প্রিয়বন্ধু মিডিয়া রিপোর্ট-
সম্প্রতি কয়লা কান্ডের তদন্তে কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থা ইডি পৌঁছে যায় প্রতীক জৈন এবং আইপ্যাকের অফিসে। সেখানে তারা তল্লাশি চালানোর প্রক্রিয়া শুরু করতেই তড়িঘড়ি সেই প্রতীক জেনের বাড়িতে পৌঁছে যান রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। যেখানে তার দলের অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ তথ্য ছিল এবং সেগুলো হাতানোর চেষ্টা করা হচ্ছে বলে অভিযোগ করেন তিনি। পরবর্তীতে সেই তল্লাশি প্রক্রিয়ার মাঝেই হাতে করে সবুজ ফাইল নিয়ে বাইরে বেরিয়ে আসেন এই রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। তিনি আবার দাবি করেন যে, তিনি মুখ্যমন্ত্রী হিসেবে নন। তিনি তার দলের চেয়ারপার্সন। আর সেই কারণেই তিনি তার দলের তথ্য হাতিয়ে নেওয়ার চেষ্টা হচ্ছে জন্য সেখানে গিয়েছেন এবং তিনি কোনো অন্যায় করেননি। আর এখানেই প্রশ্ন তুলতে শুরু করেছে বিরোধীরা যে, মুখ্যমন্ত্রী যদি দলীয় নেত্রী হিসেবেই সেখানে যান, তাহলে তার সঙ্গে কেন প্রশাসনিক আধিকারিকরা ছিলেন? আর সেই বিষয়টি তুলে ধরেই এবার মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের পদত্যাগ দাবি করলেন কেন্দ্রীয় মন্ত্রী সুকান্ত মজুমদার।

সম্প্রতি কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থা আইপ্যাকের অফিস এবং প্রতীক জৈনের বাড়িতে যে তল্লাশি চালিয়েছিল এবং তার পরিপ্রেক্ষিতে যে ঘটনা মুখ্যমন্ত্রী ঘটিয়েছেন, তা দেখে তাজ্জব হয়ে গিয়েছে গোটা দেশ। একজন মুখ্যমন্ত্রী প্রশাসনিক পদে থেকে কি করে এই তল্লাশি প্রক্রিয়ায় পৌঁছে দিতে পারেন এবং কি করে সেখান থেকে কাগজপত্র নিয়ে চলে আসতে পারেন, তা নিয়ে সকলেই প্রশ্ন তুলছেন। ইতিমধ্যেই গোটা বিষয়টি আদালতে বিচারাধীন। বিরোধীরা মুখ্যমন্ত্রীর কঠোর শাস্তির দাবি তুলতে শুরু করেছেন। আর এসবের মধ্যেই মুখ্যমন্ত্রী দলীয় নেত্রী হিসেবে সেখানে গিয়েছেন বলে যতই দাবি করার চেষ্টা করুন না কেন, গোটা বিষয়ে এবার মুখ্যসচিব কেন মুখ্যমন্ত্রীর সঙ্গে সেখানে ছিলেন এবং পুলিশের একাধিক কর্তারা কেন ছিলেন, তা নিয়ে প্রশ্ন তুলে দিলেন রাজ্য বিজেপির প্রাক্তন সভাপতি।

গতকাল ময়নাগুড়িতে বিজেপির পরিবর্তন সংকল্প সভায় বক্তব্য রাখেন রাজ্য বিজেপির প্রাক্তন সভাপতি তথা কেন্দ্রীয় মন্ত্রী সুকান্ত মজুমদার। আর সেখানেই মুখ্যমন্ত্রীর পদত্যাগের দাবি তোলেন তিনি। যেভাবে এই রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী তল্লাশি চলাকালীন সেখানে পৌঁছে গিয়েছিলেন এবং সেখান থেকে নথি বের করে এনেছেন, তা নিয়ে সোচ্চার হন বালুরঘাটের বিজেপি সাংসদ। পাশাপাশি মুখ্যমন্ত্রী দলীয় নেত্রী হিসেবে সেখানে গিয়েছেন বললেও, তার সঙ্গে কেন মুখ্য সচিব এবং পুলিশের অন্যান্য কর্তারা ছিলেন, সেই বিষয়টিও তুলে ধরেন রাজ্য বিজেপির প্রাক্তন সভাপতি। তার বক্তব্য, মুখ্যমন্ত্রী দলীয় নেত্রী হিসেবে নন। প্রশাসনিক পদকে ব্যবহার করে সেখানে গিয়েছিলেন। আর তাই অবিলম্বে তাকে পদত্যাগ করতে হবে। স্বাভাবিকভাবেই নিজের জালে যে নিজেই জড়িয়ে যাচ্ছেন এই রাজ্যের প্রশাসনিক প্রধান, তা সুকান্ত মজুমদারের বক্তব্যের মধ্যে দিয়ে স্পষ্ট হয়ে গেল বলেই মনে করছেন রাজনৈতিক বিশেষজ্ঞরা।