প্রিয়বন্ধু মিডিয়া রিপোর্ট-বাংলায় ভরাডুবির পর এবার কি সোজা দিল্লির নিরাপদ আশ্রয়ের খোঁজে মরীচিকার পিছনে ছুটছেন তৃণমূল সুপ্রিমো মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়? রাজনৈতিক মহলে এখন একটাই সবচেয়ে বড় চর্চার বিষয়— লোকসভায় পা রাখতে এবং সংসদে নিজের আসন পাকা করতে এবার নাকি মুর্শিদাবাদ জেলার বহরমপুর কেন্দ্রটিকে বেছে নেওয়ার মরিয়া ছক কষছে তৃণমূলের শীর্ষ নেতৃত্ব। গেরুয়া শিবিরের তীব্র কটাক্ষ, রাজ্যে ক্ষমতা হারানোর পর এবং দলের অন্দরে প্রায় ৬০ জন বিধায়কের নজিরবিহীন বিদ্রোহের মুখে পড়ে খোদ প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী এখন চরম অস্তিত্ব সংকটে ভুগছেন। আর সেই কারণেই নাকি নিরাপদ আসন হিসেবে বেছে নেওয়া হচ্ছে বহরমপুরকে, যেখানে ৫০ শতাংশের বেশি সংখ্যালঘু ভোটার রয়েছেন। নিজের গড় কালীঘাট যেখানে আজ সম্পূর্ণ অনিরাপদ, সেখানে দাঁড়িয়ে কিস্তিমাত করতে আবার সেই চেনা সংখ্যালঘু ভোটব্যাঙ্ককে ঢাল বানানোর সস্তা রাজনীতি নিয়ে সামাজিক মাধ্যমেও সমালোচনা শুরু হয়েছে।
একটি জাতীয় স্তরের সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদনে চাঞ্চল্যকর দাবি করা হয়েছিল যে, দিদির এই দিল্লি যাত্রার রাস্তা পরিষ্কার করতে নাকি দাবার চাল হিসেবে ব্যবহার করার চেষ্টা হয়েছিল খোদ মহারাজকে। দাবি করা হয়, বহরমপুরের বর্তমান তৃণমূল সাংসদ ইউসুফ পাঠানকে যেন বুঝিয়ে-সুঝিয়ে পদত্যাগ করানো হয়, তার জন্য মধ্যস্থতাকারী বা ‘মিডিয়েটর’ করা হয়েছিল সৌরভ গাঙ্গুলীকে। কিন্তু সেই জল্পনা সামনে আসতেই শুরু হয়েছে তীব্র বিতর্ক। তবে এই খবর ছড়িয়ে পড়তেই চরম অস্বস্তিতে পড়েছে জোড়াফুল শিবির। সংশ্লিষ্ট দুই তারকা ব্যক্তিত্বই এই খবরকে সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন ও অবাস্তব বলে উড়িয়ে দিয়েছেন। সৌরভ গাঙ্গুলী প্রেস বিবৃতি দিয়ে এই খবরকে ‘সত্যের চরম অবমাননা’ বলে উড়িয়ে দিয়েছেন। মহারাজ সাফ জানিয়েছেন, তিনি কোনোদিন কোনো রাজনৈতিক মধ্যস্থতায় ছিলেন না, আর থাকবেনও না। অন্যদিকে বহরমপুরের সাংসদ ইউসুফ পাঠানও ভিডিও বার্তা প্রকাশ করে এই খবরকে ভুয়ো বলে উড়িয়ে দিয়েছেন। তিনি স্পষ্ট জানিয়েছেন, দল বা মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের তরফ থেকে তাঁকে এমন কোনো প্রস্তাব দেওয়া হয়নি, তিনি বহরমপুরের মানুষের পাশেই আছেন।
সৌরভ ও ইউসুফ এই দাবি পুরোপুরি অস্বীকার করলেও বিজেপি বিষয়টিকে হাতছাড়া করতে নারাজ। বিরোধী শিবিরের নেতাদের দাবি, বাংলায় নজিরবিহীন অভ্যন্তরীণ বিদ্রোহ এবং দলের চূড়ান্ত পতন থেকে জনগণের নজর ঘোরাতেই পিসির এই সংখ্যালঘু কার্ড খেলার মরিয়া চেষ্টা। কিন্তু নিজের দলের সাংসদ আর বাংলার মহারাজের স্পষ্ট অবস্থানের পর এই দিল্লির স্বপ্ন কি শুরুতেই মুখ থুবড়ে পড়ল? ভাবুন, ভাবা প্র্যাকটিস করুন।