প্রিয়বন্ধু মিডিয়া রিপোর্ট-রাজ্যে ঐতিহাসিক রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর নবান্নের প্রশাসনিক অলিন্দে শুরু হলো এক সম্পূর্ণ নতুন অধ্যায়। শপথ গ্রহণের পর প্রথম দিনেই এক নজিরবিহীন এবং অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ প্রশাসনিক সংস্কারের সিদ্ধান্ত নিলেন পশ্চিমবঙ্গের নবনির্বাচিত মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। বৈশ্বিক জ্বালানি সংকটের আবহে দেশের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর দেখানো পথ অনুসরণ করে এক ধাক্কায় খোদ মুখ্যমন্ত্রীর কনভয়ের গাড়ির সংখ্যা উল্লেখযোগ্যভাবে কমিয়ে আনার নির্দেশ জারি করা হলো। আজ থেকেই মুখ্যমন্ত্রীর কনভয় থেকে অতিরিক্ত গাড়ি ছেঁটে ফেলার এই নির্দেশ কার্যকর করা হয়েছে, যা নিয়ে এই মুহূর্তে রাজ্য রাজনীতিতে তীব্র শোরগোল পড়ে গিয়েছে।

নবান্ন সূত্রে খবর, নতুন মুখ্যমন্ত্রীর যাতায়াতের গতি সচল রাখার পাশাপাশি সাধারণ মানুষের দুর্ভোগ কমাতে আজ থেকেই কনভয় থেকে একযোগে বাদ দেওয়া হচ্ছে একাধিক অতিরিক্ত গাড়ি। এতদিন ভিআইপি যাতায়াতের সময় যে বিশাল গাড়ির বহর দেখা যেত, যার কারণে সাধারণ মানুষকে রাস্তায় দীর্ঘক্ষণ ট্রাফিকের অপেক্ষায় থমকে থাকতে হতো, সেই সংস্কৃতিতে আমূল বদল আনা হচ্ছে। অপ্রয়োজনীয় কোনো গাড়ি আর কনভয়ে রাখা যাবে না বলে কড়া অবস্থান নিয়েছে প্রশাসন।

সাম্প্রতিক আন্তর্জাতিক ভূ-রাজনীতি এবং ইরান যুদ্ধের জেরে বিশ্বজুড়ে যে তীব্র জ্বালানি সংকট ও তেলের মূল্যবৃদ্ধির পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে, তা নিয়ন্ত্রণে কড়া পদক্ষেপ নিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী। খোদ প্রধানমন্ত্রী দেশবাসীকে জ্বালানি সাশ্রয়ের আহ্বান জানিয়ে নিজের স্পেশাল প্রোটেকশন গ্রুপ (SPG) কনভয়ের গাড়ির সংখ্যা এক ধাক্কায় প্রায় ৫০ শতাংশ কমিয়ে দিয়েছেন। কেন্দ্রের সেই ‘মডেল’ এবং কৃচ্ছ্রসাধন নীতিকে বাংলায় হুবহু কার্যকর করতে মাঠে নামলেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীও। সাধারণ মানুষের নিত্যদিনের ট্রাফিক ভোগান্তি কমানো, সরকারি রাজকোষের ওপর থেকে চাপ কমানো এবং সর্বোপরি মহামূল্যবান জ্বালানি অপচয় রোধ করতেই মুখ্যমন্ত্রী এই ঐতিহাসিক পদক্ষেপ গ্রহণ করেছেন বলে মনে করা হচ্ছে।

একেবারে প্রথম দিন থেকেই নবান্নের কার্যপদ্ধতিতে এই ধরণের নিয়মানুবর্তিতা, পরিবেশবান্ধব মানসিকতা এবং সংস্কারের ছোঁয়া আগামী দিনে প্রশাসনিক স্তরে আরও কী কী বড় পরিবর্তন আনে, এখন সেদিকেই নজর ওয়াকিবহাল মহলের। মোদী সরকারের নীতিকে সামনে রেখে নবান্নের এই সিদ্ধান্তকে ইতিমধ্যেই স্বাগত জানাতে শুরু করেছে গেরুয়া শিবিরের কর্মী-সমর্থকেরা।