প্রিয়বন্ধু মিডিয়া রিপোর্ট-
মালদহের কালিয়াচকের সাম্প্রতিক চাঞ্চল্যকর ঘটনাকে কেন্দ্র করে মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের দাবিকে এবার সরাসরি চ্যালেঞ্জ ছুড়লেন রাজ্যের বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারী। গতকাল কলকাতায় সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে তিনি বিস্ফোরক অভিযোগ করেন যে, কালিয়াচকের ঘটনার নেপথ্যে রয়েছে এক গভীর ‘দেশবিরোধী’ শক্তির ষড়যন্ত্র। মুখ্যমন্ত্রীর ‘সিআইডি সাফল্য’-এর দাবিকে কার্যত নস্যাৎ করে দিয়ে শুভেন্দুবাবু দাবি করেন, আসল সত্য আড়াল করতেই এই কৃতিত্ব নেওয়ার চেষ্টা চলছে।

গতকালই একটি নির্বাচনী সভা থেকে মুখ্যমন্ত্রী দাবি করেছিলেন যে, কালিয়াচক কাণ্ডের মূল অভিযুক্তকে কেন্দ্রীয় সংস্থা ধরার আগেই রাজ্য পুলিশ বা সিআইডি গ্রেফতার করেছে। এই প্রসঙ্গে পাল্টা প্রতিক্রিয়া দিতে গিয়েই শুভেন্দু অধিকারী শাসকদলের বিরুদ্ধে তোষণের রাজনীতির অভিযোগ তোলেন। তাঁর দাবি, এই গ্রেফতারি কেবল একটি আইওয়াশ মাত্র। এদিন সাংবাদিক বৈঠকে রাজ্যের মন্ত্রী সাবিনা ইয়াসমিনকে তীক্ষ্ণ ভাষায় আক্রমণ করেন শুভেন্দু অধিকারী। তিনি সরাসরি বলেন, “সাবিনা ইয়াসমিন কী করছিল? সাবিনা ইয়াসমিন রান্না করছিল। খুন্তি নাড়ছিল, যাতে ওদেরকে হ্যাকল করা যায়।” বিরোধী দলনেতার অভিযোগ, মালদহের এই অরাজক পরিস্থিতির পেছনে শাসকদলের মন্ত্রী ও নেতাদের সক্রিয় মদত রয়েছে।

বিরোধী দলনেতার গতকালের বক্তব্যের সবচেয়ে কড়া অংশ ছিল উগ্রপন্থী শক্তির সঙ্গে শাসকদলের তুলনা। তিনি অত্যন্ত স্পষ্ট ভাষায় অভিযোগ করে বলেন, “সব অ্যান্টি-ন্যাশনালদের (দেশবিরোধী) কম্বিনেশন হয়েছে। একে রেডিকাল ফোর্স বলা যেতে পারে। যেমন বাংলাদেশে জামাত এবং তার অ্যালায়েট ফোর্স কাজ করে, ঠিক তেমনই এখানে মিম (MIM), তৃণমূল এবং তাদের অ্যালায়েট ফোর্স জোট বেঁধেছে।” তিনি আরও দাবি করেন, এই শক্তিরা এ রাজ্যে একটি সমান্তরাল প্রশাসন চালানোর চেষ্টা করছে। শুভেন্দু অধিকারীর কথায়, “এরা সংবিধান মানে না, যারা আইনশৃঙ্খলা মানে না, যারা সীমাহীন তোষণের রাজনীতি করে এবং গায়ের জোরে সব কিছু দখল করতে চায়, ভয় দেখিয়ে সন্ত্রস্ত করতে চায় মানুষকে।”

শুভেন্দু অধিকারী কেবল মৌখিক অভিযোগেই থেমে থাকেননি। তিনি দাবি করেছেন যে, তাঁর এই প্রতিটি অভিযোগের স্বপক্ষে যথেষ্ট “ডকুমেন্টস বা নথিপত্র” তাঁর কাছে মজুত আছে। তাঁর মতে, যারা এই দেশবিরোধী শক্তির সঙ্গে হাত মিলিয়ে বাংলার পরিবেশ নষ্ট করছে, তাদের মুখোশ তিনি খুলে দেবেন।বিজেপির পক্ষ থেকে অভিযোগ তোলা হয়েছে যে, কালিয়াচকের মতো এলাকায় প্রশাসনের নাকের ডগায় যেভাবে উগ্রপন্থী কার্যকলাপ বাড়ছে, তা দেশের নিরাপত্তার জন্য উদ্বেগের। শুভেন্দু অধিকারীর এই ‘র‍্যাডিক্যাল ফোর্স’ তত্ত্ব রাজ্য রাজনীতিতে এক নতুন বিতর্কের জন্ম দিয়েছে। শাসকদলের পক্ষ থেকে এখনও এই বক্তব্যের কোনো সরাসরি উত্তর পাওয়া না গেলেও, রাজনৈতিক মহলের মতে, কালিয়াচক ইস্যুকে কেন্দ্র করে আসন্ন দিনগুলোতে লড়াই আরও তীব্র হবে।