প্রিয়বন্ধু মিডিয়া রিপোর্ট-স্বাধীনতা দিবসের রাতে খাস কলকাতার বুকে প্রকাশ্যে চলে এলো রাজ্যের বর্তমান শাসকদল বিজেপির তীব্র অভ্যন্তরীণ কোন্দল। পরিস্থিতি এমন নজিরবিহীন পর্যায়ে পৌঁছায় যে, বিক্ষুব্ধ বিজেপি কর্মী-সমর্থকদের একাংশ গভীর রাতে এন্টালি থানার প্রধান প্রবেশদ্বারে তালা ঝুলিয়ে বিক্ষোভ প্রদর্শন করেন। ঘটনাকে কেন্দ্র করে চরম উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে গোটা এলাকায়। ইতিমধ্যেই এই ঘটনায় বিজেপি নেতাদের বিরুদ্ধে স্বতঃপ্রণোদিত মামলা দায়ের করেছে পুলিশ।
এন্টালি বিধানসভা এলাকায় বিজেপির দুটি গোষ্ঠীর দীর্ঘদিনের বিরোধ নতুন করে মাথাচাড়া দেয়। একপক্ষে রয়েছেন আইনজীবী প্রিয়াঙ্কা টিবরেওয়ালের অনুগামীরা এবং অন্যপক্ষে স্থানীয় বিজেপি নেতা দুই ভাই দিলীপ রাম ও সুদীপ রামের গোষ্ঠী। পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, পদ্মপুকুরের ৫৪ নম্বর ওয়ার্ডের পদ্মপুকুর ময়দানে দিলীপ ও সুদীপের গোষ্ঠী একটি দুর্গাপূজার আয়োজন করছিল এবং গত ১২ অগাস্ট সেখানে খুঁটিপূজাও সম্পন্ন হয়। কিন্তু শুক্রবার (১৪ অগাস্ট) মাঝরাতে স্বাধীনতা দিবসের অনুষ্ঠান চলাকালীন দুই পক্ষের মধ্যে তীব্র বাগবিতণ্ডা ও হাতাহাতি হয়। অভিযোগ, রাত আনুমানিক ১২টা ৫৫ মিনিট নাগাদ একদল দুষ্কৃতী ওই দুর্গাপূজার খুঁটি উপড়ে ফেলে দেয়।
খুঁটি উপড়ে ফেলার প্রতিবাদে এবং দোষীদের অবিলম্বে গ্রেফতারের দাবিতে ক্ষুব্ধ সুদীপ রাম ও দিলীপ রামের অনুগামীরা রাত ৩টে নাগাদ এন্টালি থানা ঘেরাও করেন। স্থানীয় পুলিশ যথাযথ ব্যবস্থা নিচ্ছে না, এই অভিযোগ তুলে বিক্ষোভকারীরা এন্টালি থানার মূল ফটকে তালা ও শিকল ঝুলিয়ে দেন। এর ফলে থানার ভেতরে থাকা পুলিশ কর্মীরা অবরুদ্ধ হয়ে পড়েন এবং সাধারণ মানুষের থানায় প্রবেশ সম্পূর্ণ বন্ধ হয়ে যায়। প্রায় দেড় থেকে দুই ঘণ্টা এই অচলাবস্থা চলার পর, লালবাজার এবং পূর্ব শহরতলি ডিভিশনের (ESD) ডিসি-সহ উচ্চপদস্থ পুলিশ আধিকারিকরা অতিরিক্ত বাহিনী নিয়ে ঘটনাস্থলে পৌঁছান। এরপর বিক্ষোভকারীদের সঙ্গে আলোচনার পর পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আসে এবং ভোরের দিকে গেটের তালা খোলা হয়।
এই নজিরবিহীন ঘটনায় পুলিশ কোনো রকম রেয়াত করেনি। এন্টালি থানার সাব-ইন্সপেক্টর প্রসেনজিৎ পালের লিখিত অভিযোগের ভিত্তিতে পুলিশ বিজেপি নেতা সুদীপ রাম, দিলীপ রাম এবং অন্যান্যদের বিরুদ্ধে স্বতঃপ্রণোদিত এফআইআর (FIR) দায়ের করেছে। নতুন আইন ভারতীয় ন্যায় সংহিতা (BNS)-এর ১৮৯(১), ১৮৯(২), ১৯০, ২২১, ২২৪ এবং ৩৫২ ধারায় মামলা রুজু করা হয়েছে। এর মধ্যে সরকারি কর্মচারীকে কর্তব্য পালনে বাধা দেওয়া, বেআইনিভাবে জমায়েত করা, হুমকি দেওয়া এবং সরকারি সম্পত্তি অবরুদ্ধ করার মতো একাধিক গুরুতর ও অ-জামিনযোগ্য ধারা রয়েছে। অন্যদিকে, খুঁটি উপড়ে ফেলার ঘটনায় অজ্ঞাতপরিচয় ব্যক্তিদের বিরুদ্ধেও ৩২৪ এবং ৩(৫) ধারায় পৃথক মামলা করা হয়েছে। যদিও দিলীপ ও সুদীপ রামের গোষ্ঠীর দাবি, তারা থানায় তালা দেননি, পুলিশ নিজেই গেট বন্ধ করেছিল। অন্যদিকে প্রিয়াঙ্কা টিবরেওয়াল এই ঘটনায় তাঁর কোনো ভূমিকা থাকার কথা সম্পূর্ণ অস্বীকার করেছেন। রাজ্যে ক্ষমতায় আসার পর দলেরই নেতাদের খোদ থানার গেটে তালা মারার এই ঘটনায় চরম অস্বস্তিতে পড়েছে গেরুয়া শিবিরের শীর্ষ নেতৃত্ব।