প্রিয়বন্ধু মিডিয়া রিপোর্ট-
রাজ্য রাজনীতিতে ফের উত্তেজনার পারদ তুঙ্গে। গতকাল একটি জনসভা থেকে মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় অত্যন্ত আবেগপ্রবণভাবে ঘোষণা করেছিলেন যে, তিনি খুন হয়ে যাওয়ার আশঙ্কা করছেন। তাঁর এই বিস্ফোরক দাবি ঘিরেই এবার পাল্টা তোপ দাগলেন বিজেপির প্রাক্তন রাজ্য সভাপতি দিলীপ ঘোষ। সোজাসাপ্টা ভাষায় মমতার এই প্রাণহানির আশঙ্কাকে নিছক ‘নির্বাচনী নাটক’ বলে কটাক্ষ করেছেন তিনি।
প্রসঙ্গত, গতকাল মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় বলেছিলেন, “আমাকে সরিয়ে দেওয়ার ষড়যন্ত্র চলছে। আমি যে কোনো দিন খুন হয়ে যেতে পারি।” আর এই মন্তব্য প্রকাশ্যে আসতেই তা নিয়ে শোরগোল পড়ে যায়। আজ সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে দিলীপ ঘোষ স্বভাবসিদ্ধ ভঙ্গিতেই এর পাল্টা জবাব দেন। তিনি বলেন, “উনি প্রতি নির্বাচনের আগেই এরকম একটা নাটক করেন। এই সব বলে মানুষের সহানুভূতি পেতে চান। কিন্তু বাংলার মানুষ এবার আর এই সব ভেল্কিতে ভুলছে না।” দিলীপ ঘোষ আরও একধাপ এগিয়ে বলেন, “তিনি নিজের বাড়িতেই সুরক্ষিত নয় নিজের পার্টিতেই সুরক্ষিত নয়। আসলে পায়ের তলায় মাটি নেই বুঝতে পেরেছেন। নির্বাচনে পরাজয় নিশ্চিত জেনেই এখন ইমোশনাল কার্ড খেলছেন।”
এদিকে দিলীপ ঘোষের এই বিতর্কিত ও শ্লেষাত্মক মন্তব্য রাজনৈতিক মহলে নতুন করে বিতর্কের জন্ম দিয়েছে। তৃণমূল কংগ্রেসের পক্ষ থেকে এই মন্তব্যের তীব্র প্রতিবাদ জানিয়ে বলা হয়েছে, একজন মহিলা মুখ্যমন্ত্রী যখন প্রকাশ্যে তাঁর নিরাপত্তা নিয়ে সংশয় প্রকাশ করছেন, তখন সেই বিষয়কে নিয়ে বিদ্রুপ করা বিজেপির সংস্কৃতির পরিচয় দেয়। অন্যদিকে, বিজেপি নেতৃত্বের দাবি, তৃণমূল জমানায় যে হারে রাজনৈতিক সন্ত্রাস বেড়েছে, তাতে সাধারণ মানুষের প্রাণ সংশয় আগে, মুখ্যমন্ত্রীর নয়।
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, সামনেই নির্বাচন, আর তার আগে শাসক-বিরোধী তরজা যে পর্যায়ে পৌঁছেছে, তাতে মমতার ‘মৃত্যু আতঙ্ক’ বনাম দিলীপের ‘কটাক্ষ’—এখন কোন দিকে মোড় নেয়, সেদিকেই তাকিয়ে গোটা রাজ্য।