প্রিয়বন্ধু মিডিয়া রিপোর্ট- ভোটের আগে যতই মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় নিজেকে হিন্দু দরদি বা জনদরদী প্রমাণ করার চেষ্টা করুন না কেন, তিনি যে সরকারটা পরিচালনা করছেন, সেই সরকারটা যে একটা মানববিরোধী সরকার, সেই দাবি বারবার করে এসেছে বিজেপি। এমনকি বিজেপি নেতারা এটাও দাবি করছেন যে, এবার তৃণমূলকে কোনো শক্তি নেই যে, ক্ষমতায় আনতে পারে। কারণ রাজ্যের মানুষ তৃণমূলের বিরুদ্ধে মতামত দেওয়ার জন্য তৈরি। রাজ্যের সমস্ত প্রান্তিক মানুষের ওপর তৃণমূল কংগ্রেস এই ১৫ বছর ধরে অত্যাচার চালিয়েছে বলেও দাবি বিজেপির। আর এসবের মধ্যেই গতকাল এক বিজেপি নেতার বাবাকে গুলি করে খুনের চেষ্টা হয়েছে। যিনি তপশিলি সম্প্রদায়ের মানুষ। তাই মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় এবং তার দল তৃণমূল কংগ্রেস যতই তপশিলিদের উন্নয়ন নিয়ে বড় বড় দাবি করুন না কেন, এই ঘটনার মধ্যে দিয়ে আরও একবার প্রমাণ হয়ে গেল যে, রাজ্যে কোনো সম্প্রদায়ের মানুষেরই কোনো নিরাপত্তা নেই। তাই আইনের শাসন নিয়ে আরও একবার গর্জে উঠলেন রাজ্য বিজেপির সভাপতি।

রাজ্যে এখনও ভোটের নির্ঘণ্ট ঘোষণা হয়নি। কিন্তু তার আগেই সন্ত্রাসের পরিবেশ তৈরি করতে চাইছে এই রাজ্যের শাসক দল তৃণমূল কংগ্রেস। তারা উপলব্ধি করেছে যে, তারা ক্ষমতায় আসতে পারবে না। সেই কারণে যেখানেই বিজেপি শক্তিশালী, সেখানেই তাদের ভয় দেখানোর চেষ্টা হচ্ছে। ইতিমধ্যেই তপশিলি সম্প্রদায়ের মানুষদের মন পেতে তৃণমূল তপশিলি সংলাপ বলে একটি নতুন প্রকল্প নিয়ে এসে জনসংযোগের একটি মাধ্যম বেছে নিয়েছে। আর তার মধ্যেই যেভাবে বিজেপির এক নেতার বাবা, যিনি তপশিলি সম্প্রদায়ের মানুষ, তাকে গুলি করে খুনের চেষ্টা হলো। আর সেই ঘটনা নিয়েই এবার রাজ্যে তপশিলি সম্প্রদায়ের মানুষদের সুরক্ষা নিয়েই প্রশ্ন তুলে দিলেন শমীক ভট্টাচার্য।

এদিন সাংবাদিকদের মুখোমুখি হন রাজ্য বিজেপির সভাপতি শমীক ভট্টাচার্য। আর সেখানেই তিনি বলেন, “বিভিন্ন সময় বাবাসাহেব আম্বেদকরের কথা তুলে ধরে অনেক বিরোধী দল সংসদ অচল পর্যন্ত করে দেন। কিন্তু পশ্চিমবঙ্গের তপশিলি সম্প্রদায়ের মানুষ কেমন আছে, তার জ্বলন্ত উদাহরণ আজকের ঘটনা। বিগত কয়েক বছর ধরে পশ্চিমবঙ্গে তপশিলি জাতি, উপজাতির মানুষ খুন হয়েছে। সাগর বিধানসভায় আমাদের তপশিলি মোর্চার নেতা ত্রিদিব চালির বাবা ত্রিলোকেশ চালির ওপর গুলি চালানো হলো। এই রাজ্যে কোনো আইনের শাসন নেই। এই রাজ্যে প্রান্তিক মানুষরা প্রতিনিয়ত আক্রান্ত, রক্তাক্ত, ক্ষতবিক্ষত।”