প্রিয়বন্ধু মিডিয়া রিপোর্ট- কিছুদিন আগেই এই রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী সুপ্রিম কোর্টে গিয়ে বেশ কিছু কথা বলেছিলেন। আর সেটা নিয়ে একশ্রীর মিডিয়া এবং তৃণমূলের নেতা কর্মীরা বহাল তবিয়তে প্রচার করতে শুরু করেন যে, দেশে নাকি ইতিহাস তৈরি হয়ে গিয়েছে। কোনো মুখ্যমন্ত্রী নাকি এইভাবে আগে সুপ্রিম কোর্টে গিয়ে তার কথা বলেননি। তাই এটা মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় একটা যুগান্তকারী ঘটনা ঘটিয়ে দিয়েছেন। তবে তারপরেই সুপ্রিম কোর্টের অর্ডারকে সামনে এনে রাজ্যের বিরোধী দলনেতা বিধানসভার সামনে থেকে দাঁড়িয়ে দাবি করেছিলেন যে, এক শ্রেণীর সংবাদ মাধ্যম যতই মুখ্যমন্ত্রী ইতিহাস তৈরি করেছেন বলে প্রচার করার চেষ্টা করুন না কেন, সুপ্রিম কোর্টের অর্ডারে রেকর্ড হিসেবে তার কোনো নাম নেই। অর্থাৎ মুখ্যমন্ত্রী সওয়াল করেছেন, এর কোনো রেকর্ড সুপ্রিম কোর্ট কিন্তু দেখায়নি। স্বাভাবিক ভাবেই স্পষ্ট হয়ে গিয়েছিল যে, এই রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী যতই প্রচারের আলোয় নিজেকে নিয়ে আসার চেষ্টা করুন, বাস্তবটা একেবারেই ভিন্ন। আর আজ আবারও তমলুক থেকে সাংবাদিক বৈঠকে সেই বিষয়টি তুলে ধরে রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রীর এই সুপ্রিম কোর্টে যাওয়া এবং সেখানে বেশ কিছু বিষয় তুলে ধরে নিজেকে প্রচারের আলোয় আনার চেষ্টা করাকে পাল্টা প্রশ্নের মুখে ফেলে দিলেন বিরোধী দলনেতা।
এই রাজ্যের কিছু অনুপ্রাণিত মিডিয়া রয়েছে, যারা কথায় কথায় মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে হাইলাইট করার চেষ্টা করেন। সেই রকমই মুখ্যমন্ত্রী সুপ্রিম কোর্টে যাচ্ছেন, মানুষের কথা তুলে ধরছেন, এইরকম প্রচার তারা করতে শুরু করেছিলেন। এমনকি দেশের ইতিহাসে এটা যুগান্তকারী ঘটনা, ঐতিহাসিক ঘটনা হলেও তারা তৃণমূলের মতই দিনভর সেই খবর পরিবেশন করতে শুরু করেন। পরবর্তীতে দেখা যায় যে, আদালতে মুখ্যমন্ত্রী যখন তার কথা বলছেন, তখন বিচারপতি তাকে জানিয়ে দেন যে, আপনার আইনজীবী তো আছেন। তিনিই যথেষ্ট দক্ষ। কিন্তু তারপরেও মুখ্যমন্ত্রী তার কথা বলতে শুরু করেন। যার ফলে বিরোধীরা বলছেন যে, বিচারপতি ভদ্র ভাষায় মুখ্যমন্ত্রীকে না বলে তার আইনজীবী যথেষ্ট দক্ষ বলে বুঝিয়ে দিলেও, এই রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রীর লজ্জা বলতে কিছু নেই। তিনি তারপরেও তার কথা বলেই গিয়েছেন। যা অত্যন্ত দুর্ভাগ্যজনক বলেই খোঁচা দিয়েছেন তারা। আর আজ সাংবাদিক বৈঠক থেকে সেই কাগজ দেখিয়ে মুখ্যমন্ত্রী সুপ্রিম কোর্টে গিয়ে সওয়াল করে যতই নিজের পক্ষে প্রচার নেওয়ার চেষ্টা করুন, তার নাম যে সেই রেকর্ডে নেই, তা উল্লেখ করে রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রীকে বিপাকে ফেলে দিলেন শুভেন্দু অধিকারী।
এদিন তমলুকে বিজেপির জেলা কার্যালয়ে সাংবাদিকদের মুখোমুখি হন রাজ্যের বিরোধী দলনেতা। আর সেখানেই সুপ্রিম কোর্টের নথি দেখিয়ে তিনি বলেন, “মুখ্যমন্ত্রীর সেদিন সুপ্রিম কোর্টে শুনানিতে উপস্থিতি এবং অংশগ্রহণ লাইভ ভিউতে দেখা গেলেও, সংবাদমাধ্যম প্রচার করলেও ১৯ তারিখের যে অর্ডার, সেই অর্ডারের কোথাও কিন্তু মুখ্যমন্ত্রীর নাম, তার বক্তব্যের কিছুই কিন্তু সুপ্রিম কোর্ট রাখেনি। অর্ডারগুলো আমার হাতে আছে। এই অর্ডারের কোথাও কিন্তু মুখ্যমন্ত্রীর নাম এবং তিনি যে শুনানিতে অংশগ্রহণ করেছেন, এটা কিন্তু কোর্ট গ্রহণ করেনি। অন রেকর্ড। যেহেতু তিনি আইনজীবী দিয়েছিলেন।”