প্রিয়বন্ধু মিডিয়া রিপোর্ট- পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী বুঝতে পারছেন যে, ২০২৬ এর নির্বাচনী লড়াইটা কতটা কঠিন। একদিকে যখন এসআইআর হচ্ছে, ঠিক তেমনই হিন্দুরা একত্রিত হতে শুরু করেছেন। এমনকি যে মুসলিমদের ভোট তাদের পক্ষে আসবে বলে তিনি এতকাল নিশ্চিন্তে ছিলেন, সেই মুসলিমদেরও এখন মোহভঙ্গ হয়েছে। তারা এখন সকলেই তৃণমূল সরকারের দ্বিচারিতা সম্পর্কে অবগত হতে শুরু করেছেন বলেই মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা। আর এই পরিস্থিতিতে হিন্দু ভোট যাতে পুরোটা বিজেপি না পায়, তার জন্য মুখ্যমন্ত্রী বিভিন্ন জায়গায় মন্দির গঠন করে তার শিলান্যাস করে নিজেকে হিন্দু দরদী প্রমাণ করার মরিয়া চেষ্টা শুরু করেছেন বলেই মনে করা হচ্ছে। গতকাল তিনি শিলিগুড়িতে মহাকাল মন্দিরের শিলান্যাস করেছেন। তবে এখন এই সমস্ত কিছু করে যে লাভের লাভ কিছুই হবে না, নদীয়ার সভার পর সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে সেই কথাই বুঝিয়ে দিলেন রাজ্যের বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারী।
প্রথমে দীঘার জগন্নাথ মন্দির করার পর এবার মুখ্যমন্ত্রী একদিকে কলকাতায় দুর্গা অঙ্গন এবং অন্যদিকে শিলিগুড়িতে মহাকাল মন্দিরের কথা ঘোষণা করেছিলেন। গতকাল তিনি উত্তরবঙ্গে সেই মহাকাল মন্দিরের শিলান্যাস করেন। তবে এই সমস্ত কিছুই যে সামনে ভোট এবং হিন্দুদের ভোট পাওয়ার জন্য মরিয়া চেষ্টা, তা বুঝতে বাকি নেই বিরোধীদের। তাই ভোটের আগে মুখ্যমন্ত্রীর এই ধরনের হিন্দু প্রীতি বাংলার মানুষ মোটেই গ্রহণ করবে না বলেই জানিয়ে দিলেন রাজ্যের বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারী। স্পষ্ট ভাষায় তার বক্তব্য, এখন উনি নারকেল ফাটিয়ে বেড়াচ্ছেন, তবে ট্রেন ছেড়ে গিয়েছে।
এদিন মুখ্যমন্ত্রী যখন মহাকাল মন্দিরের শিলান্যাস করছেন, ঠিক তখনই নদীয়ায় পরিবর্তন সংকল্প সভায় উপস্থিত হন রাজ্যের বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারী। আর সেই সভার পরেই সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে মুখ্যমন্ত্রীর এই মন্দির শিলান্যাস নিয়ে কটাক্ষ করেন তিনি। শুভেন্দুবাবু বলেন, “উনি এখন হিন্দু ভোট পাওয়ার জন্য চারিদিকে নারকেল ফাটিয়ে বেড়াচ্ছেন। কিন্তু ট্রেন ছেড়ে গিয়েছে। যে মুখ্যমন্ত্রী হিন্দু ধর্মকে গন্ধাধর্ম বলেন, যে মুখ্যমন্ত্রী মহাকুম্ভকে মৃত্যুকুম্ভ বলেন, যে মুখ্যমন্ত্রী রাম মন্দির উদ্বোধনের দিন পার্ক সার্কাসে মিছিল করেন, তাকে হিন্দুরা বিশ্বাস করে না।”