প্রিয়বন্ধু মিডিয়া রিপোর্ট-বঙ্গ রাজনীতির ইতিহাসে এক অভূতপূর্ব মোড়! কলকাতার ঝিমিয়ে পড়া অর্থনীতি, সেকেলে পরিকাঠামো আর যানজট-নিকাশির চিরস্থায়ী অভিশাপ থেকে মুক্তি দিতে এবার সরাসরি ময়দানে নামলেন কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ। বিজেপির নির্বাচনী ইস্তাহারে কলকাতার জন্য যে বিশেষ ‘অ্যাকশন প্ল্যান’ ঘোষণা করা হয়েছে, তা কেবল একটি প্রতিশ্রুতি নয়— বরং আগামী ১০ বছরের এক নিশ্ছিদ্র রূপান্তর পরিকল্পনা। রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, এই পরিকল্পনা বাস্তবায়িত হলে লন্ডনের টেমস বা সিঙ্গাপুরের ধাঁচে তিলোত্তমার ভোলবদল এখন সময়ের অপেক্ষা।

বিজেপির এই বিশেষ ইস্তাহারে কলকাতাকে নিয়ে যে রোডম্যাপ তৈরি করা হয়েছে, তার প্রধান বৈশিষ্ট্য হলো ‘দীর্ঘমেয়াদী লক্ষ্য’। সাধারণত রাজনৈতিক দলগুলো পাঁচ বছরের নিরিখে প্রতিশ্রুতি দেয়, কিন্তু অমিত শাহ স্পষ্ট করেছেন— কলকাতাকে তার হারানো গৌরব ফিরিয়ে দিতে বিজেপি ১০ বছরের এক নিরবচ্ছিন্ন উন্নয়নের ব্লু-প্রিন্ট তৈরি করেছে। একে বলা হচ্ছে ‘মিশন তিলোত্তমা ২০৩৫’।

শাহের পরিকল্পনায় কী কী থাকছে? এক নজরে মূল পয়েন্টগুলো: ১.পরিকাঠামোর আমূল পরিবর্তন: কলকাতার সবথেকে বড় সমস্যা নিকাশি এবং বর্ষার জলযন্ত্রণা। শাহের ঘোষণা অনুযায়ী, আধুনিক ‘আন্ডারগ্রাউন্ড ড্রেনেজ সিস্টেম’ এবং স্মার্ট সিটি প্রযুক্তির মাধ্যমে শহরকে জলমুক্ত করার বিশেষ প্রকল্প নেওয়া হবে। কয়েক হাজার কোটি টাকার কেন্দ্রীয় বরাদ্দের ইঙ্গিত দেওয়া হয়েছে এই ইস্তাহারে।
২.অর্থনৈতিক পুনরুত্থান ও শিল্পায়ন: একসময় কলকাতা ছিল ভারতের অর্থনৈতিক রাজধানী। সেই তকমা ফিরিয়ে আনতে বিশেষ ‘ফিন্যান্সিয়াল হাব’ এবং আইটি সেক্টরে বিপুল বিনিয়োগের পরিকল্পনা রয়েছে। ১০ বছরের মধ্যে কয়েক লক্ষ কর্মসংস্থানের সুযোগ তৈরির লক্ষ্যমাত্রা নেওয়া হয়েছে এই অ্যাকশন প্ল্যানে। ৩. স্মার্ট ট্রান্সপোর্ট ও যানজট মুক্তি: শহরজুড়ে ফ্লাইওভারের জাল বিস্তার এবং বর্তমান মেট্রো প্রকল্পগুলোকে দ্রুত শেষ করে কলকাতার ট্রাফিক ব্যবস্থাকে বিশ্বের আধুনিক শহরগুলোর সমতুল্য করা হবে। গঙ্গার দু’ধারে পরিকল্পিত নগরোন্নয়ন ও জলপথ পরিবহনেও বিশেষ জোর দেওয়া হয়েছে। ৪.নিরাপদ ও ডিজিটাল কলকাতা: নারী সুরক্ষা এবং অপরাধ দমনে কলকাতাকে সিসিটিভি এবং কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (AI) চালিত নজরদারির আওতায় আনা হবে। প্রতিটি মোড়ে থাকবে হাই-টেক কিয়স্ক এবং জরুরি পরিষেবা কেন্দ্র।
৫.ঐতিহ্য রক্ষা ও আধুনিক পর্যটন: উত্তর কলকাতার হেরিটেজ স্থাপত্যগুলিকে কোনো ক্ষতি না করে সেগুলোকে বিশ্বমানের পর্যটন কেন্দ্র হিসেবে গড়ে তোলা হবে। গঙ্গার ঘাটগুলোর আধুনিকীকরণ হবে বিদেশি রিভারফ্রন্টগুলোর আদলে।

রাজনৈতিক মহলের দাবি, এই ঘোষণার মাধ্যমে বিজেপি কলকাতার শিক্ষিত মধ্যবিত্ত ও তরুণ প্রজন্মের কাছে এক বড় বার্তা দিল। অমিত শাহের এই ব্যক্তিগত তদারকিতে তৈরি পরিকল্পনা প্রমাণ করে যে, কেন্দ্র কলকাতাকে নিয়ে অত্যন্ত গুরুত্বের সাথে ভাবছে। এটি কেবল ভোট পাওয়ার কৌশল নয়, বরং তিলোত্তমার আগামী দশকের ভাগ্য নির্ধারণী এক দলিল।

শহরের বিশিষ্ট মহলের মতে, কলকাতার সমস্যাগুলো দীর্ঘদিনের। সেই জট কাটাতে এমন বড় মাপের এবং সুদূরপ্রসারী পরিকল্পনাই প্রয়োজন ছিল। শাহের এই ‘মাস্টারস্ট্রোক’ কি তবে লালবাজার থেকে নবান্ন— সব সমীকরণ বদলে দেবে? জল্পনা তুঙ্গে।