প্রিয়বন্ধু মিডিয়া রিপোর্ট-পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভায় ধুন্ধুমার! শাসক ও বিরোধী শিবিরের তীব্র বাদানুবাদের মধ্যে এবার অত্যন্ত বড় পদক্ষেপ নিলেন পরিষদীয় মন্ত্রী শঙ্কর ঘোষ। ‘কালীঘাট-তৃণমূল’ শিবিরের হেভিওয়েট বিধায়ক কুণাল ঘোষের বিরুদ্ধে সরাসরি স্বাধিকারভঙ্গের নোটিস (Privilege Motion) পেশ করলেন তিনি। গত কয়েকদিন ধরে বিধানসভার ভেতরে স্পিকারের সঙ্গে কুণাল ঘোষের তীব্র বাদানুবাদ এবং অধিবেশনের গরিমা ক্ষুণ্ণ করার গুরুতর অভিযোগে এই চরম আইনি পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে বলে সংসদীয় সূত্রে খবর।
ঘটনার সূত্রপাত গত বুধবার, যখন স্বরাষ্ট্র দপ্তরের বাজেট আলোচনা চলাকালীন কুণাল ঘোষকে মার্শাল দিয়ে টেনে হাউস থেকে বের করে দেওয়া হয় এবং এক দিনের জন্য সাসপেন্ড করা হয়। গতকাল, বৃহস্পতিবার সেই ঘটনা নিয়ে বিধানসভায় স্পিকার রথীন্দ্র বসুর কাছে বক্তব্য রাখার অনুমতি চান কুণাল ঘোষ ও শোভনদেব চট্টোপাধ্যায়। স্পিকার সেই ঘটনাকে ‘কলঙ্কজনক অধ্যায়’ বলে আখ্যা দিলে তীব্র ক্ষোভে ফেটে পড়েন কালীঘাটপন্থী বিধায়করা। অভিযোগ, কুণাল ঘোষ সরাসরি স্পিকারের আসন ও পদকে লক্ষ্য করে চরম কটাক্ষ করেন এবং নির্দেশ অমান্য করেন। বিধানসভার ইতিহাস ও স্পিকারের মর্যাদাকে খাটো করার এই নজিরবিহীন আচরণের প্রেক্ষিতেই আজ তাঁর বিরুদ্ধে স্বাধিকারভঙ্গের নোটিস আনেন মন্ত্রী শঙ্কর ঘোষ।
স্বাধিকারভঙ্গের নোটিস আসার পরই বিধানসভা কক্ষে দাঁড়িয়ে নিজের অবস্থান স্পষ্ট করেছেন কুণাল ঘোষ। কোনো রকম রাখঢাক না করে তিনি সরাসরি বলেন, “আমি পরিষ্কার বলছি, আমি হাউসকে অপমান বা স্পিকারের অবমাননা করিনি। এটি আসলে আমার কণ্ঠরোধ করার এবং মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সৈনিককে থামানোর একটা গভীর চক্রান্ত।” নিজের বক্তব্যের সপক্ষে মুখ্যমন্ত্রী ও প্রবীণ নেতা শোভনদেব চট্টোপাধ্যায়ের নির্দেশ ও ইচ্ছার কথাও উল্লেখ করেন তিনি।
রাজনৈতিক বিশেষজ্ঞদের মতে, এই স্বাধিকারভঙ্গের নোটিসের জেরে আগামী দিনে কুণাল ঘোষের বিধায়ক পদ বা অধিবেশনে যোগদানের ক্ষেত্রে বড়সড় আইনি ও প্রশাসনিক ধাক্কা আসতে পারে, যা রাজ্যের বর্তমান রাজনৈতিক উত্তাপকে আরও কয়েক গুণ বাড়িয়ে দিল।