প্রিয়বন্ধু মিডিয়া রিপোর্ট-অভিনয়ের রূপোলি পর্দা কাঁপানোর পর এবার সরাসরি পশ্চিমবঙ্গের প্রশাসনিক নীতি নির্ধারণের অলিন্দে পা রাখলেন ‘মহাগুরু’। আজ, ৭ অক্টোবর ২০২৬ (বুধবার) রাজ্য সরকারের তরফ থেকে এক নজিরবিহীন বিজ্ঞপ্তি জারি করে বর্ষীয়ান অভিনেতা তথা বিজেপি নেতা মিঠুন চক্রবর্তীকে তথ্য ও সংস্কৃতি দপ্তরের মুখ্য উপদেষ্টা (Cultural Advisor) হিসেবে নিযুক্ত করা হলো। মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর নেতৃত্বাধীন বর্তমান বিজেপি সরকারের এই মেগা সিদ্ধান্তে রাজ্যজুড়ে ব্যাপক তোলপাড় শুরু হয়েছে। সরকারি নির্দেশিকায় স্পষ্ট উল্লেখ করা হয়েছে, এই পদে মিঠুন চক্রবর্তী সাধারণ কোনো উপদেষ্টা নন, তিনি সরাসরি পূর্ণমন্ত্রী বা ক্যাবিনেট মন্ত্রীর পদমর্যাদা (Cabinet Minister Rank) ও সমস্ত সুযোগ-সুবিধা পাবেন।
নবান্ন সূত্রে খবর, মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী আগেই মহানায়ক উত্তম কুমারের স্মরণে নিউ টাউনে ফিল্ম সেন্টারের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন অনুষ্ঠানে মিঠুন চক্রবর্তীকে এই দায়িত্ব দেওয়ার ইঙ্গিত দিয়েছিলেন। সেই মতোই আজ রাজ্যের কর্মীবর্গ ও প্রশাসনিক সংস্কার দপ্তরের (P&AR) আইএএস সেলের তরফ থেকে একটি আনুষ্ঠানিক বিজ্ঞপ্তি জারি করা হয়। রাজ্যের মুখ্যসচিব মনোজ কুমার আগরওয়ালের স্বাক্ষর সম্বলিত এই নির্দেশিকায় স্পষ্ট জানানো হয়েছে যে, রাজ্যপাল আর এন রবির সসম্মান অনুমোদনক্রমেই অভিনেতা মিঠুন চক্রবর্তীকে এই পদে বসানো হয়েছে। পরবর্তী নির্দেশ না আসা পর্যন্ত তিনি এই পদে বাৎসরিক ১ টাকা টোকেন সাম্মানিকের বিনিময়ে বহাল থাকবেন।
তথ্য ও সংস্কৃতি দপ্তরটি সরাসরি মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর নিজস্ব এক্তিয়ারে রয়েছে। তাঁর সেই দপ্তরেই এবার তাঁর প্রধান পরামর্শদাতা ও উপদেষ্টা হিসেবে কাজ করবেন মিঠুন চক্রবর্তী। মূলত বিগত দিনে থমকে যাওয়া বা ধুঁকতে থাকা বাংলার চলচ্চিত্র শিল্প (টলিউড), থিয়েটার, ঐতিহ্যবাহী লোকশিল্প এবং সংস্কৃতির সার্বিক পরিকাঠামোকে আন্তর্জাতিক স্তরে উন্নীত করাই এই নিয়োগের মূল লক্ষ্য। সরকার ইতিমধ্যেই নিউ টাউনে ২৫ কোটি টাকা ব্যয়ে বিশ্বমানের ‘উত্তম কুমার ফিল্ম সেন্টার’ গড়ে তোলার কাজ শুরু করেছে। এর পাশাপাশি রাজ্যে আঞ্চলিক সিনেমার শুটিং বৃদ্ধি ও বিনিয়োগ টানার জন্য ৩০ শতাংশ পর্যন্ত সরকারি ভর্তুকি (Film Subsidy) এবং সুন্দরবনসহ বিভিন্ন পর্যটন ক্ষেত্রে সিনেমার মাধ্যমে প্রচারের যে দীর্ঘমেয়াদি ব্লু-প্রিন্ট তৈরি হচ্ছে, তার নেপথ্যে মিঠুন চক্রবর্তীর দীর্ঘ চলচ্চিত্র জীবনের অভিজ্ঞতা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা নেবে বলে মনে করছে ওয়াকিবহাল মহল।
দিল্লির ‘দাদাসাহেব ফালকে’ পুরস্কারজয়ী কিংবদন্তি অভিনেতার এই নতুন ইনিংস রাজনৈতিক ও বিনোদন মহলে এক নতুন সমীকরণ তৈরি করল। এতদিন মিঠুন চক্রবর্তীকে জনসভায় কেবল রাজনৈতিক প্রচারক হিসেবেই দেখেছে মানুষ, তবে এবার সরাসরি ক্যাবিনেট মন্ত্রীর মর্যাদায় নবান্নের প্রশাসনিক স্তরে তাঁর এই অন্তর্ভুক্তি নতুন সরকারের এক সুনিপুণ ও ঐতিহাসিক মাস্টারস্ট্রোক বলেই মনে করা হচ্ছে।