প্রিয়বন্ধু মিডিয়া রিপোর্ট-ভোটার তালিকা সংশোধন এবং ‘এসআইআর’ (SIR) সংক্রান্ত আইনি বিতর্কের আবহে এবার তৃণমূল সাংসদ মহুয়া মৈত্রের এক পোস্টকে কেন্দ্র করে রাজ্য রাজনীতিতে নজিরবিহীন তোলপাড় শুরু হলো। দেশের সর্বোচ্চ আদালতের একটি পর্যবেক্ষণকে সামনে রেখে রাজ্যের শীর্ষ আমলাদের নাম জড়িয়ে কৃষ্ণনগরের সাংসদের ‘কাকু-আঙ্কল’ কটাক্ষের পর এবার আর হাত গুটিয়ে বসে থাকার মুডে নেই নবান্ন। রাজনৈতিক মহলের দাবি, মহুয়া মৈত্রের এই ধরণের অহংকারী ও দায়িত্বজ্ঞানহীন আচরণের উপযুক্ত জবাব দিতে তাঁর বিরুদ্ধে এবার ফৌজদারি ও মানহানির জোড়া মামলা দায়েরের কড়া সিদ্ধান্ত নিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। ওয়াকিবহাল মহলের একাংশের মতে, আইন ও যুক্তির লড়াইয়ে বারবার পরাস্ত হয়ে এখন প্রশাসনের শীর্ষ আধিকারিকদের চরিত্রহনন করে সস্তা প্রচারের আলোয় আসাই তৃণমূল সাংসদের মজ্জাগত অভ্যাসে পরিণত হয়েছে।

সম্প্রতি নিজের এক্স (সাবেক টুইটার) হ্যান্ডেলে রাজ্যের বর্তমান মুখ্যসচিব মনোজ কুমার আগরওয়াল এবং মুখ্যমন্ত্রীর প্রধান পরামর্শদাতা তথা অভিজ্ঞ প্রাক্তন আইএএস সুব্রত গুপ্তর ছবি পোস্ট করেন মহুয়া মৈত্র। সেখানে কোনও সুনির্দিষ্ট তথ্যপ্রমাণ ছাড়াই অত্যন্ত কুরুচিকর এবং হালকা সুরে তিনি লেখেন, “সুব্রত কাকু আর মনোজ আঙ্কল, সতর্ক হোন, গোটা দেশ আসছে।” পর্যবেক্ষকদের একাংশের দাবি, দেশের একজন শীর্ষ আইনপ্রণেতা এবং সাংসদ হয়েও রাজ্যের সর্বোচ্চ প্রশাসনিক পদে আসীন আধিকারিকদের এভাবে ব্যক্তিগত স্তরে আক্রমণ ও উপহাস করা সুস্থ গণতন্ত্রের পরিপন্থী। এটা আদতে রাজনৈতিক দেউলিয়াপনা এবং সস্তা পাবলিসিটি স্টান্ট ছাড়া আর কিছুই নয়।

মহুয়া মৈত্রের এই বিতর্কিত পোস্টের পরেই তড়িৎগতিতে কড়া পদক্ষেপ নিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। প্রশাসনের নিরপেক্ষতা বজায় রাখতে এবং আধিকারিকদের মনোবল ধরে রাখতে শুভেন্দুর এই ভূমিকা রাজনৈতিক মহলে দারুণভাবে প্রশংসিত হচ্ছে। সূত্রের খবর, মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী স্পষ্ট ও দৃঢ় ভাষায় জানিয়েছেন: মহুয়া মৈত্রের এই অত্যন্ত অপমানজনক এবং উদ্দেশ্যপ্রণোদিত পোস্টের বিরুদ্ধে সুনির্দিষ্ট আইনি ধারায় ‘ক্রিমিনাল’ (Criminal) এবং ‘ডিফেমেশন’ (Defamation)—এই দুই মামলা দায়ের করা হচ্ছে। মুখ্যমন্ত্রী সাফ জানিয়েছেন, সম্পূর্ণ ব্যক্তিগত আক্রোশ ও নোংরা মানসিকতা থেকে এই সরকারি আধিকারিকদের চরিত্রহননের অপচেষ্টা চালানো হচ্ছে। নির্বাচনী বা প্রশাসনিক প্রক্রিয়া সম্পূর্ণ আইন মেনে স্বশাসিতভাবে কাজ করে, সেখানে কোনও আধিকারিককে এভাবে প্রকাশ্যে হুমকি দেওয়া আইনত দণ্ডনীয় অপরাধ। রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, শুভেন্দু অধিকারীর এই আপসহীন ও কড়া অবস্থান প্রমাণ করে দিল যে, বাংলায় আর ‘কুৎসার’ রাজনীতি বরদাস্ত করা হবে না। প্রশাসনের অভিভাবক হিসেবে অত্যন্ত সঠিক সময়ে যোগ্য চাবুকটি মেরেছেন মুখ্যমন্ত্রী।

শুভেন্দু অধিকারীর আইনি চাবুকের পাশাপাশি মহুয়া মৈত্রের এই সস্তা ‘কাকু’ বাণের অত্যন্ত মার্জিত কিন্তু কড়া জবাব দিয়েছেন খোদ মুখ্যমন্ত্রীর প্রধান পরামর্শদাতা সুব্রত গুপ্তও। তীব্র কটাক্ষ করে তিনি বলেন, “আমার যে এমন কোনো ভাইঝি আছে তা আমার জানাই ছিল না। উনি আমার সঙ্গে এই নতুন আত্মীয়তার সম্পর্ক তৈরি করার জন্য ওনাকে ধন্যবাদ।” তিনি আরও মনে করিয়ে দেন যে, দেশের সর্বোচ্চ আদালতের নির্দেশ এবং কলকাতা হাইকোর্টের কড়া নজরদারিতেই বাংলায় সম্পূর্ণ স্বচ্ছ উপায়ে প্রশাসনিক কাজ সম্পন্ন হয়েছে। কোনো প্রমাণ ছাড়া এভাবে কুৎসা ছড়ানো আদতে আইনের শাসনকে বুড়ো আঙুল দেখানোর শামিল। ক্ষোভ প্রকাশ করে কড়া আইনি ব্যবস্থার কথা জানিয়েছেন খোদ মুখ্যসচিব মনোজ কুমার আগরওয়ালও। সব মিলিয়ে, প্রশাসনের ওপর অনৈতিক চাপ তৈরি করতে গিয়ে মহুয়া মৈত্র নিজেই এখন আইনি জালে জড়িয়ে পড়তে চলেছেন বলে মনে করছে রাজনৈতিক ওয়াকিবহাল মহল। শুভেন্দু অধিকারীর এই কড়া মনোভাব স্পষ্ট করে দিল যে, নতুন সরকারের জমানায় কুৎসার রাজনীতি করলে পার পাওয়ার কোনো সুযোগ নেই।