প্রিয়বন্ধু মিডিয়া রিপোর্ট-গতকাল শিলিগুড়ির কাওয়াখালির জনসভা থেকে উত্তরবঙ্গের ক্রীড়া প্রতিভাকে এক অনন্য উচ্চতায় পৌঁছে দিলেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী। তাঁর ভাষণে বারবার উঠে এল শিলিগুড়ির ঘরের মেয়ে, ভারতীয় মহিলা ক্রিকেট দলের উজ্জ্বল নক্ষত্র রিচা ঘোষের নাম। রিচার ব্যাটের সেই বিধ্বংসী ছক্কা এবং অকুতোভয় মানসিকতা যে খোদ দেশের প্রধানমন্ত্রীকেও ‘অনুপ্রাণিত’ করেছে, তা এক বাক্যে স্বীকার করে নিলেন তিনি। কিন্তু রিচার এই সাফল্যকে কেবল ব্যক্তিগত কৃতিত্বে সীমাবদ্ধ না রেখে, মোদী একে বাংলার কোটি কোটি মেয়ের আত্মবিশ্বাসের এক নতুন ‘বেঞ্চমার্ক’ হিসেবে উপস্থাপন করেছেন।
প্রধানমন্ত্রী তাঁর স্বভাবসিদ্ধ ভঙ্গিতে জনতাকে সম্বোধন করে বলেন, “উত্তরবঙ্গের মেয়ে রিচা ঘোষ যখন বাইশ গজে দাঁড়িয়ে লম্বা লম্বা ছক্কা হাঁকায়, তখন তাঁর সেই লড়াকু মেজাজ এবং আত্মবিশ্বাস দেখার মতো হয়। আমি ব্যক্তিগতভাবে রিচার এই অদম্য জেদ এবং আত্মবিশ্বাসে অত্যন্ত অনুপ্রাণিত।” মোদীর এই স্বীকারোক্তি শিলিগুড়ির জনতাকে উচ্ছ্বসিত করে তোলে। তিনি বুঝিয়ে দেন যে, রিচা আজ কেবল উত্তরবঙ্গের নন, বরং গোটা ভারতের গর্ব। প্রধানমন্ত্রীর লক্ষ্য স্পষ্ট—বাংলার প্রতিটি জনপদে রিচার মতো ‘সেলফ-কনফিডেন্ট’ এবং প্রতিভাশালী কন্যাদের জয়যাত্রা নিশ্চিত করা।
শিলিগুড়ির বাঘাযতীন পার্ক থেকে উঠে আসা এই উইকেটকিপার-ব্যাটার আজ বিশ্ব ক্রিকেটের এক পরিচিত নাম। রিচা ঘোষের অবদান কেবল ঘরোয়া ক্রিকেটে সীমাবদ্ধ নয়; অনূর্ধ্ব-১৯ টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ জয়ী ভারতীয় দলের তিনি ছিলেন অন্যতম স্তম্ভ। দক্ষিণ আফ্রিকার মাটিতে ভারতকে বিশ্বসেরা করার নেপথ্যে তাঁর বিধ্বংসী ব্যাটিং বড় ভূমিকা নিয়েছিল। এছাড়াও সিনিয়র জাতীয় দলে তাঁর ‘ফিনিশার’ ভূমিকা এবং দ্রুততম অর্ধশতরানের রেকর্ড তাঁকে অনন্য উচ্চতায় নিয়ে গিয়েছে। আইসিসি টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে তাঁর নির্ভীক ব্যাটিং শৈলী দেখে মুগ্ধ হয়েছিল ক্রিকেট বিশ্ব। রিচার এই আন্তর্জাতিক সাফল্যই প্রধানমন্ত্রীকে বাধ্য করেছে তাঁকে বাংলার নারী শক্তির ‘আইকন’ হিসেবে তুলে ধরতে।
প্রধানমন্ত্রী কেবল আবেগের কথা বলেননি, বরং বাংলার ক্রীড়া জগতের আমূল পরিবর্তনের জন্য এক ‘রোডম্যাপ’ও পেশ করেছেন। তিনি জানান, বিজেপি বাংলার মেয়েদের ক্রীড়া দক্ষতা ও সার্বিক জীবনশৈলীকে এক অন্য মাত্রায় নিয়ে যেতে চায়। আর সেই সংকল্প বাস্তবায়িত করতেই দলের নির্বাচনী ইস্তাহারে এক যুগান্তকারী পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে—রাজ্যে একটি আন্তর্জাতিক মানের ‘ক্রীড়া বিশ্ববিদ্যালয়’ (Sports University) নির্মাণ। প্রধানমন্ত্রীর কথায়, “বাংলার মাটিতে যে ক্রীড়া প্রতিভা সুপ্ত রয়েছে, তাকে সঠিক প্রশিক্ষণ ও আধুনিক প্রযুক্তি দিয়ে বিশ্বের দরবারে তুলে ধরতে আমরা প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। তাই আমাদের ইস্তাহারে স্পোর্টস ইউনিভার্সিটি তৈরির কথা বলা হয়েছে।”
রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, মোদীর এই বক্তব্য অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ। উত্তরবঙ্গকে বরাবরই ক্রীড়া প্রতিভার আঁতুড়ঘর বলা হয়। কিন্তু উপযুক্ত পরিকাঠামো এবং আধুনিক সুযোগ-সুবিধার অভাবে অনেক প্রতিভাই অকালে ঝরে পড়ে। প্রধানমন্ত্রী সেই শূন্যস্থান পূরণ করার জন্য শিলিগুড়ির মঞ্চকে বেছে নিয়েছেন। রিচা ঘোষের মত একজন ‘গ্লোবাল স্টার’-কে সামনে রেখে তিনি বাংলার নারী শক্তির ক্ষমতায়নের এক নতুন প্রেক্ষাপট তৈরি করতে চেয়েছেন। এটি কেবল একটি নির্বাচনী প্রতিশ্রুতি নয়, বরং বাংলার তরুণ প্রজন্মের মানসিকতায় এক বড়সড় ইতিবাচক ধাক্কা দেওয়ার প্রচেষ্টা।
পরিশেষে, শিলিগুড়ির মাটি থেকে প্রধানমন্ত্রীর এই ডাক বাংলার ক্রীড়া মানচিত্রে এক নতুন যুগের সূচনা করতে পারে কি না, তা সময়ই বলবে। তবে রিচার ছক্কার প্রশংসা এবং ক্রীড়া বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রতিশ্রুতি যে বাংলার ভোট ময়দানে এক বড়সড় পরিবর্তনের ইঙ্গিত দিচ্ছে, তা নিয়ে কোনও সন্দেহ নেই।