প্রিয়বন্ধু মিডিয়া রিপোর্ট-একুশে জুলাইয়ের শহীদ দিবসের ঠিক আগের মুহূর্তে বাংলার রাজনীতিতে ঘটে গেল এক নজিরবিহীন ও ভয়ঙ্কর বিস্ফোরণ! তৃণমূল কংগ্রেসের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের বিরুদ্ধে সরাসরি “সুপারি দিয়ে খুন করানো” এবং “খুনি” হওয়ার মতো মারাত্মক অভিযোগ তুললেন কামারহাটির বিধায়ক মদন মিত্র। সম্প্রতি তৃণমূলের ক্ষমতা হারানোর পর মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের শিবির ছেড়ে নবগঠিত বিদ্রোহী ‘ঋতব্রত-তৃণমূল’ শিবিরে যোগ দেওয়া এই বর্ষীয়ান নেতা নিজের ফেসবুক লাইভে এসে যেভাবে অভিষেককে আক্রমণ করেছেন, তাতে রাজ্য রাজনীতির অন্দরমহল পুরোপুরি কেঁপে উঠেছে।

লাইভে এসে কোনো রাখঢাক না রেখেই মদন মিত্র সরাসরি অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়কে লক্ষ্য করে বলেন, “অভিষেক আপনি তো ক্রিমিনাল, খুনি। আপনি তো পয়সা দিয়ে মার্ডার করান।” তিনি আরও যোগ করেন যে অভিষেক সুপারি দিয়ে মানুষ খুন করান এবং তাঁর মানসিকতাই অপরাধমূলক। ডায়মন্ড হারবারের সাংসদকে স্পষ্ট হুঁশিয়ারি দিয়ে মদন মিত্র জানান, তাকে চমকে-ধমকে কোনো লাভ নেই। ডায়মন্ড হারবারে অভিষেক যাকে খুশি চমকাতে পারেন, কিন্তু মদন মিত্র এসব পরোয়া করেন না, কারণ কদিন আগেই তাঁর ওপরও প্রাণঘাতী হামলার চেষ্টা হয়েছিল।

একুশে জুলাইয়ের সভার ঠিক আগেই এই লাইভে ভবানীপুর নিয়ে এক ভয়ঙ্কর দাবি করেছেন মদন মিত্র। তিনি বলেন, ২১ তারিখ সকালে ভবানীপুরে দুটি মিছিল বেরোবে—একটি মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের এবং অন্যটি বিজেপি শিবিরের। মদন মিত্রের হুঁশিয়ারি, “আমি মমতারও নই, আমি কারও নই। কিন্তু ওটা চিফ মিনিস্টারের বিধানসভা। ওখানে ঝামেলা হলে কিন্তু গোলাগুলি চলবে, সাবধান করে দিলাম।”

দলের শীর্ষ নেতৃত্বের প্রতি ক্ষোভ উগরে দিয়ে মদন মিত্র জানান, “শহীদদের আসন নিচে আর সেলিব্রিটিরা ওপরে বসলে” তাঁর তীব্র আপত্তি রয়েছে। তাঁর দাবি, অভিষেকের অহংকার এবং ব্যবহারের কারণেই দল আজ ক্ষমতা হারিয়েছে এবং অনেকেরই দম বন্ধ হয়ে আসছিল। রাজনৈতিক বিশেষজ্ঞদের মতে, ক্ষমতাচ্যুত হওয়ার পর যখন এমনিতেই তৃণমূলের অন্দরে আড়াআড়ি ফাটল ধরেছে, ঠিক সেই সময়ে ২১শে জুলাইয়ের মতো একটি আবেগঘন দিনের আগে দলেরই এক প্রবীণ নেতার মুখে অভিষেকের বিরুদ্ধে এমন “খুন ও সুপারি” দেওয়ার বিস্ফোরক অভিযোগ দলটিকে আরও বড় কোণঠাসা পরিস্থিতিতে ফেলে দিল। এই চাঞ্চল্যকর লাইভের পর অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের তরফ থেকে কী আইনি বা রাজনৈতিক পদক্ষেপ আসে, এখন সেটাই দেখার।