প্রিয়বন্ধু মিডিয়া রিপোর্ট-
বিধানসভা নির্বাচনের নির্ঘণ্ট ঘোষণার পর থেকেই বাংলার আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির ওপর কড়া নজরদারি চালাচ্ছে ভারতের নির্বাচন কমিশন। অবাধ ও শান্তিপূর্ণ ভোট করানোর লক্ষ্যে কোনওরকম শিথিলতা যে বরদাস্ত করা হবে না, তার প্রমাণ মিলল দক্ষিণ ২৪ পরগনার বাসন্তীতে। গত কয়েকদিনের রাজনৈতিক হিংসা নিয়ন্ত্রণে ব্যর্থতা এবং দায়িত্বজ্ঞানহীনতার অভিযোগে বাসন্তী থানার আইসি (IC) অভিজিৎ পালকে অবিলম্বে সাসপেন্ড করল কমিশন। একইসঙ্গে তাঁর বিরুদ্ধে বিভাগীয় তদন্তের (Departmental Inquiry) নির্দেশও দেওয়া হয়েছে।

ঘটনার সূত্রপাত গত ২৬ মার্চ। বাসন্তী বাজার ও পার্শ্ববর্তী এলাকা হঠাৎই রণক্ষেত্রের চেহারা নেয়। স্থানীয় সূত্রে খবর, তৃণমূল কংগ্রেস এবং বিজেপি সমর্থকদের মধ্যে বচসা থেকে শুরু হয় সংঘর্ষ। মুহূর্তের মধ্যে তা আকাশছোঁয়া উত্তেজনায় রূপ নেয়। দু’পক্ষের মধ্যে ব্যাপক ইটবৃষ্টি, হাতাহাতি এবং বোমাবাজির অভিযোগ ওঠে। পরিস্থিতি এতটাই হাতের বাইরে চলে যায় যে সাধারণ মানুষ আতঙ্কে ঘরবন্দি হয়ে পড়েন। অভিযোগ, সেই সময় পুলিশ প্রশাসন নীরব দর্শকের ভূমিকা পালন করেছিল।

নির্বাচন কমিশনের প্রাথমিক পর্যবেক্ষণে উঠে এসেছে বেশ কিছু চাঞ্চল্যকর তথ্য। এলাকায় অশান্তি হতে পারে এমন আগাম খবর থাকা সত্ত্বেও আইসি কোনো নিরোধক ব্যবস্থা গ্রহণ করেননি। ভোট উপলক্ষে এলাকায় আগে থেকেই কেন্দ্রীয় আধা-সামরিক বাহিনী মোতায়েন ছিল। কিন্তু সংঘর্ষের সময় তাদের সঠিক রণকৌশলে ব্যবহার করা হয়নি। সংঘর্ষ চলাকালীন আইসি-র ভূমিকা অত্যন্ত নিষ্ক্রিয় ছিল, যার ফলে সাধারণ মানুষ ও পুলিশকর্মীরা জখম হন। কমিশন এই ঘটনাকে “চরম অপদার্থতা” হিসেবে ব্যাখ্যা করেছে। রাজ্যের মুখ্য সচিবকে পাঠানো চিঠিতে স্পষ্ট জানানো হয়েছে, জননিরাপত্তা রক্ষায় ব্যর্থ আধিকারিককে পদে রাখা সম্ভব নয়।

আইসি-কে সাসপেন্ড করার পাশাপাশি বাসন্তী থানার দায়িত্ব সাময়িকভাবে অন্য এক পদস্থ আধিকারিককে দেওয়া হয়েছে। নবান্ন সূত্রে খবর, কমিশনের নির্দেশ মেনে দ্রুত বিভাগীয় তদন্ত শুরু করা হচ্ছে। যদি তদন্তে দোষ প্রমাণিত হয়, তবে সংশ্লিষ্ট আধিকারিকের বিরুদ্ধে আরও কঠোর আইনি পদক্ষেপ নেওয়া হতে পারে।

অশান্তির ঘটনার পর থেকেই বাসন্তী বাজার ও সংলগ্ন গ্রামগুলোতে থমথমে পরিস্থিতি বিরাজ করছে। পরিস্থিতি সামাল দিতে গতকাল সকাল থেকেই এলাকায় বিশাল পুলিশ বাহিনী ও কেন্দ্রীয় বাহিনীর রুট মার্চ শুরু হয়েছে। পুলিশ সূত্রে খবর, সিসিটিভি ফুটেজ এবং ভিডিওগ্রাফি খতিয়ে দেখে এখনও পর্যন্ত ৯ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। এলাকায় নতুন করে জমায়েত নিষিদ্ধ করা হয়েছে এবং পুলিশি টহলদারি বাড়ানো হয়েছে।

এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে শাসক ও বিরোধী শিবিরের মধ্যে কাদা ছোঁড়াছুড়ি তুঙ্গে। বিজেপির দাবি, পুলিশ পক্ষপাতদুষ্ট আচরণ করছিল বলেই এই পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে। অন্যদিকে, তৃণমূলের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে যে তারা শান্তি বজায় রাখার পক্ষপাতী এবং পুলিশি পদক্ষেপকে তারা সম্মান করে।

বাসন্তীর এই ঘটনা রাজ্যের অন্যান্য পুলিশ আধিকারিকদের কাছে একটি কড়া বার্তা। নির্বাচন কমিশন স্পষ্ট করে দিয়েছে যে, ভোটের ময়দানে শান্তি বজায় রাখতে তারা বিন্দুমাত্র আপস করবে না। এখন দেখার, এই প্রশাসনিক রদবদলের পর বাসন্তীর রাজনৈতিক উত্তাপ কতটা প্রশমিত হয়।