প্রিয়বন্ধু মিডিয়া রিপোর্ট-রাজ্য হাতছাড়া হওয়ার পর এবার কি দিল্লির সংসদীয় দুর্গেও ফাটল ধরতে চলেছে জোড়াফুলের? সংসদের আসন্ন বাদল অধিবেশনকে কেন্দ্র করে রাজনৈতিক মহলে এখন পারদ চড়চড় করে বাড়ছে। ঠিক এই আবহেই কেন্দ্রীয় মন্ত্রী সুকান্ত মজুমদারের এক বিস্ফোরক দাবি ঘিরে তোলপাড় শুরু হয়েছে জাতীয় রাজনীতিতে। সুকান্ত বাবুর সাফ কথা— “সংসদে বাদল অধিবেশনে অনেক কিছু ঘটতে চলেছে।” আর কেন্দ্রীয় মন্ত্রীর এই একটি মন্তব্যই ক্ষমতা হারানো তৃণমূলের অন্দরে তীব্র কম্পন তৈরি করে দিয়েছে!
রাজ্যের ক্ষমতা হারানোর পর থেকেই তৃণমূলের অন্দরে যে তীব্র অসন্তোষ ধিকধিক করে জ্বলছিল, তা এবার দিল্লির সংসদীয় দলেও ছড়িয়ে পড়েছে বলে রাজনৈতিক মহলে জোর জল্পনা। সুকান্ত মজুমদারের এই রহস্যময় মন্তব্য আসলে কোন দিকে ইঙ্গিত করছে? ওয়াকিবহাল মহলের একাংশের মতে, লোকসভা এবং রাজ্যসভার বহু তৃণমূল সাংসদ নাকি দলের শীর্ষ নেতৃত্বের কার্যপদ্ধতির ওপর চরম ক্ষুব্ধ। আর সেই ক্ষোভের জেরেই আসন্ন বাদল অধিবেশনের মাঝেই সংসদীয় দলের ভেতরে একটি বড়সড় বিদ্রোহী গোষ্ঠী বা আলাদা ব্লক তৈরি হতে পারে— এই সম্ভাবনাকেই উসকে দিয়েছেন কেন্দ্রীয় মন্ত্রী।
এমনিতেই নিজের রাজনৈতিক অস্তিত্ব এবং দলকে বাঁচানোর তাগিদে তৃণমূল সুপ্রিমো বর্তমানে দিল্লিতে দরবার করছেন। ঠিক সেই মুহূর্তেই সুকান্ত মজুমদারের এই মন্তব্য তৃণমূল শিবিরের বিড়ম্বনা এবং দুশ্চিন্তা দুই-ই এক ধাক্কায় বহুগুণ বাড়িয়ে দিল। রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, একজন কেন্দ্রীয় মন্ত্রীর মুখে এই ধরণের মন্তব্য অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ। নবান্ন হাতছাড়া হওয়ার পর যারা ভেবেছিলেন দিল্লিতে অন্তত নিজেদের দাপট বজায় রাখবেন, সুকান্ত বাবুর এই পূর্বাভাস তাদের সেই শেষ আশাতেও প্রশ্নের মুখে দাঁড় করিয়ে দিল। যদিও তৃণমূল কংগ্রেসের পক্ষ থেকে সুকান্ত মজুমদারের এই সমস্ত দাবিকে সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন, কাল্পনিক এবং সস্তা প্রচারের কৌশল বলে উড়িয়ে দেওয়া হয়েছে। জোড়াফুল শিবিরের দাবি, তাদের সংসদীয় দল সম্পূর্ণ ঐক্যবদ্ধ রয়েছে। তবে দিল্লির অলিন্দে এখন একটাই গুঞ্জন— বাদল অধিবেশন শুরু হতেই জোড়াফুল শিবিরের বড় কোনো রদবদল হতে চলেছে কি না, তা দেখার জন্য এখন গোটা দেশের নজর সংসদের দিকে।