প্রিয়বন্ধু মিডিয়া রিপোর্ট-পুরনিয়োগ দুর্নীতি মামলায় নিজের পরিবার ইডি (ED)-র স্ক্যানারে আসতেই এবার চরম নাটকীয় মোড় বাংলার রাজনীতিতে! মঙ্গলবার গভীর রাতে এন্টালির তৃণমূল বিধায়ক তথা বিদ্রোহী ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায় শিবিরের অন্যতম হেভিওয়েট সদস্য সন্দীপন সাহার বাড়িতে আচমকাই হাজির হলেন কামারহাটির বিধায়ক মদন মিত্র। রাত সাড়ে দশটা নাগাদ মদন মিত্রের এই অতর্কিত সফর ঘিরে ইতিমধ্যেই রাজ্য রাজনীতিতে তীব্র শোরগোল পড়ে গিয়েছে। রাজনৈতিক মহলের জল্পনা, তবে কি এবার দলনেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের পাশ থেকে সরে বিদ্রোহী শিবিরে নাম লেখাতে চলেছেন মদন?
সূত্রের খবর, মঙ্গলবার রাতেই পুরনিয়োগ দুর্নীতি মামলায় মদন মিত্রের স্ত্রী ও দুই পুত্রকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য নোটিস পাঠায় এনফোর্সমেন্ট ডিরেক্টরেট (ED)। আর সেই নোটিস পৌঁছনোর কিছুক্ষণের মধ্যেই সোজা সন্দীপন সাহার বাড়ির দরজায় গিয়ে কড়া নাড়েন মদন। তবে দুর্ভাগ্যবশত, সেই সময় সন্দীপন সাহা নিজে বাড়িতে উপস্থিত ছিলেন না। দেখা না পেয়ে ফোনেও যোগাযোগের চেষ্টা করেন মদন, কিন্তু সেই চেষ্টাও ব্যর্থ হয়।
শেষমেশ বাড়িতে থাকা সন্দীপনের বাবা তথা এন্টালির প্রাক্তন বিধায়ক স্বর্ণকমল সাহার সঙ্গে প্রায় ১৫ মিনিট একান্তে রুদ্ধদ্বার বৈঠক করেন মদন মিত্র। দীর্ঘদিন ধরে পরিবহণ সংগঠনে একসঙ্গে কাজ করার সুবাদে স্বর্ণকমল বাবুর সঙ্গে মদনের পুরনো ঘনিষ্ঠতা রয়েছে। সন্দীপন কখন ফিরবেন, তা স্বর্ণকমল বাবুর কাছে জানতে চাইলেও কোনো সদুত্তর পাননি তিনি। এই ঝটিকা সফর নিয়ে সংবাদমাধ্যমের সামনে মুখ না খুললেও মদন মিত্রের এই পদক্ষেপ যে অত্যন্ত অর্থবহ, তা নিয়ে কোনো সন্দেহ নেই।
২০২৬ সালের বিধানসভা নির্বাচনে তৃণমূল ক্ষমতাচ্যুত হওয়ার পর থেকেই দল কার্যত আড়াআড়ি দু’ভাগে বিভক্ত হয়ে গিয়েছে। উলুবেড়িয়া পূর্বের বিধায়ক ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়ের নেতৃত্বাধীন বিদ্রোহী শিবিরে ইতিমধ্যেই যোগ দিয়েছেন ফিরহাদ হাকিম, চন্দ্রিমা ভট্টাচার্য, অরূপ বিশ্বাস, ও অনুব্রত মণ্ডলের মতো দলনেত্রীর একসময়ের সবচেয়ে বিশ্বস্ত সেনাপতিরা। এই মহাসংকটের মধ্যেও কুণাল ঘোষ ও মদন মিত্রের মতো হাতে গোনা কয়েকজন পুরনো বিধায়কই ছিলেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের শেষ ভরসা। কিন্তু ইডি-র চাপ আসতেই মদন মিত্রের এই ‘বিদ্রোহী’ সন্দীপনের বাড়ির দিকে পা বাড়ানো কালীঘাট শিবিরের রক্তচাপ যে কয়েক গুণ বাড়িয়ে দিল, তা বলাই বাহুল্য।
কেন্দ্রীয় এজেন্সির সাঁড়াশি আক্রমণ থেকে বাঁচতেই কি মদনের এই ‘শিবির বদল’-এর মরিয়া চেষ্টা, নাকি এর পেছনে লুকিয়ে রয়েছে অন্য কোনো বড় রাজনৈতিক চাল? এখন সেই দিকেই নজর রয়েছে গোটা বাংলার।