প্রিয়বন্ধু মিডিয়া রিপোর্ট-নির্বাচনের পর রাজনৈতিক সমীকরণ বদলাতেই এবার খোদ তৃণমূল শিবিরের অন্দরের তীব্র কাজিয়া এবং নজিরবিহীন কোন্দল সম্পূর্ণ জনসমক্ষে চলে এলো। টিকিট বণ্টন এবং দলীয় অভ্যন্তরীণ বিতর্ককে কেন্দ্র করে এবার স্বয়ং মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় এবং তাঁর দলের একাধিক শীর্ষ নেতার বিরুদ্ধে সরাসরি আইনি নোটিস পাঠালেন বারাসাতের প্রবীণ নেত্রী কাকলি ঘোষ দস্তিদারের চিকিৎসক পুত্র বৈদ্যনাথ ঘোষ দস্তিদার। কুৎসা এবং রাজনৈতিক অপপ্রচারের অভিযোগে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়, কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায়, মহুয়া মৈত্র, সৌগত রায়ের ঠিকানায় সরাসরি এই আইনি নোটিস (Legal Notice) পাঠানো হয়েছে বলে সূত্রের খবর। রাজ্যে রাজনৈতিক ক্ষমতার রদবদলের পর তৃণমূলের অন্দরের এই নজিরবিহীন গৃহযুদ্ধকে ঘিরে এখন তীব্র চাঞ্চল্য তৈরি হয়েছে রাজ্য রাজনীতিতে।

ঘটনার সূত্রপাত বারাসাত আসনের বিধানসভা ভোটের টিকিটকে কেন্দ্র করে। অভিযোগ, বিদায়ী তৃণমূল শিবিরের একাংশের তরফ থেকে ক্রমাগত প্রচার করা হচ্ছিল যে, ড. বৈদ্যনাথ ঘোষ দস্তিদারকে বারাসাত থেকে প্রার্থী করার জন্য তাঁর মা কাকলি ঘোষ দস্তিদার দলের ওপর চাপ সৃষ্টি করছিলেন। টিকিট না পেয়েই নাকি কাকলি দেবী ‘বিদ্রোহী’ হয়ে উঠেছেন।এই প্রচারকে সম্পূর্ণ মিথ্যা এবং মানহানিকর বলে দাবি করেছেন চিকিৎসক বৈদ্যনাথ ঘোষ দস্তিদার। তাঁর স্পষ্ট দাবি, রাজনীতিতে আসার বা কোনো টিকিট পাওয়ার বিন্দুমাত্র ইচ্ছা তাঁর কোনোদিনই ছিল না। নোটিসে পাল্টা দাবি করা হয়েছে যে, আই-প্যাক (I-PAC) এবং স্থানীয় ছাত্র পরিষদ নেতা সোহম পালই উল্টে তাঁকে ভোটে দাঁড়ানোর জন্য বারবার চাপ সৃষ্টি করছিলেন।

আইনি নোটিসের মাধ্যমে এবার এই অপপ্রচারের বিরুদ্ধে কড়া অবস্থান নিয়েছেন কাকলি-পুত্র। তাঁর পাঠানো নোটিসে স্পষ্ট ভাষায় জানানো হয়েছে: আগামী ১৫ দিনের মধ্যে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়, কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায়, মহুয়া মৈত্রসহ অভিযুক্ত নেতাদের নিজেদের করা সমস্ত বক্তব্য প্রত্যাহার করতে হবে। ড. বৈদ্যনাথ ঘোষ দস্তিদারের সম্মানহানি করার জন্য এই নেতাদের জনসমক্ষে এসে নিঃশর্ত ক্ষমা চাইতে হবে। এই নির্ধারিত সময়ের মধ্যে অভিযুক্তরা ক্ষমা না চাইলে, তাঁদের বিরুদ্ধে কঠোর দেওয়ানি এবং ফৌজদারি (Civil and Criminal) মামলা দায়ের করা হবে বলে হুঁশিয়ারি দেওয়া হয়েছে।

বিশ্লেষকদের একাংশের মতে, বাংলায় রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর এবং নতুন সরকার গঠনের পর এখন সম্পূর্ণ দিশেহারা অবস্থা বিদায়ী তৃণমূল শিবিরের। ক্ষমতার অলিন্দ থেকে ছিটকে গিয়ে নেতারা এখন নিজেদের দলেরই প্রবীণ সাংসদের পরিবারের ওপরে কাদা ছড়াতে শুরু করেছেন। কিন্তু খোদ দলের অন্দর থেকেই মমতা-মহুয়াদের আইনি নোটিস পাঠিয়ে যেভাবে চ্যালেঞ্জ করা হলো, তা দলটির তথাকথিত ‘শৃঙ্খলা’ এবং অভ্যন্তরীণ ফাটলকেই স্পষ্টভাবে প্রমাণ করে।

(বি.দ্র: এই খবরটি সম্পূর্ণ ড. বৈদ্যনাথ ঘোষ দস্তিদারের পাঠানো আইনি নোটিস এবং তাঁর দাবির ওপর ভিত্তি করে লেখা হয়েছে। এই বিষয়ে অভিযুক্ত পক্ষ বা তৃণমূল শিবিরের কোনো আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া পাওয়া গেলে তা খবরের সাথে যোগ করা হবে।)