প্রিয়বন্ধু মিডিয়া রিপোর্ট-একুশে জুলাইয়ের মেগা সমাবেশের ঠিক আগের রাতে নজিরবিহীন রাজনৈতিক রক্তক্ষরণে উত্তপ্ত হয়ে উঠল তিলোত্তমা। সোমবার (২০শে জুলাই, ২০২৬) গভীর রাতে কলকাতার বিড়লা প্ল্যানেটোরিয়ামের সামনে তৈরি হওয়া মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের মূল সভাস্থলে আচমকাই হামলা চালায় একদল দুষ্কৃতী। মুহূর্তের মধ্যে কার্যত রণক্ষেত্রের রূপ নেয় গোটা এলাকা। অভিযোগ, ব্যাপক ভাঙচুর করা হয়েছে সভামঞ্চে, ছিঁড়ে ফেলা হয়েছে শহিদ স্মরণের ব্যানার ও পোস্টার। এই বর্বরোচিত ঘটনার খবর পেয়েই মাঝরাতে সরাসরি সভাস্থলে ছুটে যান তৃণমূল সভানেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় এবং অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়। এই নজিরবিহীন হামলার ঘটনার পর রাজ্য রাজনীতিতে তীব্র চাঞ্চল্য ছড়িয়ে পড়েছে।
ঘটনার বিবরণ দিতে গিয়ে ক্ষোভে ফেটে পড়েন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। তিনি সরাসরি অভিযোগ করেছেন, সোমবার রাত সাড়ে ১০টা নাগাদ হঠাৎ করেই ৬০ থেকে ৬৫টি মোটরবাইকে করে এসে একদল সশস্ত্র দুষ্কৃতী সভাস্থলে চড়াও হয়। সেখানে উপস্থিত থাকা ছাত্র ও যুব কর্মীদের ওপর নির্মমভাবে লাঠিসোটা নিয়ে আক্রমণ চালানো হয়। ভাঙচুর করা হয় মূল মঞ্চের একাংশ এবং সাউন্ড সিস্টেমও নষ্ট করার চেষ্টা করা হয়। শুধু তাই নয়, দূরদূরান্ত থেকে আসা শহিদ পরিবারের সদস্যদেরও সভাস্থলে পৌঁছাতে বাধা দেওয়া হয়েছে বলে কালীঘাট শিবিরের দাবি।
এই বর্বরোচিত হামলার পেছনে সরাসরি বিজেপির (BJP) ‘দুষ্কৃতী বাহিনী’ রয়েছে বলে তোপ দেগেছেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। তাঁর অভিযোগ, রাজনৈতিকভাবে মোকাবিলা করতে না পেরে ২১শে জুলাইয়ের ঐতিহাসিক সমাবেশকে বানচাল করার জন্যই এই পরিকল্পিত চক্রান্ত করা হয়েছে। কুণাল ঘোষের মতো শীর্ষ নেতারাও এই ঘটনার তীব্র নিন্দা করে দাবি করেছেন, কর্মী-সমর্থকদের মনে ভয় ধরাতেই সমাবেশের আগের রাতে এই কাপুরুষোচিত হামলা চালানো হয়েছে।
কলকাতা হাইকোর্টের বিচারপতি সৌগত ভট্টাচার্যের কড়া শর্ত ও অনুমতি মেনেই বিড়লা তারামণ্ডলের সামনে এই সভার প্রস্তুতি চলছিল। তা সত্ত্বেও খোদ কলকাতার বুকে এই ধরনের তাণ্ডব চলায় পুলিশের ভূমিকা নিয়ে বড়সড় প্রশ্ন তুলেছেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। সভাস্থল থেকেই ক্ষুব্ধ নেত্রী হুঁশিয়ারি দিয়ে জানান, আদালতের রক্ষাকবচ থাকা সত্ত্বেও সভামঞ্চে এই হামলা এবং পুলিশের এই নিষ্ক্রিয়তার বিরুদ্ধে তিনি রাজ্য সরকার ও পুলিশ প্রশাসনের বিরুদ্ধে সরাসরি আদালত অবমাননার মামলা (Contempt of Court) দায়ের করতে চলেছেন। সমাবেশের দিন সকাল থেকেই এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে চরম উত্তেজনা ছড়িয়েছে কলকাতা জুড়ে। তবে এই হামলার গুরুতর অভিযোগ নিয়ে ঘটনার পর থেকে রাজ্য সরকার বা কলকাতা পুলিশের উচ্চপদস্থ কর্তাদের তরফ থেকে এখনও পর্যন্ত কোনো আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া বা পালটা বিবৃতি মেলেনি।