প্রিয়বন্ধু মিডিয়া রিপোর্ট-খুদে পড়ুয়াদের পুষ্টি নিশ্চিত করার পাশাপাশি রাজ্যের লক্ষাধিক মিড-ডে মিল কর্মীর আর্থিক ভবিষ্যৎ ও কর্মসংস্থান সুরক্ষিত করতে এক যুগান্তকারী পদক্ষেপ নিলেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। আজ, ১ আগস্ট ২০২৬ (শনিবার) কলকাতার তারাতলায় (Taratala) আয়োজিত এক মেগা অনুষ্ঠানে উপস্থিত হয়ে এই নতুন প্রকল্পের আনুষ্ঠানিক শুভ সূচনা করেন তিনি।কলকাতার স্কুলগুলিতে ইসকন (ISKCON)-এর সেন্ট্রালাইজড কিচেনের মাধ্যমে খাবার সরবরাহের সিদ্ধান্ত ঘোষণার পর থেকেই স্থানীয় স্বনির্ভর গোষ্ঠী ও সাধারণ রান্নার কর্মীদের মনে কাজ হারানোর যে তীব্র আতঙ্ক তৈরি হয়েছিল, তা আজ তারাতলার উদ্বোধনী মঞ্চ থেকেই সম্পূর্ণ ধুয়ে মুছে সাফ করে দিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী। সরকারের তরফে সাফ জানিয়ে দেওয়া হয়েছে, রাজ্যে একজন মিড-ডে মিল কর্মীরও চাকরি যাচ্ছে না, উল্টে আজ থেকেই তাঁদের অ্যাকাউন্টে আসবে বর্ধিত বেতন।
মুখ্যমন্ত্রীর ঘোষণা ও অনুমোদন অনুযায়ী, রাজ্যের প্রায় ২.২৪ লাখ পিএম-পোষণ (PM-POSHAN) রাঁধুনি ও সহায়কদের (Cook-cum-Helpers) মাসিক সাম্মানিক ভাতা একলাফে ১,০০০ টাকা বাড়িয়ে দেওয়া হয়েছে। ফলে তাঁদের মাসিক ভাতা ২,০০০ টাকা থেকে বেড়ে হলো ৩,০০০ টাকা। এই সংশোধিত এবং বর্ধিত বেতন কাঠামো আজ, ১ আগস্ট ২০২৬ থেকেই রাজ্যজুড়ে সরকারিভাবে কার্যকর হয়ে গেল।
অনুষ্ঠানে বিরোধী শিবিরের “নিরামিষ আহার চাপিয়ে দেওয়া এবং ডিম বন্ধের” সমস্ত জল্পনা ও বিতর্ক উড়িয়ে দিয়ে মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী শিশুদের পুষ্টির স্বার্থে এক স্পষ্ট রূপরেখা দিয়েছেন। কলকাতায় ইসকনের মাধ্যমে বিশুদ্ধ সাত্ত্বিক ও পুষ্টিকর নিরামিষ আহার সরবরাহ করা হলেও, খুদে পড়ুয়াদের প্রোটিনের চাহিদা পূরণের জন্য আলাদা করে সেদ্ধ ডিম বা পুষ্টিকর ফল দেওয়ার ব্যবস্থা সম্পূর্ণ বহাল রাখছে রাজ্য সরকার। সবচেয়ে বড় বিষয় হলো, এই ডিম এবং ফল কেনার ও শিশুদের পাতে পৌঁছে দেওয়ার সম্পূর্ণ দায়িত্ব ও লজিস্টিকস সামলাবেন পূর্বের কর্মীরাই, অর্থাৎ স্থানীয় স্বনির্ভর গোষ্ঠীগুলির (SHGs) দিদি ও মায়েরা। ফলে তাঁদের কাজ হারানোর কোনো প্রশ্নই উঠছে না।
আজকের এই উদ্বোধনী দিন থেকেই রাজ্যজুড়ে প্রাক-প্রাথমিক ও প্রাথমিক স্তরের প্রায় ৫১.৬১ লাখ পড়ুয়ার জন্য প্রতিদিনের রান্নার খরচ বা বরাদ্দ মাথা পিছু ৬.৭৮ টাকা থেকে বাড়িয়ে একলাফে ১০ টাকা করা হয়েছে। বাড়তি এই ৩.২২ টাকা সম্পূর্ণ রাজ্য সরকার বহন করবে। মিড-ডে মিলের গোটা পরিকাঠামোকে ঢেলে সাজাতে এবং ধোঁয়াযুক্ত কাঠের উনুন বন্ধ করতে রাজ্য কোষাগার থেকে মোট ৬৩৯ কোটি টাকার একটি মেগা সংস্কার প্যাকেজ অনুমোদন করেছে শুভেন্দু অধিকারীর সরকার। এই প্রকল্পের অধীনে রাজ্যের প্রতিটি সরকারি স্কুলে রান্নার নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে ১০০ শতাংশ এলপিজি (LPG) গ্যাস সিলিন্ডারের সংযোগ নিশ্চিত করা হচ্ছে। আজ তারাতলার এই উদ্বোধনী অনুষ্ঠানটি একদিকে যেমন লাখ লাখ সাধারণ নারীর কর্মসংস্থান ও বেতন নিশ্চিত করল, অন্যদিকে রাজ্যের কোটি খুদে পড়ুয়ার পুষ্টির মানকে এক ধাক্কায় এক অনন্য উচ্চতায় নিয়ে গেল।