প্রিয়বন্ধু মিডিয়া রিপোর্ট-NEET পরীক্ষার প্রশ্নফাঁস এবং দেশজুড়ে তরুণ ছাত্রসমাজের তীব্র ক্ষোভ ও বিক্ষোভের আবহে এক অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ বার্তা দিলেন রাষ্ট্রীয় স্বয়ংসেবক সঙ্ঘ (RSS)-এর সরসঙ্ঘচালক মোহন ভাগবত। দিল্লিতে আন্দোলনস্থল যন্তর মন্তরের মাত্র এক কিলোমিটার দূরে অবস্থিত আম্বেদকর ইন্টারন্যাশনাল সেন্টারে আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে বক্তব্য রাখার সময় তিনি স্পষ্ট ভাষায় জানান, বর্তমানের তরুণ প্রজন্ম অন্ধভাবে কোনো নির্দেশ মেনে নেওয়ার পাত্র নয়, তারা প্রশ্ন তুলতে ভালোবাসে এবং যুক্তিসঙ্গত ব্যাখ্যা চায়। তাই নতুন প্রজন্মের ওপর কোনো সিদ্ধান্ত চাপিয়ে না দিয়ে ভালোবাসা ও আলোচনার মাধ্যমে তাদের বোঝানোর ওপর জোর দিয়েছেন সঙ্ঘ প্রধান।

বিশ্ব মঙ্গল্য সভার উদ্যোগে ‘সমকালীন মাতৃত্ব’ বিষয়ক এক জাতীয় অনুষ্ঠানের সমাপনী অধিবেশনে যোগ দিয়ে মোহন ভাগবত বর্তমান সমাজের পারিবারিক ও সামাজিক পরিবর্তনের চিত্রটি তুলে ধরেন। সেখানে নতুন প্রজন্মের মনস্তত্ত্ব ব্যাখ্যা করতে গিয়ে তিনি বলেন, “আমরা যখন ছোট ছিলাম, তখন ছিল শুধু নির্দেশ বা আদেশ মেনে চলার যুগ। কিন্তু এখন আর সেই পরিস্থিতি বা মানসিকতা নেই। নতুন প্রজন্ম এখন প্রতিটি বিষয়ে প্রশ্ন করে। তাই তাদের কেবল আদেশ দেওয়া যাবে না, প্রতিটি বিষয়ের পেছনে থাকা আসল যুক্তি তাদের বুঝিয়ে বলতে হবে।”

সমাজকর্মী ও পরিবারের বড়দের উদ্দেশ্যে তিনি বার্তা দেন যে, তরুণদের সঙ্গে দূরত্ব কমাতে প্রচুর সময় দেওয়া, স্নেহ করা এবং নিয়মিত আলোচনা বা সংলাপ চালিয়ে যাওয়া প্রয়োজন। কারণ বর্তমান যুগে অনেক পরিবারেই পারস্পরিক কথাবার্তা কমে যাচ্ছে।

রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, মোহন ভাগবতের এই মন্তব্য এমন এক সময়ে এল যখন NEET পরীক্ষা নিয়ে দেশজুড়ে Cockroach Janta Party (CJP)-র শিক্ষার্থীরা কেন্দ্রীয় শিক্ষামন্ত্রীর পদত্যাগের দাবিতে যন্তর মন্তরে আন্দোলন চালিয়ে যাচ্ছেন। ঠিক সেই সময় সরকারের নীতি নির্ধারণী ব্যবস্থার খুব কাছে দাঁড়িয়ে সঙ্ঘ প্রধানের মুখে ‘নির্দেশ নয়, আলোচনা’র (Discussion, Not Dictation) কথা শোনা যাওয়া রাজনৈতিকভাবে অত্যন্ত অর্থবহ। বিরোধীদের একাংশের মতে, এই মন্তব্যের মাধ্যমে পরোক্ষভাবে আন্দোলনরত শিক্ষার্থীদের কথা শোনার এবং তাদের সঙ্গে খোলাখুলি আলোচনার প্রয়োজনীয়তার দিকেই ইঙ্গিত করেছেন তিনি।

মোহন ভাগবতের এই মন্তব্যের পর বিরোধী শিবিরের বর্ষীয়ান নেতা কপিল সিব্বল সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে পাল্টা প্রশ্ন তুলে লিখেছেন, গত এক মাস ধরে দিল্লির যন্তর মন্তরে দেশের শিক্ষার্থীরা যখন তাঁদের ভবিষ্যৎ নিয়ে প্রশ্ন তুলছিলেন, তখন সঙ্ঘ প্রধানের দীর্ঘ নীরবতা তাঁর এই উপদেশের চেয়েও বেশি জোরালো বার্তা দিচ্ছিল। কংগ্রেস ও অন্যান্য বিরোধী দলগুলির দাবি, আরএসএস প্রধান মুখে আলোচনার কথা বললেও বাস্তবে সরকার আন্দোলনকারীদের প্রধান দাবিগুলো নিয়ে কোনো স্পষ্ট আলোচনা করতে চাইছে না। তবে শাসক শিবিরের পক্ষ থেকে স্পষ্ট করা হয়েছে যে, সরকার ইতিমধ্যেই পরীক্ষা ব্যবস্থার আমূল সংস্কার এবং অপরাধীদের কঠোর শাস্তির জন্য নতুন আইন আনার প্রক্রিয়া শুরু করেছে।