প্রিয়বন্ধু মিডিয়া রিপোর্ট-
২০২৬ সালের বিধানসভা নির্বাচন যত এগিয়ে আসছে, ততই আক্রমণাত্মক মেজাজে ধরা দিচ্ছে বিরোধী শিবির। আজ কলকাতার এক জনাকীর্ণ সাংবাদিক সম্মেলনে তৃণমূল সুপ্রিমো মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের বিরুদ্ধে কার্যত যুদ্ধ ঘোষণা করলেন অল ইন্ডিয়া মজলিস-ই-ইত্তেহাদুল মুসলিমিন (AIMIM) প্রধান আসাদউদ্দিন ওয়েইসি। পাশে ভরতপুরের বিধায়ক হুমায়ুন কবীরকে বসিয়ে ওয়েইসি এদিন মমতার ‘সুবিধাবাদী’ রাজনীতিকে কড়া ভাষায় আক্রমণ করেন, যা রাজ্য রাজনীতিতে নতুন বিতর্ক উস্কে দিয়েছে।

তৃণমূল নেত্রীর রাজনৈতিক অতীত এবং বিজেপির সাথে তাঁর পুরনো সম্পর্কের কথা মনে করিয়ে দিয়ে ওয়েইসি এদিন অত্যন্ত আক্রমণাত্মক মেজাজে ছিলেন। তিনি বলেন, “মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় একজন সুযোগ সন্ধানী নেত্রী। আজ তিনি নিজেকে বড় বিজেপি-বিরোধী দাবি করলেও ইতিহাস অন্য কথা বলে।” গোধরা কাণ্ডের সময়কার কথা স্মরণ করিয়ে দিয়ে ওয়েইসি বিস্ফোরক দাবি করেন, “যখন গোধরা জ্বলছিল, মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় তখন মোদীর সঙ্গে বসে ঢোকলা খাচ্ছিলেন।” ওয়েইসির এই মন্তব্য সরাসরি মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের এনডিএ জমানার মন্ত্রিত্ব এবং তৎকালীন বিজেপি নেতৃত্বের সাথে তাঁর সুসম্পর্কের দিকে আঙুল তুলেছে। তাঁর দাবি, ক্ষমতার স্বার্থে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় বারবার নিজের অবস্থান বদল করেছেন।

এদিন ওয়েইসি দাবি করেন যে, পশ্চিমবঙ্গে বিজেপির প্রবেশের পথ প্রশস্ত করেছেন খোদ মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ই। তাঁর মতে, যখন নিজের রাজনৈতিক স্বার্থ সিদ্ধির প্রয়োজন ছিল, তখন তিনি বিজেপির হাত ধরেছেন, আবার যখন সংখ্যালঘু ভোটের প্রয়োজন হয়েছে, তখন তিনি ধর্মনিরপেক্ষতার মুখোশ পরেছেন। ওয়েইসি প্রশ্ন তোলেন, যারা একসময় আরএসএস-কে ‘দেশপ্রেমিক’ সার্টিফিকেট দিয়েছিল, তারা আজ কোন মুখে সাম্প্রদায়িকতার বিরুদ্ধে লড়াই করার কথা বলে? তাঁর সাফ কথা, তৃণমূলের রাজনীতি আসলে কেবল ক্ষমতা দখলের একটি কৌশল। তিনি আরও বলেন, মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের নমাজ পড়া বা ধর্মীয় আচার পালন স্রেফ লোকদেখানো রাজনীতি ছাড়া আর কিছুই নয়।

সাংবাদিক সম্মেলনের সবথেকে গুরুত্বপূর্ণ অংশ ছিল ওয়েইসির পরবর্তী কর্মসূচি ঘোষণা। তিনি স্পষ্ট জানিয়ে দেন যে, লড়াই কেবল কথাতেই সীমাবদ্ধ থাকবে না। ওয়েইসি বলেন, “আমি আগামী ১লা এপ্রিল আবারও বাংলায় আসব। সেদিন হুমায়ুন সাহেব (হুমায়ুন কবীর) দুটি আসনে নিজের মনোনয়ন জমা দেবেন এবং আমি সশরীরে সেখানে উপস্থিত থাকব।” মনোনয়নপত্র জমা দেওয়ার পর বহরমপুরে একটি বিশাল যৌথ সভার ডাকও দিয়েছেন তাঁরা। এই ঘোষণা মালদহ ও মুর্শিদাবাদের মত সংখ্যালঘু প্রধান জেলাগুলিতে তৃণমূলের কপালে চিন্তার ভাঁজ ফেলেছে।

রাজনৈতিক বিশেষজ্ঞদের মতে, ওয়েইসি এবং হুমায়ুন কবীরের এই জোট মূলত তৃণমূলের একাধিপত্যে থাবা বসাতে চায়। হুমায়ুন কবীরের মত একজন বিধায়ককে পাশে পাওয়া ওয়েইসির জন্য বড় প্রাপ্তি, যা তৃণমূলের অন্দরেও ভাঙন ধরাতে পারে। ওয়েইসি এদিন সাফ জানিয়ে দেন, বাংলার মানুষ আর মমতার এই ‘সুবিধাবাদী’ রাজনীতিতে ভুলবে না। ১লা এপ্রিল ওবেসির পুনরায় বাংলায় আসা এবং হুমায়ুন কবীরের মনোনয়ন পেশ যে ২০২৬-এর নির্বাচনে এক বড় ‘ফ্যাক্টর’ হতে চলেছে, তা নিশ্চিত। এই যৌথ সাংবাদিক সম্মেলন থেকে ওবেসি-হুমায়ুন জুটি যে বার্তা দিল, তাতে শাসক দলের অন্দরে চাঞ্চল্য সৃষ্টি হয়েছে। এখন দেখার, ১লা এপ্রিলের সেই মেগা শো রাজ্য রাজনীতিতে কতটা বড় পরিবর্তন আনে।