প্রিয়বন্ধু মিডিয়া রিপোর্ট-বাঙালির শ্রেষ্ঠ উৎসব দুর্গাপুজোকে কেন্দ্র করে বিগত তৃণমূল জমানার অলীক ও চেনা ভাঁড়ামির সংস্কৃতিকে চিরতরে বিদায় জানিয়ে এক ঐতিহাসিক অধ্যায়ের সূচনা করল পশ্চিমবঙ্গের নতুন বিজেপি সরকার। আজ, শনিবার (১০ অক্টোবর ২০২৬) মহালয়ার পুণ্যলগ্নে দেবীপক্ষের সূচনাই শুধু হলো না, কলকাতার বুকে আয়োজিত হলো পুজো উদ্বোধনের এক নজিরবিহীন ও রাজকীয় মেগা ইভেন্ট। আজ বিকেল ঠিক ৫টায় কলকাতার ঐতিহ্যবাহী ইডেন গার্ডেন্স স্টেডিয়ামে এই মেগা উৎসবের আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করতে চলেছেন রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। বিগত সরকারের আমলে মহালয়ার বহু আগে থেকেই খেয়ালখুশি মতো যত্রতত্র ফিতে কেটে পুজোর গরিমা নষ্ট করার যে অপসংস্কৃতি তৈরি হয়েছিল, তাকে পুরোপুরি বন্ধ করে এবার সম্পূর্ণ শাস্ত্রসম্মত উপায়ে দেবীপক্ষেই পুজোর সূচনা করার কড়া বার্তা দিলেন মুখ্যমন্ত্রী।

প্রশাসনিক ও সংস্কৃতি দফতর সূত্রে খবর, আজকের এই মেগা ইভেন্টকে কেন্দ্র করে তিলোত্তমার রাজপথ থেকে শুরু করে ইডেন স্টেডিয়াম—সবটাই যেন এক স্বর্গীয় রূপে সেজে উঠেছে। দুপুরের পর থেকেই কলকাতার বিখ্যাত রেড রোড চত্বরে তৈরি হয়েছে এক অভূতপূর্ব উৎসবের আবহ। রেড রোডের দুধারে বসেছে বাংলার বিভিন্ন জেলার কৃষ্টি ও ঐতিহ্যের চোখ ধাঁধানো স্টল। সেখানে বীরভূম, বাঁকুড়া, পুরুলিয়া থেকে শুরু করে উত্তরবঙ্গের লোকশিল্পীদের অনবদ্য সাংস্কৃতিক পরিবেশনা ইতিমধ্যেই মুগ্ধ করেছে সাধারণ মানুষকে। বিকেল গড়াতেই এই উৎসবের মূল কেন্দ্রবিন্দু স্থানান্তরিত হচ্ছে ইডেন গার্ডেন্সে। বর্ণাঢ্য শোভাযাত্রা সহকারে রেড রোড থেকে খোলা জিপে চেপে ইডেন গার্ডেন্সে পৌঁছবেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী এবং রাজ্যের সম্মানীয় রাজ্যপাল। এই প্রথমবার খেলাধুলার গণ্ডি ছাড়িয়ে ইডেনের সবুজ গালিচায় তিল ধারণের জায়গা নেই বাঙালির এই মেগা ইভেন্টের জন্য।

আজকের ইডেনের অনুষ্ঠানটি কেবল পুজো উদ্বোধন নয়, এটি আদতে আন্তর্জাতিক স্তরে বাংলার সংস্কৃতিকে তুলে ধরার এক মেগা শোপিস। স্টেডিয়াম চত্বরে হাজির হয়েছেন রাজ্যের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে আসা প্রায় ৩,০০০ ঐতিহ্যবাহী ঢাকি। একছন্দে তিন হাজার ঢাকের গুরুগুরু আওয়াজ, ১,০০০ মহিলার সমবেত উলুধ্বনি এবং ৪,০০০ শঙ্খের পবিত্র আওয়াজে কেঁপে উঠতে চলেছে ইডেনের আকাশ-বাতাস। সন্ধ্যা নামতেই আকাশের বুক কাঁপিয়ে শুরু হবে অত্যাধুনিক ৩ হাজার ড্রোনের রঙিন আলো এবং থ্রি-ডি প্রোজেকশন ম্যাপিং। ড্রোনের ত্রিমাত্রিক আলোয় আকাশের বুকেই ফুটে উঠবে মা দুর্গার মহিষাসুরমর্দিনী রূপ। সাংস্কৃতিক মঞ্চ আলো করে সঙ্গীত পরিবেশন করবেন শান, কৌশিকী চক্রবর্তী, লগ্নজিতা এবং অন্তরা মিত্রের মতো প্রথিতযশা শিল্পীরা। এই মেগা মঞ্চ থেকেই মুখ্যমন্ত্রী রিমোট কন্ট্রোলের মাধ্যমে একযোগে রাজ্যের বিভিন্ন প্রান্তের পুজো কমিটিগুলির উৎসবের সূচনা করবেন।

বিগত তৃণমূল সরকারের আমলে রেড রোডে আয়োজিত হওয়া পুজো পরবর্তী ‘কার্নিভাল’ ও সেখানে এক বিশেষ পরিবারের চাটুকারিতার যে নোংরা রাজনীতি চলত, তাকে বর্তমান সরকার পুরোপুরি বাতিল করে দেওয়ায় সাধুবাদ জানিয়েছে সচেতন সমাজ। নেটিজেনদের একাংশের স্পষ্ট দাবি—তৃণমূল জমানার পুজো মানেই ছিল তোলাবাজি, ক্লাবগুলিকে কাটমানির লোভ দেখানো আর মহালয়ার ১০ দিন আগে থেকেই দেবীর অসময়ে আবাহন করে সনাতন শাস্ত্রকে বুড়ো আঙুল দেখানো! আজকের এই রাজকীয় ও সুশৃঙ্খল আয়োজন প্রমাণ করে দিল যে বাংলায় এবার শুধু রাজনৈতিক পরিবর্তনই হয়নি, বরং বাঙালির শ্রেষ্ঠ উৎসবের হারিয়ে যাওয়া গরিমা ও সংস্কৃতিও সগৌরবে ফিরে এসেছে।