প্রিয়বন্ধু মিডিয়া রিপোর্ট-ক্ষমতা হারানোর পর একের পর এক কেলেঙ্কারি সামনে আসতেই চরম অস্বস্তিতে কালীঘাটের প্রাক্তন শাসক শিবির। এবার আর্থিক জালিয়াতি ও কোটি কোটি টাকা তছরুপের মামলায় অভিযুক্ত নিজের আপ্ত-সহায়ক (PA) সুমিত রায়ের খোঁজে আজ ভোররাতে তৃণমূলের প্রাক্তন সাংসদ অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের বাসভবনে হানা দিল পুলিশ। আর এই অভিযানের গতি রুখতে এবং তদন্তকারীদের ওপর মনস্তাত্ত্বিক চাপ সৃষ্টি করতেই সমস্ত প্রোটোকল ভেঙে ভাইপোর দরজায় ছুটে গেলেন প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়— এমনটাই চাঞ্চল্যকর দাবি তুলছে বর্তমান শাসক দল বিজেপি। সূত্রের খবর, পুলিশের এই ম্যারাথন তল্লাশির পুরো সাড়ে পাঁচ ঘণ্টাই বাড়ির ভেতরে ঠায় বসেছিলেন তিনি, যা নিয়ে রাজ্য রাজনীতিতে তীব্র পারদ চড়েছে।
পশ্চিম মেদিনীপুরের শালবনী থানার পুলিশ ও বিশাল কেন্দ্রীয় বাহিনী যখন আজ ভোররাত আনুমানিক ৩ টে নাগাদ সুনির্দিষ্ট তথ্যের ভিত্তিতে অভিষেকের কালীঘাটের বাসভবনে হানা দেয়, তার কিছুক্ষণের মধ্যেই সেখানে সশরীরে হাজির হন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। দীর্ঘ সাড়ে ৪ থেকে সাড়ে ৫ ঘণ্টা ধরে যখন বাড়ির ভেতরে তন্নতন্ন করে তল্লাশি উঠছিল, তখন বাইরে না এসে পুরো সময়টা ঘরের ভেতরেই কাটান প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী। বিজেপি শিবিরের অভিযোগ, অভিযুক্তকে আড়াল করতে এবং পুলিশকে এক প্রকার ভয় দেখাতেই প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রীর এই নজিরবিহীন পাহারা।
পুলিশ সূত্রে খবর, তদন্তে সহযোগিতা না করে ভেতর থেকে গেট বন্ধ করে রাখায়, শেষ পর্যন্ত আইনি প্রক্রিয়া মেনেই তালা ভাঙতে বাধ্য হয় পুলিশ। পুলিশ ও কেন্দ্রীয় বাহিনী তল্লাশি শেষ করে সকাল ৮ টার কিছু আগে বিদায় নিতেই সুর চড়ান পিসি-ভাইপো জুটি। অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় সাংবাদিকদের সামনে অভিযোগ করেন যে, জোরপূর্বক বাড়ির সমস্ত ঘরের তালা ভাঙা হয়েছে। যদিও বিজেপি শিবিরের পাল্টা দাবি, তদন্তে বাধা দিতে না পেরে এখন জনমানসে সহানুভূতি পাওয়ার জন্য ‘ভিকটিম কার্ড’ খেলছেন তাঁরা।
ক্ষমতাচ্যুত হওয়ার পর দিনকয়েক আগেই বিধায়কদের সই জাল করার মামলায় সিআইডি-র জেরার মুখে পড়তে হয়েছিল অভিষেককে। আর আজ সরাসরি তাঁর পিএ-র বিরুদ্ধে হওয়া আর্থিক প্রতারণার মামলার জেরে কালীঘাটের বাড়িতে এই হানা।বিজেপি ঘনিষ্ঠ রাজনৈতিক শিবিরের স্পষ্ট বার্তা— বাংলায় আর কোনো ‘পিসি-ভাইপোর সিন্ডিকেট’ বা আইনের ঊর্ধ্বে থাকা জমিদারী রাজ চলবে না। অপরাধের সাথে যুক্ত কাউকেই রেয়াত করা হবে না এবং আইন নিজের পথেই চলবে।