প্রিয়বন্ধু মিডিয়া রিপোর্ট-দেশের রাজধানী দিল্লিতে ১৬৩ ধারা ভেঙে বেআইনি জমায়েত করার অপরাধে আটক হওয়ার পর এক নজিরবিহীন ও চরম নাটুকে দৃশ্যের সাক্ষী থাকল গোটা দেশ। দিল্লির সাউথ অ্যাভিনিউতে নিজের বাসভবনের সামনে ধর্নায় বসার পর দিল্লি পুলিশের হাতে আটক হয়ে প্রিজন ভ্যানেই ফেসবুক লাইভ ও গানের আসর বসালেন পশ্চিমবঙ্গের প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী তথা তৃণমূল সুপ্রিমো মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। মহালয়ার পুণ্যলগ্নে প্রিজন ভ্যানে বসেই তিনি অবিকল বীরেন্দ্রকৃষ্ণ ভদ্রের সুরে গলা ছেড়ে গাইতে শুরু করেন, ‘আশ্বিনের শারদপ্রাতে… জাগো দুর্গা জাগো দশপ্রহরণধারিণী’। শুধু তাই নয়, ‘অ্যায় মেরে বতন কে লোগো’ এবং ‘উই শ্যাল ওভারকাম’ গান গাওয়ার পাশাপাশি ভ্যানের ভেতর থেকে স্লোগান ওঠে, ‘দেশ বাঁচান’। প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রীর প্রিজন ভ্যানের এই কাণ্ড সামনে আসতেই রাজনৈতিক মহলে ও সমাজমাধ্যমে তীব্র ধিক্কার ও সমালোচনার ঝড় উঠেছে। একে আন্দোলন নাকি ‘সস্তার পাবলিসিটি স্টান্ট’—তাই নিয়ে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে আক্ষরিক অর্থেই ধুয়ে দিয়েছে বিজেপি শিবির ও আমজনতা।
মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের প্রিজন ভ্যানের এই কীর্তি প্রকাশ্যে আসতেই রণংদেহী মেজাজে আসরে নেমেছে বিজেপি নেতৃত্ব। বিজেপির সর্বভারতীয় মুখপাত্র ও আইটি সেলের নেতারা এই ভিডিও শেয়ার করে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে তীব্র ভাষায় আক্রমণ শানিয়েছেন। বিজেপি নেতৃত্বের সাফ কথা, “দিল্লির বুকে এই তথাকথিত আন্দোলন যে কতটা গুরুত্বহীন এবং এটি যে স্রেফ একটি পূর্বপরিকল্পিত রাজনৈতিক প্রহসন বা নাটক ছিল, তা প্রিজন ভ্যানের ভেতরের দৃশ্যই প্রমাণ করে দেয়। দেশের আইন ভেঙে আটক হওয়ার পর পুলিশের গাড়িতে বসে গানের আসর জমানো কেবল মমতার পক্ষেই সম্ভব!” বিজেপির পক্ষ থেকে কটাক্ষ করে আরও বলা হয়েছে, “যখন বাংলায় একের পর এক দুর্নীতি আর নারী সুরক্ষার প্রশ্নে রাজ্য জ্বলছিল, তখন উনি নিশ্চুপ ছিলেন। আর আজ দিল্লিতে এসে সাজানো আন্দোলনের নামে প্রিজন ভ্যানকে রিয়্যালিটি শোর স্টেজ বানিয়ে সহানুভূতি কুড়ানোর সস্তা চেষ্টা করছেন। এই রাজনৈতিক ভাঁড়ামো দিল্লির মানুষ ধরে ফেলেছে।”
শুধু বিরোধী দলই নয়, প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রীর এই ‘প্রিজন ভ্যান কনসার্ট’ দেখে ক্ষোভে ফেটে পড়েছেন সাধারণ নেটিজেনরাও। সমাজমাধ্যমে এই ভিডিওর নিচে কমেন্টের বন্যা বয়ে গিয়েছে। কেউ লিখেছেন, “সাধারণ চোর-পকেটমার বা কোনো সাধারণ আন্দোলনকারীকে পুলিশ প্রিজন ভ্যানে তুললে কি এভাবে আয়েশ করে গান গাওয়ার এবং ক্যামেরা ডেকে পোজ দেওয়ার ভিআইপি কালচার মেলে?” আবার অনেকের খোঁচা, “আন্দোলন করার ন্যূনতম সিরিয়াসনেস বা কোনো নীতি নেই, আছে শুধু ক্যামেরার সামনে ভেসে থাকার মরিয়া চেষ্টা। এই গান আসলে পরাজয়ের হতাশা ঢাকার করুণ আকুতি।”
আজ মুখ্য নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমার ও নির্বাচন কমিশনের ভোটার তালিকা সংশোধন প্রক্রিয়া নিয়ে দিল্লির যন্তর মন্তরে সিজেপি (CJP)-র একটি বড়সড় বিক্ষোভ কর্মসূচির ডাক দেওয়া হয়েছিল। কিন্তু দিল্লির আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি বজায় রাখতে এবং বেআইনি জমায়েত রুখতে প্রশাসন কড়া নিষেধাজ্ঞা জারি করে। নিষেধাজ্ঞা অগ্রাহ্য করে সাউথ অ্যাভিনিউতে ধর্নায় বসা মাত্রই মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়, দোলােন, ডেরেক ও’ব্রায়েন এবং সাকেত গোখলে সহ তৃণমূলের শীর্ষ নেতৃত্বকে আটক করে প্রিজন ভ্যানে তোলে দিল্লি পুলিশ। বিজেপি সাফ জানিয়েছে, আইন সবার জন্য সমান। বাংলায় বিগত দিনে বিরোধীদের গণতান্ত্রিক আন্দোলন যেভাবে গায়ের জোরে, লাঠি উঁচিয়ে বা কেস দিয়ে দমন করা হতো, সেই স্বৈরাচারী মানসিকতার নেত্রী আজ দিল্লির পুলিশকে ‘গণতন্ত্র’ নিয়ে জ্ঞান দিচ্ছেন—এর চেয়ে বড় কৌতুক আর কিছুই হতে পারে না।