প্রিয়বন্ধু মিডিয়া রিপোর্ট- আইপ্যাকের অফিসে কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থা তল্লাশি চালানোর দিন যেভাবে সেখানে পৌঁছে গিয়েছিলেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় এবং সেখান থেকে একাধিক নথি নিয়ে এসেছিলেন, তা নিয়ে বিরোধীরা প্রশ্ন তুলতে শুরু করেছিলো। এমনকি পরবর্তীতে কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থার ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন তুলে তৃণমূলের বেশ কিছু সাংসদ কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রকের বাইরে গিয়ে বসে পড়েন। আর সেই বিষয় নিয়েই প্রশ্ন তুলে পাল্টা নবান্নের সামনে বিজেপি বিধায়কদের নিয়ে তিনি ধর্নায় বসবেন বলে জানিয়ে দিয়েছিলেন রাজ্যের বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারী। তবে পুলিশের পক্ষ থেকে অনুমতি না পাওয়ার কারণে আদালতের শরণাপন্ন হয় বিজেপি। গতকাল কলকাতা হাইকোর্ট শর্তসাপেক্ষে বিজেপিকে ধর্নার অনুমতি দিলেও তাদের মন্দিরতলা বাসস্ট্যান্ডে এই ধর্না করার কথা বলেছে। তবে এই রায়কে স্বাগত জানাতে পারছেন না বলে জানিয়ে দিয়ে দু’ঘণ্টা হলেও, তারা নবান্নের সামনেই ধর্নায় বসতে চান বলে নিজের বক্তব্যে অনড় রইলেন রাজ্যের বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারী। এক্ষেত্রে ডিভিশন বেঞ্চে যাওয়ার কথা জানিয়ে দিলেন তিনি।

এই রাজ্যের বিরোধী দলনেতা প্রথম দিন থেকেই তৃণমূল সরকারকে প্রতি পদে পদে রাজনৈতিকভাবে কাবু করে আসছেন। সম্প্রতি কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্র মন্ত্রকের বাইরে তৃণমূলের সাংসদরা যেভাবে গিয়ে বিক্ষোভ দেখিয়েছিলেন, তা নিয়ে প্রশ্ন তুলে সোচ্চার হয়েছিলেন শুভেন্দু অধিকারী। পাশাপাশি তিনি এটাও বলেছিলেন যে, তৃণমূলের সাংসদরা যদি অগণতান্ত্রিকভাবে কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রকের বাইরে গিয়ে চুপি চুপি চোরের মত বিক্ষোভ করতে পারে, তাহলে তারা কেন ফাইল চুরি করা মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সরকারের বিরুদ্ধে অবস্থান করতে পারবেন না? আর সেই কারণে নবান্নের সামনে তাদের বসতে দেওয়া হোক। এই দাবি জানিয়ে পুলিশের পক্ষ থেকে অনুমতি না মেলার পর হাইকোর্টে গিয়েছিল বিজেপি। কিন্তু হাইকোর্ট যে জায়গা ঠিক করে দিয়েছে, তাতে খুশি নন রাজ্যের বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারী। নবান্নের সামনেই, সে যে কয়েক ঘন্টাই হোক, তারা সেখানেই বসতে রাজি বলে জানিয়ে দিলেন তিনি।

এদিন সাংবাদিকদের মুখোমুখি হন রাজ্যের বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারী। আর সেখানেই তিনি স্পষ্ট ভাষায় জানিয়ে দেন, কলকাতা হাইকোর্টের সিঙ্গল বেঞ্চের যে নির্দেশ, তাকে তারা গ্রহণ করতে পারছেন না। তারা ডিভিশন বেঞ্চে যাচ্ছেন। কারণ কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্র মন্ত্রকের বাইরে চুপি চুপি চোরের মত গিয়ে তৃণমূলের সাংসদরা অসভ্যতা করেছেন। আর তার বিরুদ্ধেই তারা পাল্টা ফাইল চোর মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের বিরুদ্ধে বিজেপি বিধায়কদের নিয়ে অবস্থান বিক্ষোভ করবেন। তবে সেটা নবান্নের পিছনে নয়, নবান্নের সামনে যে কোনো জায়গায় তাদের বসতে দিতে হবে। এক্ষেত্রে দু’ঘণ্টা হলেও তারা নবান্নের সামনে বসেই এই ধর্না কর্মসূচি করবেন বলে স্পষ্ট ভাষায় জানিয়ে দিয়েছেন রাজ্যের বিরোধী দলনেতা। স্বাভাবিকভাবেই বিজেপি ডিভিশন বেঞ্চে যাওয়ার পর তাদের যে বক্তব্য, তার সমর্থনে কোনো রায় নিয়ে আসতে পারে কিনা, সেদিকেই নজর থাকবে সকলের।