প্রিয়বন্ধু মিডিয়া রিপোর্ট- একসময় পরিবর্তনের পথ প্রশস্ত করেছিল সিঙ্গুর। এই সিঙ্গুরে লড়াই আন্দোলনের মধ্যে দিয়ে বিগত বাম সরকারের বিদায়ের পালা নিশ্চিত করেছিল তৎকালীন শাসক দল তৃণমূল কংগ্রেস। তারপর মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় এবং তার দল ক্ষমতায় এলেও সিঙ্গুরের অবস্থার পরিবর্তন হয়নি। যেখানে শিল্প স্থাপন হওয়ার কথা ছিলো, এখন সেই কৃষি জমি শ্মশানে পরিণত হয়ে গিয়েছে। তাই সকলেই এই অবস্থার পরিবর্তন ঘটাতে চাইছেন। আর সেই কারণেই রাজ্যবাসী কাছে সিঙ্গুরে শিল্প হোক, এই স্বপ্নকে সামনে রেখে তৃণমূল সরকারকে বিদায় জানানোর আহ্বান জানাচ্ছেন বিজেপি নেতারা। গতকাল সেই সিঙ্গুরে ছিল প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর সভা। আর সেই সভাতেই বক্তব্য রাখতে গিয়ে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের ভ্রান্ত নীতি এবং সিঙ্গুরকে যে স্বপ্ন তিনি দেখিয়েছিলেন এবং যেভাবে তা ধ্বংসের দিকে নিয়ে গিয়েছেন, সেই কথা তুলে ধরলেন রাজ্য বিজেপি সভাপতি তথা সাংসদ শমীক ভট্টাচার্য।

গতকাল প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর সিঙ্গুরের সভার দিকে নজর ছিল সিঙ্গুর বাসীর তো বটেই, এমনকি গোটা রাজ্যবাসীর। এক সময় এই সিঙ্গুরে বাম সরকারের আমলে শিল্প স্থাপনের কথা ছিলো। টাটা গোষ্ঠী এসেছিল। কিন্তু শেষ পর্যন্ত মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের প্রতিবাদ এবং আন্দোলনের ফলে সেই প্রখ্যাত শিল্প গোষ্ঠীকে রাজ্য ছাড়তে হয়েছিল। এখন যে কৃষি জমিতে শিল্প হওয়ার কথা ছিলো, সেই কৃষি জমিতে না হচ্ছে চাষ, না হচ্ছে শিল্প। ফলে সিঙ্গুরের কৃষক থেকে শুরু করে সাধারণ মানুষরা একসময় মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের পাল্লায় পড়ে যে ক্ষতি করেছেন, তা থেকে এখন বের হয়ে এসে রাজ্যে পরিবর্তন করে শিল্প স্থাপনের বিষয়টি নিশ্চিত করতে চাইছেন। আর গতকাল সেই সিঙ্গুরে প্রধানমন্ত্রী যখন এসেছিলেন, তখন নিশ্চয়ই তিনি শিল্প স্থাপনের ব্যাপারে কোনো ইঙ্গিত পূর্ণ বার্তা দেবেন, এমনটাই সকলে আশা করেছিলেন। তবে প্রধানমন্ত্রীর বক্তব্যের আগেই রাজ্যে শিল্প স্থাপনের বার্তা দিয়ে সিঙ্গুরের যে ক্ষতি মুখ্যমন্ত্রী করেছেন, তা তুলে ধরে রাজ্যের শাসক দলকে কড়া ভাষায় আক্রমণ করলেন রাজ্য বিজেপির সভাপতি।

এদিন সিঙ্গুরের সভায় বক্তব্য রাখতে গিয়ে রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রীকে কড়া ভাষায় আক্রমণ করেন রাজ্য বিজেপির সভাপতি শমীক ভট্টাচার্য। তিনি বলেন, “আমাদের সমুদ্র আছে, আমাদের নদী আছে। আমাদের মেধা আছে, আমাদের টাকা আছে। আমাদের সিঙ্গুরে জমি আছে। এখানে কৃষক জমি ফেরত পেয়েছে। কিন্তু জমি তার ফসল ফেরত পায়নি। মুখ্যমন্ত্রী সর্ষের বীজ ছড়িয়ে দিয়েছিলেন। কিন্তু এখানকার মানুষ সর্ষের ফুল দেখেছেন। এখানকার মানুষ শিল্প চান, বিকাশ চান।”