প্রিয়বন্ধু মিডিয়া রিপোর্ট-
২০২১ সালে নির্বাচনের আগে বিজেপি যেভাবে প্রচুর হেভিওয়েটকে, অন্য দল থেকে আসা নেতা-মন্ত্রীদের দলে নিয়েছিল, এবার যে আর তারা এমনটা করবে না, সেই খবর আগেভাগেই পাওয়া গিয়েছিল। তাই এবার সেই অর্থে বড় মাপের যোগদান মেলা হচ্ছে না। অনেকেই হয়ত বিজেপিতে যোগদান করতে চাইছেন। কিন্তু বিজেপি এক্ষেত্রে অত্যন্ত সতর্ক হয়েই পথ চলতে চাইছে। তাই সেই অর্থে সেরকম কোনো যোগদান হচ্ছে না। তবে আজ বিজেপিতে একটি যোগদান হয়েছে। আর সেই যোগদান যে অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ, তা বলার অপেক্ষা রাখে না। প্রাক্তন বাম সরকারের মন্ত্রী প্রয়াত ক্ষিতি গোস্বামীর মেয়ে যেমন বিজেপিতে যোগদান করেছেন, ঠিক তেমনই যে বিজেপির কাছে দেশ সবার আগে, যে বিজেপির কাছে রাষ্ট্র সবার আগে, সেই রাষ্ট্রবাদী দলেই যোগদান করলেন এককালে দেশের সেবায় নিয়োজিত থাকা প্রাক্তন এনএসজি কমান্ডার দীপাঞ্জন চক্রবর্তী।

এই বাংলায় যেভাবে বোমা, বারুদের আতুড়ঘর তৈরি হয়েছে, এই বাংলায় যেভাবে প্রতিনিয়ত সন্ত্রাসবাদী কার্যকলাপ হচ্ছে, সেক্ষেত্রে বারবার বিজেপি নেতারা দাবি করছেন যে, রাজ্যে পরিবর্তন দরকার। তাই যারা রাষ্ট্রকে রক্ষা করতে চান, তাদের সকলকে একত্রিত হয়ে এবার পরিবর্তন আনতে হবে বলেই প্রত্যেকটি সভা থেকে জনতার কাছে আবেদন করছেন বিজেপি নেতৃত্বরা। আর যে বিজেপি রাষ্ট্রবাদের পক্ষে, যাদের কাছে ব্যক্তি নয়, দেশ আগে, সেই বিজেপির প্রতি আকৃষ্ট হচ্ছেন রাষ্ট্রবাদী জনসাধারণ। আর সেই রকমই একজন মানুষ হলেন দীপাঞ্জন চক্রবর্তী। বিভিন্ন সময় সোশ্যাল মিডিয়ায় বা টিভি চ্যানেলে তাকে পশ্চিমবঙ্গের আভ্যন্তরীণ নিরাপত্তা নিয়ে সোচ্চার হতে দেখা গিয়েছে। আর এবার বিধানসভা নির্বাচনের আগে সেই রকমই একজন ব্যক্তিত্ব বিজেপির পতাকা হাতে তুলে নিয়ে রাষ্ট্রের পক্ষে নিয়োজিত হতেই যে তিনি রাষ্ট্রবাদী দলে যোগদান করেছেন, সেই বিষয়টি ব্যাখ্যা করলেন। আর ২৬ এর বিধানসভা নির্বাচনের আগে দীপাঞ্জনবাবুর মত ব্যক্তিত্বের বিজেপিতে এই যোগদান রাজ্যের শাসক দল তৃণমূল কংগ্রেস এবং মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের জন্য যে যথেষ্ট অস্বস্তির কারণ, সেই ব্যাপারে নিশ্চিত বিশেষজ্ঞরা।

এদিন বিজেপির দলীয় অফিসে একটি যোগদান পর্ব অনুষ্ঠিত হয়। যেখানে রাজ্য বিজেপির সভাপতি শমীক ভট্টাচার্য এবং রাজ্যের বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারীর হাত ধরে বিজেপিতে যোগদান করেন প্রাক্তন এনএসজি কমান্ডো দীপাঞ্জন চক্রবর্তী। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, তৃণমূলের বিরুদ্ধে যখন চারিদিকে চুরি, দুর্নীতির মত অভিযোগ উঠছে, যখন চারিদিকে সাধারণ মানুষ বলছে, তৃণমূলে ভদ্রলোক বলে কিছু নেই, তখন বিজেপি কিন্তু যে যোগদান পর্ব অনুষ্ঠিত করেছে, সেখানে অত্যন্ত বড় মাপের একজন মানুষকে নিজেদের দলে নিয়েছে। আর এটা যারা রাষ্ট্রকে ভালোবাসেন, তাদের কাছে অত্যন্ত আপ্লুত হওয়ার মত বিষয়। এই দীপাঞ্জনবাবুর মত ব্যক্তিত্বকে দেখে অনেকেই বিজেপির প্রতি আগ্রহী হবেন এবং ২০২১ সালে সকলকে দলে নেওয়ার মত সিদ্ধান্ত যে বিজেপি এবার নিচ্ছে না, সেই বিষয়টিও জনতার কাছে স্পষ্ট হয়ে যাবে। যার ফলে আখেরে আরও বেশি লাভ হবে বিজেপির এবং চাপে পড়বেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় বলেই মনে করছেন রাজনৈতিক বিশেষজ্ঞরা।