প্রিয়বন্ধু মিডিয়া রিপোর্ট-২০২৬ সালের বিধানসভা নির্বাচনে বিপুল ধাক্কা খাওয়ার পর কেমন ছিল কালীঘাটের অন্দরমহলের ছবিটা? পরাজয়ের গ্লানি গ্রাস করতেই তৃণমূল সুপ্রিমো মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় কার শরণাপন্ন হয়েছিলেন? এতদিনে সেই রুদ্ধদ্বার ইতিহাসের এক চরম নাটকীয় অধ্যায় প্রকাশ্যে এনে তোলপাড় ফেলে দিলেন বীরভূমের অনুব্রত মণ্ডল। তাঁর দাবি, ভোটে বিপর্যয় স্পষ্ট হতেই তৃণমূল নেত্রী নাকি ব্যাকুল হয়ে তাঁকে একের পর এক মোট চারবার ফোন করেছিলেন!

বুধবার কলকাতার গোলপার্কে ‘ঋতব্রত তৃণমূল’-এর একুশে জুলাইয়ের প্রস্তুতি বৈঠকে যোগ দিতে এসে সংবাদমাধ্যমের সামনে বোমা ফাটান একদা মমতার পরম স্নেহভাজন ‘কেষ্ট’। নির্বাচনের ফলাফল প্রকাশের পর তাঁর ও মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের মধ্যে হওয়া সেই অতিগোপন ফোনালাপের খতিয়ান দিতে গিয়ে অনুব্রত বলেন, “ভোটে হারের পর মমতা আমাকে ৪ বার ফোন করেছিলেন।”

কিন্তু কেন ফোন করেছিলেন নেত্রী? আর ফোনের ওপার থেকে অনুব্রতই বা কী জবাব দিয়েছিলেন? সেই রহস্যের পর্দা সরিয়ে কেষ্ট আজ স্পষ্ট জানান, বিপর্যয়ের পর মমতা যখন তাঁর মতামত জানতে চান, তিনি সোজাসুজি দলনেত্রীকে বলে দিয়েছিলেন, যদি দলকে বাঁচাতে হয় তবে অবিলম্বে “অভিষেককে সরিয়ে নেওয়া বা তুলে নেওয়া হোক।” অনুব্রতর স্পষ্ট অভিযোগ, তৃণমূলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদকের উদ্ধত ও একনায়কতান্ত্রিক আচরণের জন্যই আজ রাজনৈতিকভাবে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের এই করুণ দশা হয়েছে।

রাজনৈতিক মহলের মতে, অনুব্রতর এই দাবি শুধু চাঞ্চল্যকরই নয়, বরং অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ। এতদিন মনে করা হতো জেল থেকে ফেরার পর দল অনুব্রতকে গুরুত্ব না দেওয়ায় তিনি ক্ষুব্ধ ছিলেন। কিন্তু আজকের এই খোলসা প্রমাণ করছে যে, ফাটল ধরেছিল অনেক গভীরে। নেত্রীর ‘চার চারবারের’ ফোন এবং অনুব্রতর তরফে অভিষেককে সরানোর আলটিমেটাম—সব মিলিয়ে ‘কালীঘাট-তৃণমূল’ এবং নবগঠিত ‘ঋতব্রত-তৃণমূল’-এর মধ্যকার এই লড়াই যে আগামী ২১শে জুলাইয়ের আগে আরও কুৎসিত রূপ নিতে চলেছে, তা বলাই বাহুল্য।