প্রিয়বন্ধু মিডিয়া রিপোর্ট-উৎসবের মরসুমের মাঝেই কলকাতার রাজপথে বেনজির রাজনৈতিক সংঘাত। নির্বাচন কমিশনের ‘স্পেশাল ইনটেনসিভ রিভিশন’ (SIR) প্রক্রিয়ায় ভোটার তালিকায় কারচুপির অভিযোগে এবং মুখ্য নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারের পদত্যাগ ও গ্রেফতারির দাবিতে আজ তুমুল উত্তাল হয়ে উঠল উত্তর কলকাতার রাজাবাজার চত্বর। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের দল তৃণমূলের ছাত্র ও যুব সংগঠনের উদ্যোগে আজ রাজাবাজার মোড় থেকে পার্ক সার্কাস পর্যন্ত এক বিশাল প্রতিবাদ মিছিলের কর্মসূচি নেওয়া হয়েছিল। কিন্তু শুরুর পথেই সেই কর্মসূচিতে জল ঢেলে দিল বিশাল পুলিশ ও কেন্দ্রীয় বাহিনী। কলকাতা পুলিশ কমিশনার আগেই সাফ জানিয়ে দিয়েছিলেন যে, পুজোর মুখে যানজট ও আইনশৃঙ্খলার কথা মাথায় রেখে এই প্রতিবাদ মিছিলের কোনও আনুষ্ঠানিক অনুমতি দেওয়া হয়নি। মুখ্যমন্ত্রীর কড়া নির্দেশ মেনে পুলিশ ও সেন্ট্রাল আর্মড পুলিশ ফোর্স (CAPF) সকাল থেকেই গোটা রাজাবাজার ক্রসিং লোহার ব্যারিকেড দিয়ে মুড়ে ফেলেছিল। দুপুরবেলা তৃণমূলের নেতা-কর্মীরা রাজাবাজার মোড়ে জমায়েত করে এগোতে গেলেই ব্যারিকেডের সামনে তাঁদের আটকে দেওয়া হয়। ব্যারিকেড ভাঙার চেষ্টা ও পুলিশের সঙ্গে তুমুল ধস্তাধস্তির পর একচুলও নড়তে না পেরে রাজপথের ওপরেই বসে পড়েন আন্দোলনকারীরা।
আজকের এই হাইপ্রোফাইল প্রতিবাদ মিছিলে তৃণমূল নেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় নিজে উপস্থিত না থাকলেও, দলের অগ্রভাগে থেকে সুর চড়ান প্রবীণ বিধায়ক শোভনদেব চট্টোপাধ্যায়, সাংসদ দোলা সেন এবং কুণাল ঘোষ। মাইক হাতে ব্যারিকেডের সামনে বসে কুণাল ঘোষ তীব্র ক্ষোভ উগরে দিয়ে বলেন: “যে উদ্দেশ্যে আজকে আমরা কর্মসূচির ডাক দিয়েছিলাম, সেই উদ্দেশ্য পুরোপুরি সফল। পুলিশ আর কেন্দ্রীয় বাহিনী নামিয়ে যেভাবে রাস্তা অবরুদ্ধ করা হয়েছে, তাতেই স্পষ্ট যে এই সরকার আমাদের আন্দোলন দেখে ভয় পেয়েছে! আসল কথা হলো, মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে নিয়েই ওদের যত মাথাব্যথা। কিন্তু আমাদের এই গণতান্ত্রিক লড়াই ব্যারিকেড দিয়ে দমানো যাবে না।” মিছিল থেকে কর্মীরা কেন্দ্রীয় সরকার ও নির্বাচন কমিশনের বিরুদ্ধে অনবরত স্লোগান তোলেন। তবে পুলিশের অনড় মনোভাবের কারণে শেষ পর্যন্ত রাজাবাজার মোড়েই আটকে থাকে সম্পূর্ণ কর্মসূচি।
তৃণমূলের এই অনুমতিহীন মিছিল ও রাজপথ অবরুদ্ধ করার প্রচেষ্টাকে কড়া ভাষায় আক্রমণ করেছে ক্ষমতাসীন বিজেপি নেতৃত্ব। পুজোর মরসুমে কলকাতার বুকে এই ধরণের বেআইনি জমায়েত করে জনজীবন বিপর্যস্ত করার তীব্র সমালোচনা করা হয়েছে প্রশাসনের পক্ষ থেকে। পুলিশ কমিশনার অজয় নন্দা স্পষ্ট হুঁশিয়ারি দিয়ে জানিয়েছেন, অনুমতি ছাড়া বেআইনিভাবে রাস্তা আটকে মিছিল করার অপরাধে আইন অনুযায়ী কড়া আইনি পদক্ষেপ গ্রহণ করা হবে। দীর্ঘক্ষণ রাজাবাজার মোড়ে উত্তেজনা চলার পর পুলিশের অনড় অবস্থানের সামনে শেষমেশ এলাকা খালি করে দিতে বাধ্য হন তৃণমূল কর্মী-সমর্থকেরা।