প্রিয়বন্ধু মিডিয়া রিপোর্ট-বিদেশ সফর বা সংসদীয় বিতর্ক— বারবার খবরের শিরোনামে আসা তৃণমূল কংগ্রেস সাংসদ মহুয়া মৈত্র এবার এক নজিরবিহীন পরিস্থিতির সম্মুখীন হলেন। একটি বেসরকারি বিমানের ভেতরে সহযাত্রীদের একাংশের প্রবল বিক্ষোভ ও স্লোগানের মুখে পড়লেন তিনি। এই ঘটনার ভিডিও সোশ্যাল মিডিয়ায় ভাইরাল হতেই রাজনৈতিক মহলে শোরগোল পড়ে গিয়েছে।
জানা গিয়েছে, দিল্লিগামী ওই বিমানে মহুয়া মৈত্র যখন তাঁর আসনে বসছিলেন, তখনই বিমানে উপস্থিত বেশ কিছু যাত্রী তাঁকে লক্ষ্য করে স্লোগান দিতে শুরু করেন। যাত্রীদের একাংশকে “চোর চোর” এবং “জয় শ্রীরাম” ধ্বনি দিতে শোনা যায়। পরিস্থিতি এমন পর্যায়ে পৌঁছায় যে বিমানের ভেতরই প্রবল শোরগোল শুরু হয়। অবতরণের সময় দিল্লি বিমানবন্দরেও একই পরিস্থিতির পুনরাবৃত্তি ঘটে বলে অভিযোগ।
এই ঘটনা নিয়ে ইতিমধ্যেই দু’টি ভিন্ন মত উঠে আসছে। মহুয়া মৈত্র নিজে এই ঘটনার ভিডিও শেয়ার করে ক্ষোভ উগড়ে দিয়েছেন। তাঁর দাবি, এটি সাধারণ মানুষের স্বতঃস্ফূর্ত ক্ষোভ নয়, বরং পরিকল্পিতভাবে তাঁকে হেনস্থা করা হয়েছে। তিনি একে ‘বিজেপির সংস্কৃতি’ বলেও আক্রমণ শানিয়েছেন।
অন্যদিকে, রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের একাংশের মতে, সাম্প্রতিক কালে সংসদ থেকে বহিষ্কার বা বিভিন্ন দুর্নীতির অভিযোগে তৃণমূলের বিরুদ্ধে মানুষের যে দীর্ঘদিনের পুঞ্জীভূত ক্ষোভ রয়েছে, এটি তারই বহিঃপ্রকাশ। বিশেষ করে ২০২৬-এর নির্বাচন পরবর্তী পরিস্থিতিতে তৃণমূল নেতাদের জনসমক্ষে আসার ক্ষেত্রে যে অস্বস্তির পরিবেশ তৈরি হয়েছে, এই ঘটনা তারই একটি জ্বলন্ত উদাহরণ।
সোশ্যাল মিডিয়ায় ভিডিওটি ঝড়ের গতিতে ছড়িয়ে পড়লেও, বিমানের নিরাপত্তা বিঘ্নিত হওয়া নিয়ে প্রশ্ন তুলছেন অনেকে। মহুয়া মৈত্র এই ঘটনার জন্য বিজেপিকে কাঠগড়ায় তুললেও, বিজেপি নেতৃত্বের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, সাধারণ মানুষ কাকে কীভাবে অভ্যর্থনা জানাবে বা কার প্রতি ঘৃণা প্রকাশ করবে, তা তাদের ব্যক্তিগত বিষয়। এর সঙ্গে দলের কোনও প্রত্যক্ষ যোগ নেই। বিতর্ক যার পিছু ছাড়ে না, সেই মহুয়া মৈত্র এবার বিমানে এই অভিজ্ঞতার পর পরবর্তী কী পদক্ষেপ নেন, এখন সেটাই দেখার।