প্রিয়বন্ধু মিডিয়া রিপোর্ট-দুর্গাপুজোর প্রাক্কালে কলকাতার উড়ালপুল ও প্রধান রাস্তাগুলিকে ‘রামধনু’ রঙে সাজানো নিয়ে রাজ্যের নতুন বিজেপি সরকারকে তীব্র ভাষায় আক্রমণ শানালো প্রধান বিরোধী দল মমতা তৃণমূল কংগ্রেস। চিংড়িঘাটা ও গড়িয়াহাট উড়ালপুলের মতো গুরুত্বপূর্ণ রাস্তায় লাল, গোলাপি, হলুদ ও কমলার মতো উজ্জ্বল রঙের প্রলেপ দেওয়ার পর সম্প্রতি একটি সামাজিক মাধ্যমের ভিডিওকে কেন্দ্র করে এই রাজনৈতিক বিতর্ক চরম আকার ধারণ করেছে।

সম্প্রতি চিংড়িঘাটা উড়ালপুলের ওপর সামান্য বৃষ্টিতে চলন্ত একাধিক বাইক আরোহীর চাকা পিছলে আচমকা পড়ে যাওয়ার একটি ড্যাশ-ক্যাম ভিডিও সামাজিক মাধ্যমে ব্যাপকভাবে ভাইরাল হয়। এই ঘটনাকে হাতিয়ার করেই এক্স (টুইটার) হ্যান্ডেলে সরব হয়েছে মমতা তৃণমূল কংগ্রেস। দলের পক্ষ থেকে সরাসরি অভিযোগ করে বলা হয়েছে, “ভোটের পর ক্ষমতায় আসা বিজেপি সরকার এখন উৎসবের নামে সাধারণ মানুষের জীবনকে চরম ঝুঁকির মুখে ঠেলে দিচ্ছে। উড়ালপুলের পিচের রাস্তায় এই রামধনু রং আসলে একটি মৃত্যুফাঁদ! প্রথম বৃষ্টিতেই বাইক হড়কে পরপর দুর্ঘটনা ঘটছে।” এই গাফিলতির জন্য রাজ্যের বর্তমান পুর ও নগরোন্নয়ন মন্ত্রী অগ্নিমিত্রা পলকে কড়া ভাষায় জবাবদিহি করতে হবে বলে দাবি তুলেছে তারা।

তৃণমূলের এই আক্রমণের পাল্টা জবাব দিয়েছেন পুর ও নগরোন্নয়ন মন্ত্রী অগ্নিমিত্রা পল। বিরোধী শিবিরের সমস্ত অভিযোগ উড়িয়ে দিয়ে তিনি স্পষ্ট করেন: সাধারণ পিচ্ছিল রঙের বদলে রাস্তায় গাড়ি চলাচল বা গ্রিপের সুবিধার জন্য ‘অ্যান্টি-স্কিড’ (Anti-skid) বা পিছলে যাওয়া প্রতিরোধী বিশেষ রং ব্যবহার করা হয়েছে। এই রং কোনো স্থায়ী ব্যবস্থা নয়, উৎসবের আবহে শহরকে রঙিন করে তুলতে এটি করা হয়েছে, যা আগামী কয়েক মাসের মধ্যে স্বাভাবিকভাবেই উঠে যাবে। চুনকাম বা আল্পনা দেওয়া আমাদের বাঙালি ঐতিহ্যের অংশ। মন্ত্রী জানান, কিছু মানুষের থেকে তিনি শুনেছেন যে রঙের উজ্জ্বলতার কারণে রাতে চোখ ধাঁধিয়ে যাওয়ার সমস্যা হতে পারে, সেটি প্রশাসন অত্যন্ত গুরুত্ব দিয়ে খতিয়ে দেখছে। যদি সত্যিই মানুষের অসুবিধা হয়, তবে বিকল্প ব্যবস্থা করা হবে। এদিকে রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী চিংড়িঘাটা উড়ালপুলের বাইক আরোহীদের পিছলে যাওয়ার ভাইরাল ভিডিওটির সত্যতা ও এর নেপথ্যের প্রকৃত কারণ অনুসন্ধান করতে ইতিমধ্যেই একটি উচ্চপর্যায়ের তদন্তের নির্দেশ দিয়েছেন।

প্রসঙ্গত, পশ্চিমবঙ্গে বিজেপি সরকার ক্ষমতায় আসার পর থেকেই কলকাতার পূর্বতন নীল-সাদা রঙের চেনা রূপ বদলে যায়। এর আগে তৃণমূল জমানায় তৎকালীন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় গোটা শহরের সরকারি ভবন, ফ্লাইওভার এবং রাস্তার রেলিং নীল-সাদা রঙে মুড়ে ফেলেছিলেন। নতুন বিজেপি সরকার এবার তাদের প্রথম দুর্গাপুজো উদযাপনে শহরজুড়ে শারদীয় আল্পনা ও রঙের বৈচিত্র্য ফুটিয়ে তোলার সিদ্ধান্ত নেয়। আর এবার পুজোর মুখে পিচের রাস্তার ওপর এই অভিনব রঙের ব্যবহার এবং তা নিয়ে বাইক দুর্ঘটনার অভিযোগকে কেন্দ্র করে কলকাতার রাজপথের রং এখন পুরোদমে রাজনৈতিক যুদ্ধের ময়দানে পরিণত হয়েছে।