প্রিয়বন্ধু মিডিয়া রিপোর্ট-
২০২৬ সালের বিধানসভা নির্বাচনের রণদামামা বাজার অনেক আগেই দক্ষিণ দিনাজপুর জেলার রাজনীতিতে বড়সড় উলটপুরাণ। রাজ্যের হেভিওয়েট মন্ত্রী তথা তৃণমূলের ‘দাপুটে’ নেতা বিপ্লব মিত্রের খাসতালুক বলে পরিচিত হরিরামপুরে আছড়ে পড়ল গেরুয়া ঝড়। ব্রজবল্লভপুর অঞ্চলের নওপাড়াতে শাসকদল তৃণমূল এবং ক্ষয়িষ্ণু সিপিএম ছেড়ে প্রায় ৩০টি পরিবার আনুষ্ঠানিকভাবে ভারতীয় জনতা পার্টিতে যোগদান করল। হরিরামপুর বিধানসভার বিজেপি প্রার্থী তথা জেলা সাধারণ সম্পাদক দেবব্রত মজুমদার নবাগতদের হাতে দলীয় পতাকা তুলে দিয়ে কার্যত বিপ্লব মিত্রের রাজনৈতিক বিদায় ঘণ্টা বাজিয়ে দিলেন।
হরিরামপুরের রাজনীতিতে বিপ্লব মিত্র দীর্ঘকাল আধিপত্য কায়েম করলেও, উন্নয়নের নিরিখে এই এলাকা আজও তিমিরেই রয়ে গিয়েছে বলে অভিযোগ তুলছেন স্থানীয়রা। মন্ত্রীর নিজের ডেরাতে এই গণ-যোগদান প্রমাণ করছে যে, সাধারণ মানুষ এখন তাঁর ‘প্রতিশ্রুতি’ আর ‘উন্নয়নের দাবি’ নিয়ে সন্দিহান। স্থানীয় বাসিন্দাদের একাংশের দাবি, মন্ত্রী কেবল নির্বাচনের সময় জনসংযোগ করেন, বাকি সময়টা সাধারণ মানুষের ধরাছোঁয়ার বাইরে থাকেন।
বিপ্লব মিত্র জেলা থেকে রাজ্য মন্ত্রিসভায় প্রভাবশালী দফতর সামলালেও হরিরামপুরের যুবকদের জন্য কর্মসংস্থানের স্থায়ী দিশা দেখাতে পারেননি। হাজার হাজার যুবক আজ পেটের দায়ে ভিনরাজ্যে শ্রমিকের কাজ করতে বাধ্য হচ্ছেন। ব্রজবল্লভপুরের গ্রামীণ রাস্তাঘাট থেকে শুরু করে পরিশ্রুত পানীয় জল—সব ক্ষেত্রেই বঞ্চনার শিকার সাধারণ মানুষ। কেন্দ্রীয় প্রকল্পের সুবিধা সঠিক মানুষের কাছে পৌঁছাচ্ছে না বলে ক্ষোভ উগড়ে দিয়েছেন নবাগত বিজেপি কর্মীরা। সাধারণ মানুষের অভিযোগ, সরকারি সুযোগ-সুবিধা কেবল মন্ত্রীর ঘনিষ্ঠ বৃত্তের এবং তৃণমূলের কিছু নির্দিষ্ট নেতার মধ্যেই সীমাবদ্ধ থাকছে।
রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, বিপ্লব মিত্রের মতো অভিজ্ঞ নেতার কেন্দ্রে এই ধরনের বুথ স্তরের ভাঙন তৃণমূলের জন্য অত্যন্ত চিন্তার বিষয়। নওপাড়ার এই ‘চমক’ কেবল একটি বিচ্ছিন্ন ঘটনা নয়, এটি সমগ্র হরিরামপুর বিধানসভার বঞ্চিত মানুষের প্রতিবাদের ভাষা হিসেবেই দেখা হচ্ছে। একদিকে মন্ত্রীর প্রশাসনিক ব্যর্থতার খতিয়ান, অন্যদিকে দেবব্রত মজুমদারের নেতৃত্বে বিজেপির ক্রমাগত শক্তিবৃদ্ধি—এই দুইয়ের সাঁড়াশি চাপে ২০২৬-এর লড়াইয়ে তৃণমূল প্রার্থী তথা মন্ত্রীর জন্য পথ চলা বেশ কঠিন হয়ে দাঁড়াচ্ছে।
নওপাড়ার এই পদ্ম-ঝড় যদি আগামী দিনে হরিরামপুরের বাকি অঞ্চলগুলোতেও ছড়িয়ে পড়ে, তবে ২০২৬-এর নির্বাচনী ফলাফল শাসকদলের জন্য বড়সড় ধাক্কা হতে পারে। মন্ত্রীর খাসতালুকে গেরুয়া শিবিরের এই সফল থাবা দক্ষিণ দিনাজপুরের রাজনীতিতে নতুন সমীকরণের জন্ম দিল।