প্রিয়বন্ধু মিডিয়া রিপোর্ট-
২০২৬-এর বিধানসভা নির্বাচনের নির্ঘণ্ট ঘোষণা হতেই বঙ্গ রাজনীতিতে সবথেকে বড় ধামাকাটি দিল ভারতীয় জনতা পার্টি। উত্তর ২৪ পরগনার অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ এবং হাই-ভোল্টেজ কেন্দ্র বাগদা (তফসিলি জাতি সংরক্ষিত) আসনে এবার পদ্ম শিবিরের বাজি কেন্দ্রীয় জাহাজ প্রতিমন্ত্রী শান্তনু ঠাকুরের স্ত্রী সোমা ঠাকুর। মঙ্গলবার দলের চতুর্থ প্রার্থী তালিকায় সোমা দেবীর নাম আসতেই কার্যত শোরগোল পড়ে গিয়েছে রাজনৈতিক মহলে।
বিজেপির এই মাস্টারস্ট্রোক বাগদা কেন্দ্রটিকে এবার রাজ্যের সবথেকে চর্চিত আসনে পরিণত করেছে। কারণ, তৃণমূল কংগ্রেস এই আসনে প্রার্থী করেছে ঠাকুরবাড়িরই আর এক সদস্যা তথা রাজ্যসভার সাংসদ মমতাবালা ঠাকুরের কন্যা মধুপর্ণা ঠাকুরকে। সম্পর্কে সোমা ঠাকুর এবং মধুপর্ণা হলেন বউদি ও ননদ। রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, তৃণমূলের ‘পরিবারতন্ত্র’ এবং ঠাকুরবাড়ির একটি নির্দিষ্ট অংশকে কাজে লাগিয়ে ভোট বৈতরণী পার হওয়ার যে চেষ্টা ঘাসফুল শিবির করেছিল, সোমা ঠাকুরকে প্রার্থী করে তার যোগ্য জবাব দিল বিজেপি।
দীর্ঘদিন ধরেই শান্তনু ঠাকুরের ছায়াসঙ্গী হিসেবে মতুয়া মহাসঙ্ঘের নানা সামাজিক ও ধর্মীয় কর্মকাণ্ডে সক্রিয় থেকেছেন সোমা ঠাকুর। তিনি বর্তমানে মতুয়া মহাসঙ্ঘের মাতৃসেনার প্রধান হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন। ফলে সাধারণ মানুষের কাছে এবং বিশেষ করে মতুয়া মহিলাদের মধ্যে তাঁর আলাদা একটি গ্রহণযোগ্যতা রয়েছে। সংশোধিত নাগরিকত্ব আইন (CAA) কার্যকর হওয়ার পর সীমান্ত এলাকায় মতুয়াদের মধ্যে বিজেপির পাল্লা ভারী হয়েছে। সোমা ঠাকুরের প্রার্থীপদ সেই আবেগ ও সমর্থনকে আরও সংহত করবে।
মোদী সরকারের ‘নারী শক্তি’ স্লোগানকে পাথেয় করে সোমা ঠাকুর যেভাবে সাধারণ মানুষের ড্রয়িং রুম পর্যন্ত পৌঁছে গিয়েছেন, তাতে বাগদায় তৃণমূলের মহিলা ভোটব্যাঙ্কে বড়সড় ধস নামার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। তৃণমূলের গত কয়েক বছরের দুর্নীতি ও অপশাসনের বিরুদ্ধে বাগদার মানুষ যখন বিকল্প খুঁজছে, তখন শান্তনু-জায়ার মতো
এক স্বচ্ছ ভাবমূর্তির প্রার্থীর আগমন বিজেপির জয়কে আরও সুনিশ্চিত করছে।
২০১৯ এবং ২০২৪-এর লোকসভা নির্বাচনে বনগাঁ লোকসভা কেন্দ্রের অন্তর্গত এই বাগদা বিধানসভা এলাকায় বিজেপি বড় ব্যবধানে লিড পেয়েছিল। মতুয়াদের আবেগকে ব্যবহার করে তৃণমূল বারবার বিভাজনের রাজনীতি করার চেষ্টা করলেও, সোমা ঠাকুরকে সামনে রেখে বিজেপি এবার পাল্টা চ্যালেঞ্জ ছুঁড়ে দিল। মঙ্গলবার প্রার্থীর নাম ঘোষণা হওয়ার পর থেকেই বাগদা জুড়ে আবির খেলায় মেতেছেন বিজেপি কর্মীরা। তাঁদের দাবি, “পরিবারতন্ত্র নয়, মানুষের অধিকারের লড়াইয়ে সোমা দিদিই আমাদের নেত্রী।”
বিজেপি নেতৃত্বের দাবি, সোমা ঠাকুরের জয় এখন কেবল সময়ের অপেক্ষা। তাঁর হাত ধরেই বাগদায় ফুটবে পদ্মফুল এবং মতুয়াদের প্রকৃত অধিকার রক্ষার লড়াই পূর্ণতা পাবে। রাজনৈতিক মহলের নজর এখন মে মাসের ফলাফলের দিকে— যেখানে ঠাকুরবাড়ির দুই বধূ ও কন্যার লড়াইয়ে শেষ হাসি কে হাসেন, সেটাই দেখার।