করে বালি পাচারের মত যে ঘটনাগুলি ঘটে, সেখানে তৃণমূল নেতাদের যেমন যোগ রয়েছে, ঠিক তেমনই অনেক পুলিশ কর্তারাও এর সঙ্গে জড়িত। আর সম্প্রতি সেই ব্যাপারেই এক বিস্ফোরক মন্তব্য করেছেন বীরভূম জেলা তৃণমূল নেতা অনুব্রত মণ্ডল। তিনি বুঝিয়ে দিয়েছেন যে, অনেক পুলিশ এই কয়লা পাচারের সঙ্গে জড়িয়ে পড়েছেন। আর সেই কারণেই তিনি পুলিশ সুপারকে নাকা চেকিংয়ের কথা বলেছিলেন। আর পুলিশ প্রশাসনের একাংশের বিরুদ্ধে খোদ দাপুটে তৃণমূল নেতার এই মন্তব্য ঘিরে রীতিমত বাড়তি হাতিয়ার পেয়ে গিয়েছে বিরোধীরা। আর সেই ব্যাপারেই এবার অনুব্রত মণ্ডলের এই মন্তব্যকে হাতিয়ার করে পাল্টা কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থার কাছে কোন কোন পুলিশ অফিসার এর সঙ্গে যুক্ত, তা অনুব্রত মণ্ডলের বলে দেওয়া উচিত বলেই দাবি করলেন কেন্দ্রীয় মন্ত্রী সুকান্ত মজুমদার।
২৬ এর বিধানসভা নির্বাচনের আগে তৃণমূলকে বিভিন্ন দিক থেকে চেপে ধরছে বিরোধীরা। নিয়োগ দুর্নীতি তো রয়েছেই। তার পাশাপাশি কয়লা, বালি বিভিন্ন ক্ষেত্রে এই রাজ্যে দুর্নীতি করে সর্বনাশ করে দিচ্ছে শাসক দল বলে অভিযোগ করছেন বিরোধী নেতারা। শুধু তাই নয়, এক্ষেত্রে প্রশাসনের একাংশ এই অনিয়মের সঙ্গে জড়িত বলেও মাঝেমধ্যে অভিযোগ করতে দেখা যায় রাজ্যের বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারীকে। আর সম্প্রতি অনুব্রত মণ্ডল যেভাবে কয়লা পাচারের ক্ষেত্রে পুলিশের একাংশকে প্রশ্নের মুখে ফেলে দিয়েছেন, যেভাবে তিনি কিছু পুলিশ অফিসারের দিকে প্রশ্ন তুলেছেন, তাতে রীতিমত চাপে পড়ে গিয়েছে এই রাজ্যের প্রশাসন। খোদ মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় যেখানে পুলিশ মন্ত্রী, সেখানে পুলিশের একাংশের বিরুদ্ধেই অনুব্রত মণ্ডলের এই মন্তব্য যথেষ্ট অস্বস্তিতে ফেলে দিয়েছে রাজ্যের শাসক দলকে। আর সেই বিষয়কে হাতিয়ার করেই এবার পাল্টা খোঁচা দিলেন বালুরঘাটের বিজেপি সাংসদ।
এদিন এই ব্যাপারে সুকান্ত মজুমদারকে একটি প্রশ্ন করা হয়। আর সেই বিষয়ে প্রতিক্রিয়া দিতে গিয়ে তিনি বলেন, “অনুব্রত মণ্ডলের উচিত ছিলো, ইডির কাছে মুখ খুলে কোন কোন পুলিশ এর সঙ্গে যুক্ত আছে, তা বলে দেওয়া। তাহলে যে পুলিশ জনগণকে মামার বাড়ি দেখায়, সেই পুলিশও মামার বাড়ি দেখত।”