প্রিয়বন্ধু মিডিয়া রিপোর্ট-বাংলায় প্রথমবার বিজেপি সরকার গঠিত হওয়ার পর আজ দিল্লির রাজনৈতিক অলিন্দে এক ঐতিহাসিক ও অভূতপূর্ব দৃশ্যের সাক্ষী থাকল গোটা দেশ। আজ, ২২ মে ২০২৬ তারিখে নয়াদিল্লির ৭, লোককল্যাণ মার্গের সরকারি বাসভবনে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর সঙ্গে এক রুদ্ধদ্বার বৈঠকে মিলিত হলেন পশ্চিমবঙ্গের নতুন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। সূত্র মারফত জানা যাচ্ছে, প্রায় ৫০ মিনিট ধরে চলা এই হাই-প্রোফাইল বৈঠকে মূলত দুটি বিষয়ে আলোচনা হয়েছে—প্রথমত, বাংলায় থমকে থাকা কেন্দ্রীয় প্রকল্পের কাজ দ্রুত শুরু করা এবং দ্বিতীয়ত, বিগত তৃণমূল সরকারের আমলে শিকড় গেড়ে বসা দুর্নীতির সাম্রাজ্যকে উপড়ে ফেলা।

মুখ্যমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব নেওয়ার পর গত দুই সপ্তাহে তাঁর সরকার যে সমস্ত কড়া প্রশাসনিক পদক্ষেপ নিয়েছে, তার একটি সামগ্রিক খতিয়ান আজ প্রধানমন্ত্রীর হাতে তুলে দেন শুভেন্দু অধিকারী। রাজনৈতিক মহলের মতে, বিগত ‘পিসি-ভাইপোর’ সরকারের আমলে হওয়া কোটি কোটি টাকার দুর্নীতির ফাইল খোলার এবং দোষীদের শাস্তির মুখোমুখি করার ক্ষেত্রে এই বৈঠক অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ। রাজ্যকে দুর্নীতিমুক্ত করতে দিল্লি যে এবার সরাসরি জিরো-টলারেন্স নীতিতে বড় কোনো ‘মহা-অপারেশন’ চালাতে চলেছে, মোদীর দেওয়া এই ৫০ মিনিটের ‘মহা-টনিক’ তারই ইঙ্গিত দিচ্ছে। বৈঠক শেষে নিজের এক্স (টুইটার) হ্যান্ডেলে মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী প্রধানমন্ত্রীকে ধন্যবাদ জানিয়ে লিখেছেন যে, ডবল ইঞ্জিন সরকারের হাত ধরে বাংলায় এবার স্বচ্ছ প্রশাসন ও দ্রুত উন্নয়নের এক নতুন যুগের সূচনা হতে চলেছে। বাংলায় এতদিন আটকে থাকা কেন্দ্রীয় কল্যাণমূলক প্রকল্প যেমন—আয়ুষ্মান ভারত এবং স্বচ্ছ ভারত মিশনকে যুদ্ধকালীন তৎপরতায় প্রতি ঘরে ঘরে পৌঁছে দেওয়াই এখন নতুন বিজেপি সরকারের মূল লক্ষ্য।

দিল্লির এই দুই দিনের মেগা সফরে প্রধানমন্ত্রীর পাশাপাশি মুখ্যমন্ত্রী রাষ্ট্রপতি দ্রৌপদী মুর্মু, উপ-রাষ্ট্রপতি এবং কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহের সঙ্গেও উচ্চপর্যায়ের বৈঠক সেরেছেন, যা স্পষ্ট করে দিচ্ছে যে দিল্লির বুক এখন বাংলার এই নতুন পরিবর্তনের ওপর কতটা ভরসা রাখছে।