প্রিয়বন্ধু মিডিয়া রিপোর্ট-
নিয়োগ দুর্নীতি মামলায় কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থা এনফোর্সমেন্ট ডিরেক্টরেট (ED)-এর তলব ফের এড়িয়ে গেলেন রাজ্যের প্রাক্তন শিক্ষামন্ত্রী পার্থ চট্টোপাধ্যায়। আজ, বৃহস্পতিবার সিজিও কমপ্লেক্সে ইডি আধিকারিকদের মুখোমুখি হওয়ার কথা ছিল তাঁর। কিন্তু শেষ মুহূর্তে ‘শরীর অত্যন্ত খারাপ’—এই চেনা যুক্তি সাজিয়ে হাজিরা এড়ালেন পার্থ। এই নিয়ে ইডির পরপর তিনটি নোটিসই কার্যত নস্যাৎ করলেন তিনি।

নিয়োগ দুর্নীতির শিকড় খুঁজতে এবং নতুন কিছু তথ্যের ভিত্তিতে পার্থ চট্টোপাধ্যায়কে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য আজকের দিনটি ধার্য করেছিল ইডি। তবে হাজিরা না দিয়ে তিনি চিঠির মাধ্যমে জানিয়েছেন যে, তাঁর শারীরিক অবস্থা বর্তমানে অত্যন্ত সংকটজনক, তাই তিনি সশরীরে উপস্থিত হতে পারছেন না। রাজনৈতিক মহলের একাংশের মতে, কেন্দ্রীয় এজেন্সির কড়া সওয়াল থেকে বাঁচতেই বারবার এই ‘অসুস্থতা’কে ঢাল হিসেবে ব্যবহার করছেন প্রাক্তন মন্ত্রী।

উল্লেখ্য, শিক্ষক নিয়োগ দুর্নীতি মামলায় প্রায় তিন বছর জেল হেফাজতে থাকার পর গত নভেম্বর মাসে আদালত থেকে জামিন পেয়েছিলেন পার্থ চট্টোপাধ্যায়। জামিনের অন্যতম শর্ত ছিল তদন্তে পূর্ণ সহযোগিতা। কিন্তু জেল থেকে বেরোনোর পর থেকেই ইডির তলবে তাঁর এই অনুপস্থিতি নিয়ে প্রশ্ন উঠতে শুরু করেছে। এর আগে ১৮ মার্চ এবং তার পরবর্তী সময়ের নোটিসেও তিনি একই কারণে গরহাজির ছিলেন।

বিস্ময়কর বিষয় হলো, এই একই মামলায় পার্থ-ঘনিষ্ঠ অর্পিতা মুখোপাধ্যায়কে তলব করা হলে তিনি কিন্তু নির্ধারিত সময়েই নথিপত্র নিয়ে সিজিও কমপ্লেক্সে হাজিরা দিয়েছেন। যেখানে মামলার অন্যতম অভিযুক্ত তদন্তে সহযোগিতা করছেন, সেখানে পার্থ চট্টোপাধ্যায়ের বারবার ‘অসুস্থতা’র অজুহাত দেখিয়ে দূরে থাকা নিয়ে তীব্র প্রতিক্রিয়া দিচ্ছে বিরোধী শিবির।

তদন্তকারী সংস্থা সূত্রে খবর, এভাবে বারবার হাজিরা এড়ালে তাঁর বিরুদ্ধে কড়া আইনি পদক্ষেপ নেওয়ার প্রস্তুতি শুরু হয়েছে। ইডি আধিকারিকরা ইতিমধ্যেই পার্থর শারীরিক অবস্থা খতিয়ে দেখতে চিকিৎসকদের বিশেষ বোর্ড গঠনের কথা ভাবছেন। আইনজ্ঞদের মতে, তদন্তে অসহযোগিতা প্রমাণিত হলে আদালত তাঁর জামিন বাতিলের আবেদনও মঞ্জুর করতে পারে।
এখন দেখার, ইডি পার্থ চট্টোপাধ্যায়ের এই ‘অসুস্থতা’র চিঠিতে সন্তুষ্ট হয়, নাকি তাঁর বাড়ির দরজায় সরাসরি কড়া নাড়তে আবারও পৌঁছে যান কেন্দ্রীয় তদন্তকারীরা।