প্রিয়বন্ধু মিডিয়া রিপোর্ট-
এই রাজ্যের শাসক দল তৃণমূল কংগ্রেস এখন লক্ষ্মীর ভান্ডারকে হাতিয়ার করে বলতে শুরু করেছে যে, লক্ষীর ভান্ডার মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় দিচ্ছেন। আর বিজেপি ক্ষমতায় এলে সেই লক্ষীর ভান্ডার বন্ধ করে দেবে। কিন্তু এটা যে একেবারেই মিথ্যে কথা, শুধুমাত্র বিজেপিকে আটকানোর জন্যই যে এই কুৎসা, অপপ্রচার তৃণমূলের পক্ষ থেকে করা হচ্ছে, তা সাধারণ মানুষও খুব ভালোমতই বুঝতে শুরু করেছেন। আর যখন মানুষ তৃণমূলের এই ভুল বোঝানোকে ধরে ফেলেছে, ঠিক তখনই তৃণমূলের অনেক নেতা থেকে শুরু করে জনপ্রতিনিধিরা আবার হুমকি দিয়ে বলছেন যে, তারা যে সমস্ত জায়গায় হারবেন, সেই সমস্ত জায়গায় নাকি এই ভাতা দেওয়া বন্ধ হয়ে যাবে। সম্প্রতি শওকত মোল্লার পর তৃণমূল সাংসদ জগদীশ বাসুনিয়া আবার বিজেপিকে কটাক্ষ করে যারা লক্ষ্মীর ভান্ডারকে ভিক্ষা বলছেন, তাদের সেই টাকা নিতে লজ্জা করে না? এমন মন্তব্য করেছেন। আর তৃণমূল সাংসদের এই ধরনের মন্তব্যের পরেই তাকে পাল্টা খোঁচা দিলেন রাজ্যের বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারী।
২৬ এর নির্বাচন যত এগিয়ে আসছে, ততই তৃণমূল আতঙ্কে ভুগতে শুরু করেছে। তারা খুব ভালোমতই বুঝতে পারছে যে, এবার তারা অত সহজে নির্বাচনী বৈতরণী পার হতে পারবে না। যতই তারা ভাতা বাড়িয়ে দিন না কেন, মানুষ তাদের বুজরুকি ধরে খুলেছে। আর যখন বিজেপির দিকে আকৃষ্ট হচ্ছে সাধারন মানুষ, তখন অন্য কোনো উপায় না পেয়ে তৃণমূল এখন সেই লক্ষ্মীর ভান্ডারের মত ভাতা নিয়ে মানুষকে ভয় দেখাতে শুরু করেছেন, মিথ্যা বোঝাতে শুরু করেছে। কোচবিহারের তৃণমূল সাংসদ যেভাবে লক্ষ্মীর ভান্ডার পেতে বিজেপির লজ্জা করে না বলে মন্তব্য করলেন, তারপর চারিদিকে প্রশ্ন উঠছে যে, এটা কি তৃণমূলের ঘরের টাকা? মানুষের টাকাই তো মানুষকে দেওয়া হচ্ছে। আর সাধারণ মানুষের জন্যই তো এই সমস্ত পরিষেবা। সেখানে বিজেপি, তৃণমূল তো দেখা উচিত নয়। তারপরও কি করে একজন জনপ্রতিনিধি এই ধরনের কথা বলতে পারেন? আর সেই বিষয়েই তৃণমূল সাংসদকে এবারের ভোটে মোক্ষম জবাব দেওয়ার কথা জানিয়ে দিলেন রাজ্যের বিরোধী দলনেতা।
এদিন লক্ষ্মীর ভান্ডার নিয়ে কোচবিহারে তৃণমূল সাংসদের মন্তব্যের পরিপ্রেক্ষিতে রাজ্যের বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারীকে প্রশ্ন করেন সাংবাদিকরা। আর সেই ব্যাপারে প্রতিক্রিয়া দিতে গিয়ে তিনি বলেন, “সরকারি পরিষেবা তো সবার জন্য। ওনারাই তো বলেন, কাঠের মালা পড়ে নিতে চলে আসেন। শওকত মোল্লা কদিন আগে বলেছেন যে, তিনটি অঞ্চলে বন্ধ করে দিয়েছি। ময়নাতে বন্ধ করে দিয়েছিল। কান মুলে হাইকোর্ট থেকে অর্ডার নিয়ে এসে আদায় করেছি। তাই এই সমস্ত বড় বড় কথা বলতে না বলেন। প্রধানমন্ত্রী অন্ন সুরক্ষা যোজনায় রেশন দেওয়া হচ্ছে। আমরা কখনও বলি না, বিজেপি দেয়। আমরা বলি, ভারত সরকার দেয় এবং মোদীজি এটা চালু করেছেন। ওটা বাপের টাকা না। জগদীশ বসুনিয়া এবার লুট করে জিতেছে। ও কি করে এবার সিতাই থেকে ওর বউকে জেতায়, আমি দেখব।”