প্রিয়বন্ধু মিডিয়া রিপোর্ট-রাজ্যের মহিলাদের অন্যতম প্রধান সামাজিক প্রকল্প ‘অন্নপূর্ণা যোজনা’ নিয়ে এবার সরাসরি ময়দানে নামলেন তৃণমূল নেত্রী তথা রাজ্যের প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। সোমবার (২৪ আগস্ট ২০২৬) বিকেলে নিজের অফিসিয়াল ফেসবুক পেজ থেকে লাইভে এসে নবান্নের বর্তমান বিজেপি সরকারের বিরুদ্ধে তীব্র ক্ষোভ উগরে দেন তিনি। তাঁর স্পষ্ট অভিযোগ, প্রকল্পের স্ক্রুটিনির নামে মহিলাদের ধর্ম ও বর্ণ যাচাই করে বেছে বেছে এই প্রকল্পের টাকা দেওয়া হচ্ছে, যা বাংলার মা-বোনেদের সঙ্গে এক চরম প্রতারণা। রাজ্যে ক্ষমতা পরিবর্তনের পর বিগত তৃণমূল কংগ্রেস সরকারের ‘লক্ষ্মীর ভাণ্ডার’ প্রকল্পের নাম পরিবর্তন করে বিজেপি সরকার ‘অন্নপূর্ণা যোজনা’ চালু করেছিল। তবে সম্প্রতি বহু মহিলার নাম তালিকা থেকে বাদ যাওয়া এবং স্ক্রুটিনির কড়াকড়ি নিয়ে রাজ্যজুড়ে অসন্তোষ তৈরি হয়েছে। এই আবহেই সামাজিক মাধ্যমে মুখ খোলেন তৃণমূল সুপ্রিমো।

ফেসবুক লাইভে প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী অভিযোগ করেন, “লক্ষ্মীর ভাণ্ডার আমরা চালু করেছিলাম মা-বোনেদের স্বনির্ভর করতে, তখন জাত-ধর্মের কোনও ভেদাভেদ ছিল না। আর আজ কেন আমার রাজ্যের মেয়েরা অন্নপূর্ণা যোজনার টাকা পাচ্ছে না? আপনারা মানুষের জাত আর ধর্ম বিচার করছেন! এক মাস টাকা দেবেন, আবার তিন মাস দেবেন না! দেখে দেখে, বাছাবাছি করে অন্নপূর্ণা দেওয়া হচ্ছে।”

বিধানসভা নির্বাচনের আগে বিজেপির দেওয়া ইস্তাহারের কথা মনে করিয়ে দিয়ে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় বলেন, “নির্বাচনের আগে বিজেপি কর্মী এবং বিভিন্ন এজেন্সিরা বাড়ি বাড়ি গিয়ে টাকা দিয়ে ফর্ম ফিল আপ করিয়েছিল। প্রতিশ্রুতি দেওয়া হয়েছিল, বিজেপি ক্ষমতায় এলে কোনও শর্ত ছাড়াই অন্নপূর্ণা যোজনা দেওয়া হবে। তখন তো যোগ্য-অযোগ্য যাচাইয়ের এত নিয়মের কথা বলা হয়নি? আসলে ভোটের জন্য বাংলার মা-বোনেদের কেবল প্রতারিত করা হয়েছে।” তিনি আরও জানান, যোগ্য হওয়া সত্ত্বেও যে সমস্ত মহিলারা টাকা পাচ্ছেন না, তাঁদের পাশে দাঁড়িয়ে তৃণমূল কংগ্রেস আগামী দিনে নাম নথিভুক্তকরণের মাধ্যমে জোরালো আন্দোলন গড়ে তুলবে।

মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের এই গুরুতর এবং চাঞ্চল্যকর অভিযোগের পাল্টা জবাব দিতে দেরি করেনি নবান্ন। মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রীর অভিযোগ সম্পূর্ণ উড়িয়ে দিয়ে প্রকল্পের স্বচ্ছতার পক্ষে সওয়াল করেন। শুভেন্দু অধিকারী স্পষ্ট জানান, অন্নপূর্ণা যোজনায় কোনও রাজনৈতিক বা ধর্মীয় পক্ষপাতিত্বের প্রশ্নই ওঠে না।মুখ্যমন্ত্রী বলেন, “কী হয়েছে অন্নপূর্ণাতে? যাঁরা যোগ্য তাঁরাই পাবেন। ধর্ম-বর্ণ নিয়ে উনি কী ইঙ্গিত করতে চেয়েছেন তা পরিষ্কার। এখনও পর্যন্ত ১৯ লক্ষ ২০ হাজার মুসলিম উপভোক্তা এই প্রকল্পের সুবিধা পাচ্ছেন। যাঁরা আসলেই এই প্রকল্পের জন্য নিয়মানুযায়ী যোগ্য, তাঁরা প্রত্যেকেই পাচ্ছেন। বাছাবাছি উনি (মমতা) করতেন, আমরা তৃণমূল বা বিজেপি দেখে কাজ করি না।” সরকারি নিয়মে মৃত ব্যক্তি বা ভুয়া আবেদনকারীদের বাদ দিতেই এই যোগ্য-অযোগ্য যাচাই পর্ব চালানো হচ্ছে বলে প্রশাসনের তরফে জানানো হয়েছে।